দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ জন্মহারের ঐতিহাসিক পতন ও ক্রমাগত সংকুচিত হতে থাকা কর্মক্ষম জনশক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চীন বর্তমানে রোবট এবং অটোমেশনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

দীর্ঘদিনের সস্তা শ্রমনির্ভর অর্থনীতির তকমা ঝেড়ে ফেলে বেইজিং বর্তমানে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জন ও একটি ‘হাই-টেক পাওয়ারহাউস’ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
শি জিনপিং প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন নীতি যেমন নগদ অর্থ সহায়তা, কর ছাড় বা বিয়ে সহজ করার উদ্যোগগুলো জন্মহার বাড়াতে ব্যর্থ হওয়ার পর দেশটির উৎপাদন খাতকে রোবটনির্ভর করার প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক বিশ্লেষণে চীনের এই প্রযুক্তিগত রূপান্তরের চিত্রটি ফুটে উঠেছে।
চীনের এই জনসংখ্যাতাত্ত্বিক সংকট দেশটির পেনশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামগ্রিক উৎপাদনশীলতার ওপর বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, চীন যদি তার পুরনো অর্থনৈতিক মডেলে পড়ে থাকে, তবে এটি ভবিষ্যতে একটি বিশাল জাতীয় সংকটে রূপও নিতে পারে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের সঠিক ব্যবহার এই সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
হংকং ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির বিশেষজ্ঞদের মতে, রোবোটিক্স এবং ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে যদি উৎপাদনশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়, তবে তুলনামূলক কম কর্মী নিয়ে আরও বেশি শিল্প উৎপাদন করাও সম্ভব হবে।
বর্তমানে চীন বিশ্বের বৃহত্তম শিল্প রোবট বাজার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে যতো রোবট ইনস্টল করা হয়েছে, তার অর্ধেকেরও বেশি হয়েছে চীনে। দেশটির অনেক কারখানায় বর্তমানে মানুষের পরিবর্তে রোবটিক হাত দিয়ে ওয়েল্ডিং, পেইন্টিং ও অ্যাসেম্বলিংয়ের কাজ করা হচ্ছে।
এমনকি সেখানে ‘ডার্ক ফ্যাক্টরি’ কিংবা অন্ধকার কারখানার ধারণা ক্রমেই জনপ্রিয়ও হচ্ছে, যেখানে মানুষের সশরীরে উপস্থিতির প্রয়োজন নেই বলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আলো পর্যন্তও জ্বালানো হয় না। এই উচ্চমানের অটোমেশনের কারণে চীন বর্তমানে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও সোলার প্যানেল বিশ্ববাজারে সরবরাহ করে নিজেদের আধিপত্যও বজায় রাখছে।
শিল্প রোবটের সাফল্যের পর চীন বর্তমানে হিউম্যানয়েড কিংবা মানবসদৃশ রোবট তৈরির দিকে বিশেষ নজরও দিচ্ছে। বর্তমানে দেশটির প্রায় ১৪০টিরও বেশি কোম্পানি সরকারি ভর্তুকি নিয়ে এই ধরনের উন্নত রোবট উন্নয়নে কাজ করছে। তবে ১৪০ কোটি মানুষের এই দেশটিতে হঠাৎ এই দ্রুত প্রযুক্তিগত রূপান্তর স্বল্প মেয়াদে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের ওপর বেশ চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা সামলানো বেইজিংয়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিতে পারে।
শেষ পর্যন্ত শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয় নির্ধারণ করবে যে, চীন এই জনসংখ্যাগত সংকট কাটিয়ে পুনরায় স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারবে কি-না। সূত্র: সিএনএন।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org