The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

রোবোট্যাক্সির বিস্তার: চালকবিহীন পরিবহনের নতুন অধ্যায়

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্বয়ংচালিত যানবাহন নিয়ে গবেষণা বহু বছর ধরে চললেও সাম্প্রতিক সময় রোবোট্যাক্সি প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

রোবোট্যাক্সির বিস্তার: চালকবিহীন পরিবহনের নতুন অধ্যায় 1

বিশ্বের বিভিন্ন শহরে পরীক্ষামূলকভাবে চালকবিহীন ট্যাক্সি সেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেন্সর, ক্যামেরা, রাডার এবং লিডার প্রযুক্তির সমন্বয়ে গাড়ি নিজেই রাস্তার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে চলাচল করতে পারে।

রোবোট্যাক্সির মূল লক্ষ্য হলো সড়ক দুর্ঘটনা কমানো এবং পরিবহন ব্যবস্থা আরও দক্ষ করা। মানুষের ভুলের কারণে যে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে, সেগুলো কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে গবেষকদের ধারণা। একই সঙ্গে এসব যানবাহন নির্দিষ্ট রুটে যাত্রী পরিবহনে জ্বালানি এবং সময় সাশ্রয়েও ভূমিকা রাখতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নতুন শহরে রোবোট্যাক্সি সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। কোথাও এটি সীমিত এলাকায় পরিচালিত হচ্ছে, আবার কোথাও নির্দিষ্ট শর্তে সাধারণ যাত্রীরাও এই সেবা ব্যবহার করতে পারছেন। প্রতিটি গাড়িতে অত্যাধুনিক সেন্সর ব্যবস্থার মাধ্যমে চারপাশের যানবাহন, পথচারী ও ট্রাফিক সিগন্যাল পর্যবেক্ষণ করা হয়।

তবে প্রযুক্তিটি এখনও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। খারাপ আবহাওয়া, জটিল সড়ক পরিস্থিতি এবং অপ্রত্যাশিত মানব আচরণ অনেক সময় এআইয়ের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। এ কারণে বিভিন্ন দেশে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিরাপত্তা পরীক্ষা ও কঠোর নীতিমালার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

বাংলাদেশে রোবোট্যাক্সি চালুর সম্ভাবনা এখনও দূরের বিষয় হলেও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যতে স্মার্ট সিটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে এ ধরনের প্রযুক্তি বিবেচনায় আসতে পারে। তবে তার আগে উন্নত ডিজিটাল মানচিত্র, সড়ক অবকাঠামো এবং নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোবোট্যাক্সি শুধু একটি নতুন যানবাহন নয়; এটি ভবিষ্যতের নগর পরিবহনের ধারণাকেই বদলে দিতে পারে। তবে প্রযুক্তির পাশাপাশি জননিরাপত্তা এবং আইনি কাঠামোর উন্নয়ন সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali