দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রায় ক্লান্তি দূর করতে বা দ্রুত শক্তি পাওয়ার আশায় অনেকেই এনার্জি ড্রিঙ্ক পান করে থাকেন।

বিশেষ করে তরুণ-তরুণী, শিক্ষার্থী, দীর্ঘ সময় কাজ করা কর্মজীবী মানুষ ও খেলোয়াড়দের মধ্যে এই ধরনের পানীয়ের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, এনার্জি ড্রিঙ্ক কি সত্যিই শরীরের জন্য উপকারী, নাকি এটি দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে?
এনার্জি ড্রিঙ্কে সাধারণত উচ্চমাত্রার ক্যাফেইন, চিনি, টাউরিন, গুয়ারানা, জিনসেংসহ বিভিন্ন উদ্দীপক উপাদান থাকে। এইসব উপাদান সাময়িকভাবে শরীরকে চাঙা অনুভব করাতে পারে এবং কিছু সময়ের জন্য ক্লান্তি কমিয়ে মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তবে এই প্রভাব অল্প সময়ের জন্যই থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত এনার্জি ড্রিঙ্ক পান করলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, উদ্বেগ, অনিদ্রা, মাথাব্যথা ও অস্থিরতার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। যাদের আগে থেকেই হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের জন্য এটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
অনেক এনার্জি ড্রিঙ্কে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে। নিয়মিত এইসব পানীয় গ্রহণ করলে ওজন বৃদ্ধি, স্থূলতা ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। আবার সুগার-ফ্রি সংস্করণেও অতিরিক্ত ক্যাফেইনের কারণে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, এনার্জি ড্রিঙ্ককে কখনই পর্যাপ্ত ঘুম কিংবা স্বাস্থ্যকর খাদ্যের বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। ক্লান্তি দূর করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি পান ও নিয়মিত ব্যায়াম।
১৮ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোর, গর্ভবতী নারী ও ক্যাফেইন-সংবেদনশীল ব্যক্তিদের এনার্জি ড্রিঙ্ক এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে এনার্জি ড্রিঙ্কের সঙ্গে অ্যালকোহল মিশিয়ে পান করাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
অতএব, মাঝে-মধ্যে সীমিত পরিমাণে এনার্জি ড্রিঙ্ক পান করলেও সেটিকে অভ্যাসে পরিণত করা মোটেও ঠিক নয়। দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে চাইলে প্রাকৃতিক উপায়ে শক্তি অর্জনের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org