তথ্য প্রযুক্তির সংক্ষিপ্ত সংবাদ (২৬-০১-১৩)

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে তথ্য প্রযুক্তির হাওয়া। তাইতো বর্তমান বিশ্বে তথ্য প্রযুক্তি ছাড়া ভাবাই যায় না। আজ তথ্য প্রযুক্তির সংক্ষিপ্ত সংবাদ (২৬-০১-১৩) এ বিশ্বের বেশ কিছু তথ্য প্রযুক্তির খবর তুলে ধরা হলো।
Smart Phone(0)
ত্বক পরীক্ষা করবে স্মার্টফোন!

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইউজাররা এখন নিজের ত্বকের অবস্থা নিরীক্ষণসহ ত্বকের দোষ বা খুঁত এবং রঙ পরীক্ষা করতে পারবেন। সম্প্রতি জাপানের সৌন্দর্য-সচেতনমূলক এক অনুষ্ঠানে এটি উন্মোচিত হয়। ত্বকের এ পরীক্ষায় ব্যবহূত হবে হাডা মেমোরি (ত্বক মেমোরি) প্রোগ্রাম। নারীরা শরীরের রঙের ওপর ট্যাব রাখলে প্রোগ্রামটি তার শক্তিশালী রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে ট্র্যাক পরিবর্তন করবে। ইউজাররা তাদের ডাটা সোস্যাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে শেয়ারও করতে পারবেন। জাপানের শীর্ষ প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা ফুজিৎসু জানিয়েছে, সৌন্দর্য পণ্যের বিজ্ঞাপনের লক্ষ্যেই এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং এ ধরনের সেবা দিতে তারা প্রোগ্রাম তৈরি করেছে।

ত্বক পরীক্ষার জন্য ১৫ মিলিমিটার ছিদ্রবিশিষ্ট একটি ছোট কার্ড ত্বক পরীক্ষায় সিস্টেম আকারে কাজ করবে। ব্যবহারকারীরা তাদের গালে কার্ডটি স্পর্শ করলে বা চাপ দিলেই ত্বক পরীক্ষা হয়ে যাবে। স্মার্ট ডিভাইসের ক্যামেরা ত্বকের ছবি তুলবে এবং ফলাফল পর্যবেক্ষণ করবে। প্রথমে ছবি আকারে তা হাডা মেমোরিতে চলে যাবে এবং তারপর স্বয়ংক্রিয়ভাবেই স্মার্টফোন ত্বকের রিপোর্ট প্রদান করবে।

দ্রুত অনলাইন নীতিমালা করতে যাচ্ছে সরকার

অনলাইন গণমাধ্যমকে এগিয়ে নিতে খুব শিগগিরই সরকার অনলাই নীতিমালা করতে যাচ্ছে। আর এই নীতিমালা সংবাদ মাধ্যমগুলোর জন্য হবে উপযোগী। এমন কথায় বলেন, পিআইবির মহাপরিচালক অধ্যাপক দুলাল চন্দ বিশ্বাস। বাংলাদেশ অনলাইন মিডিয়া এসোসিয়েশন (বোমা) ও প্রেস ইনষ্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) যৌথভাবে আয়োজিত অনলাইন নীতিমালা বিষয়ক কর্মশালা ও মতবিনিময় সভা পিআইবি-এর কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত সোমবার বাংলাদেশ অনলাইন মিডিয়া এসোসিয়েশনের নির্বাহী সভাপতি সৌমিত্র দেব-এর সভাপতিত্বে এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন পিআইবির মহাপরিচালক অধ্যাপক দুলাল চন্দ বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউট (পিআইবি) মহাপরিচালক দুলাল চন্দ বিশ্বাস বোমাকে অনলাইন নীতিমালার খসড়া জমা দেয়ার অনুরোধ জানান। এরপর তিনি জানান, সরকার দ্রুত অনলাইন নীতিমালা করতে যাচ্ছে। অনলাইন গণমাধ্যমই হতে যাচ্ছে আগামী দিনের মূল ধারার গণমাধ্যম। প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার চাইতে অনলাইন গণমাধ্যম অনেক বেশি শক্তিশালী হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বন্ধুনির্ভর সার্চের সুবিধা

সম্প্রতি ফেসবুক ‘গ্রাফ সার্চ’ নামের নতুন একটি সার্চ অপশন যোগ করে। যেটি খুব সহজে কাঙ্খিত তথ্য পেতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। গতানুগতিক সার্চে যেমন গুগলে দেখা যায়, সাধারণ কোনও একটা কিছু খোঁজা হলে সে বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেক লিংক প্রদর্শিত হয়। আবার গুগল অনেক সময় উইকিপিডিয়া থেকে তথ্য হাজির করে অনুসন্ধানকারীর সাছে।

