The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক সাতটি ভাইরাস!

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ ভাইরাস হলো একটি ডিএনএ সমৃদ্ধ প্রোটিনের আবরণ। মজার বিষয়টি হলো ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ানো রোগের ক্ষেত্রে ভাইরাস কোন বাহক নয়। এটি মানবদেহ কিংবা প্রানীর দেহে প্রবেশ করে তার প্রতিলিপি তৈরি করে। এই প্রতিলিপি তৈরির সময় মানবদেহ কিংবা প্রাণীর নিজস্ব কোষের গঠন ভেঙ্গে ফেলে।


blood-blood-blood-VIRUS

আজ আমরা পাঠকদের জন্য তুলে ধরবো পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক ভাইরাসগুলোর কথা। তাহলে চলুন জেনে নিই সেই ভাইরাসগুলো সম্পর্কে।

১. মারবুর্গ ভাইরাস

পৃথিবীর সবচেয়ে বিপদজ্জনক ভাইরাসের নাম বলতে গেলে প্রথমেই আসে মারবুর্গ ভাইরাসের নাম। জার্মানির লান নদীর নিকটবর্তী শহরের নামে নামকরণ করা হয়েছে এই ভাইরাসের। হেমোরেজিক জ্বর করার ক্ষেত্রে এই ভাইরাসটি বেশ মারাত্মক। এই ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত জ্বরের ক্ষেত্রে প্রায় ৯০ শতাংশ মৃত্যুর আশংকা থাকে।

২. এবোলা ভাইরাস

এবোলা ভাইরাসের নামটি এসেছে আফ্রিকার বুন্ডিবিগিয়ো দেশের একটি স্থান থেকে। আসলে এখানেই প্রথম এই ভাইরাসটি সনাক্ত করা হয় বলে এটিকে এই জায়গার নাম অনুসারে নামকরণ করা হয়। বর্তমানে গিনি, সিয়েরালিওন এবং লাইবেরিয়াসহ আফ্রিকার অনেক দেশেই এই ভাইরাসটি মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই নিয়ে সতর্ক বার্তা জারি করা হয়েছে।

৩. বার্ড ফ্লু

চীনের হাঁস-মুরগীর খামারে এই ভাইরাসটি প্রথম দেখ দেয়। বলা হয়ে থাকে উত্তরমেরুতে থাকা পরিযায়ী পাখিদের মাধ্যমে এই ভাইরাসটি চীনের দেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে চীনের হাঁস মুরগীর সংস্পর্শে থাকা মানুষ এটি দ্বারা আক্রান্ত হয়। এশিয়াতে এই ভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা বেশি কেননা এই অঞ্চলের মানুষগুলো হাঁস মুরগীর সংস্পর্শে বেশি থাকে।

৪. লাসা ভাইরাস

নাইজেরিয়ার এক সেবিকা প্রথম এই ভাইরাসে আক্রান্ত হন। ইদুর জাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। বিজ্ঞানীদের ধারণা পশ্চিম আফ্রিকার প্রায় ১৫ শতাংশ ইদুরেই এই ভাইরাসটি রয়েছে। এটি একবার সংক্রমিত হতে শুরু করলে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে।

virus contra el cancer

৫. মাচুপো ভাইরাস

বলিভিয়ার হেমোরেজিক জ্বরের ক্ষেত্রে দায়ী হলো মাচুপো ভাইরাস। এটি বলিভিয়ায় ‘ব্লাক টাইপুস’ হিসেবেও বেশি পরিচিত। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মাত্রাতিরিক্ত জ্বর হয় এবং সঙ্গে শুরু হয় মারাত্মক রক্তপাত। সংক্রামক এই ভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষের দেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটাতে পারে, ফলে এটি মহামারীতে রূপ নিতে পারে।

৬. কিয়াসানু ফরেস্ট ভাইরাস বা কেএফডি

১৯৫৫ সালে ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলবর্তী বনভূমিতে প্রথম কিয়াসানু ফরেস্ট ভাইরাস বা কেএফডি ভাইরাস আবিষ্কৃত হয়। ধারণা করা হয় ইঁদুর, পাখি এবং বন্য শুকর কেএফডি ভাইরাস বহন করে থাকতে পারে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ইদুররা বাঁশের ফুল খেতে শুরু করে। এটি ভারতের একটি অঞ্চলের মানুষের প্রিয় খাবার। ফলে তাদের ঘরে হামলা করে ঝাঁকে ঝাঁকে ইঁদুর।

৭. ডেঙ্গু

ডেঙ্গু সারাবিশ্বে পরিচিত একটি মারাত্মক ভাইরাস। মশা বাহিত এই ভাইরাসে প্রতি বছর পর্যটনের জন্য বিখ্যাত থাইল্যান্ড এবং ভারতের মতো দেশে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ মিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত হন। তবে পর্যটকদের চেয়ে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য এই ভাইরাস বড় হুমকি। আমাদের দেশেও গ্রীষ্মকালীন সময়ে এই ভাইরাসে আক্রান্তের প্রকটতা দেখা যায়।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...