দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আজকের ব্যস্ত জীবনযাত্রা ও অসংগঠিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে ওজন বৃদ্ধি একটি সাধারণ সমস্যা। অতিরিক্ত ওজন শুধু শারীরিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে না, বরং হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

ওজন কমানোর জন্য সুষম খাদ্য এবং নিয়মিত ব্যায়াম অপরিহার্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক ব্যায়াম ও ধৈর্য্যই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং স্থায়ীভাবে কমাতে সাহায্য করে।
কার্ডিও ব্যায়াম
কার্ডিও বা অ্যানেরোবিক ব্যায়াম ওজন কমানোর জন্য সবচেয়ে কার্যকর। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে দৌড়, জগিং, সাঁতার, সাইক্লিং, এবং এ্যারোবিক ক্লাস। কার্ডিও ব্যায়াম ক্যালরি দ্রুত পোড়াতে সাহায্য করে এবং হার্টের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন ৩০-৪৫ মিনিট কার্ডিও করা ওজন কমাতে সহায়ক।
হাই ইন্টেন্সিটি ইন্টারভাল ট্রেনিং (HIIT)
HIIT হলো দ্রুত ও ধীর ব্যায়ামের সংমিশ্রণ। এতে শরীরের মেটাবলিজম বেড়ে যায় এবং ক্যালরি দ্রুত পোড়ানো যায়। সপ্তাহে ৩-৪ দিন, ২০-৩০ মিনিট HIIT করলে শরীরের ফ্যাট কমাতে কার্যকর।
ওজন প্রশিক্ষণ (Weight Training)
ওজন প্রশিক্ষণ বা স্ট্রেন্থ ট্রেনিং মাংসপেশি গঠন করে। পেশি বেশি হলে শরীর বিশ্রাম অবস্থাতেও ক্যালরি বেশি পোড়ায়। ডাম্বেল, বারবেল, স্কোয়াট এবং লেগ প্রেসের মতো ব্যায়াম মাংসপেশি বৃদ্ধি ও ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে।
পাইলেটস ও যোগাসন
পাইলেটস ও যোগাসন শরীরের পেশি টোনিং এবং স্থিতিশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষ করে নাবারাসন, সেতুবন্ধাসন এবং হ্যালাসন পেটের ও কোমরের চর্বি কমাতে সহায়ক।
দৈনন্দিন সক্রিয়তা বৃদ্ধি
লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি ব্যবহার করা, দূরত্বে হাঁটা, সাইক্লিং বা ছোট ছোট ফিটনেস ব্রেক- এসবও ক্যালরি পোড়াতে সহায়ক। দৈনন্দিন সক্রিয়তা বাড়ানো ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
ওজন কমানোর ব্যায়াম কার্যকর হতে হলে খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সমন্বয় জরুরি। চিনি ও ফাস্টফুড কমানো, প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি নেওয়া ও পর্যাপ্ত পানি পান করা ওজন কমাতে সাহায্য করে।
কার্ডিও, HIIT, ওজন প্রশিক্ষণ, পাইলেটস ও যোগাসন এবং দৈনন্দিন সক্রিয়তা- এসব ব্যায়াম মিলিয়ে ওজন কমানো সম্ভব। নিয়মিত অনুশীলন ও সুষম খাদ্য অনুসরণ করলে শরীর হবে ফিট, ফ্যাট কমবে এবং স্বাস্থ্য থাকবে সুস্থ ও শক্তিশালী।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org