কিন্তু এর পরিধি একপ্রকার সীমিত। আর ফেসবুকের নতুন এই সার্চ অপশনে খোঁজের আওতায় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখিত তথ্যই হাজির করবে। যেমন, আপনি আপনার কোন ঢাকার বন্ধুর সব ছবি একসঙ্গে দেখতে চাইলেন, তখন ফেসবুকের সার্চ বক্সে ‘ফটোস অব মাই ফ্রেন্ডস ইন ঢাকা’ লাইনটি লিখলেই সব ছবি হাজির হয়ে যাবে। এ পদ্ধতিতে ঢাকা শহরের কোন কোন রেঁস্তোরায় আপনার বন্ধুরা যান, সেটাও আপনি জানতে পারবেন। জানতে পারবেন ঘোরাঘুরির জন্য আপনার বন্ধুদের প্রিয় জায়গাগুলো কোথায় কিংবা আপনি আজ অবধি কোন কোন ছবিতে লাইক দিয়েছেন ইত্যাদি। অর্থাৎ আপনার ফেসবুক হিস্টিরির আদ্যেঅপান্ত এখানে সার্চ করে পেয়ে যাবেন আপনি। তবে নতুন এই ‘গ্রাফ সার্চ’ ফেসবুকের সব ব্যবহারকারীর কাছে এখনও পৌঁছায়নি বলে জানা যায়। বিষয়টি নিয়ে এখনও চলছে পর্যবেক্ষণ। তাই অল্প কিছু মানুষের কাছে পৌঁছেছে এই সেবা।

এলজির পেছনে পড়ল অ্যাপল

যুক্তরাষ্ট্রে এবার অ্যাপলকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল এলজি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হ্যান্ডসেট বাজারে দক্ষিণ কোরীয় কোম্পানি এলজি ২০১২ সালে অ্যাপলকে হটিয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করে নিয়েছে। অপটিমাস জিসহ অন্যান্য স্মার্টফোনের বিক্রি বাড়ায় দেশটির বাজারে এলজির দখল এখন ১৩ শতাংশ।

শীর্ষস্থানে থাকা স্যামসাংয়ের দখল ৩৩ শতাংশ, যেখানে অ্যাপলের দখল ১২ শতাংশ। এলজির এক মুখপাত্র বলেন, অপটিমাস জি এবং আমাদের অন্যান্য স্মার্টফোন উত্তর আমেরিকার বাজারে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। উন্টারপয়েন্ট জানায়, ২০১১ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে আইফোন ৪এসের উদ্বোধনের কারণে মার্কিন বাজারে দ্বিতীয় স্থানটি অ্যাপলের কাছে হারিয়েছিল এলজি। কিন্তু গত ডিসেম্বরে ঠিক কোন হ্যান্ডসেটটি দিয়ে এলজি এ স্থান পুনরুদ্ধার করেছে তা স্পষ্ট নয়। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এলজির প্রধান স্মার্টফোন মডেল অপটিমাস জি বিক্রি হয় ১০ লাখ ইউনিট। অবশ্য গুগলের জন্য এলজির তৈরি করে দেয়া স্মার্টফোন নেক্সাস-৪ এ সময় ভালো জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে এ তথ্য সঠিক হলে এলজির বাজার দখল বৃদ্ধির বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হবে। কারণ নেক্সাস-৪ পুরোপুরিই গুগলের নামে বিক্রি হয়। আবার যুক্তরাষ্ট্রের হ্যান্ডসেট বাজারে শুধু স্মার্টফোনই নয় বিপুলসংখ্যক ফিচার ফোনও বিক্রি হয়। অবশ্য ফিচার ফোনের বাজারে অ্যাপলের কোন অংশগ্রহণই নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের প্রায় অর্ধেক এখন পর্যন্ত ফিচার ফোনের দখলে। এ কারণে এলজির স্মার্টফোন যে অ্যাপলের আইফোন বিক্রিকে ছাড়িয়ে গেছে, তা বলার কোন উপায় নেই। আবার শুধু ডিসেম্বরের হিসাব দিয়ে প্রান্তিকের সার্বিক ফলাফল বিচার করাটাও ঝুঁকিপূর্ণ। তবে বড়দিনের ছুটিই অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের সবচেয়ে বড় কেনাকাটার মৌসুম বলে পরিচিত।

আগামী ৩০ জানুয়ারি চতুর্থ প্রান্তিকের আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ প্রকাশ করবে এলজি। ২০১২ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় ’১১ সালের একই সময়ের তুলনায় ৪ শতাংশ কমে যায়। অবশ্য পরপর তিন প্রান্তিক ধরেই কোম্পানিটি লাভের ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। চতুর্থ প্রান্তিকে কোম্পানিটির নিট মুনাফা ছিল ১৫ হাজার ৭০০ কোটি ওন (১৩ কোটি ৮৫ লাখ ডলার), বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ জানায়, বড়দিনের ছুটিতে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রথমবারের মতো বিক্রির দিক দিয়ে অ্যাপলকে পেছনে ফেলতে সক্ষম হয় এলজি। মার্কিন স্মার্টফোনের বাজারে যথাক্রমে ৯ ও ৮ শতাংশ দখল নিয়ে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান দখল করেছে মটোরোলা ও এইচটিসি।

চীনে দ্রুত বাড়ছে স্মার্টফোন বাজার

২ বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের স্মার্টফোন বাজারের একটি ক্ষুদ্র অংশের সমান ছিল চীনের এই স্মার্ট বাজার। এখন চীনের স্মার্টফোন বাজারের আকার যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের দ্বিগুণ হতে চলেছে। দেশটিতে আগের বছর স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৫ কোটিরও কম। ৫০০ ডলার দিয়ে স্মার্টফোন ও থ্রিজি প্যাকেজ প্রতি মাসে ৩০ ডলারে কিনতে রাজি এমন ব্যক্তির হাতে সেগুলো দেখা যেত। আর এখন দেশটির ছেলে-বুড়ো সবাই বলতে গেলে স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। চলতি বছর চীনের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা হবে ২৫ কোটি। আগামী বছর তা ৫০ কোটিতে দাঁড়াবে। চীনের স্মার্টফোন বাজারে অ্যাপল ও মাইক্রোসফট উপকৃত হবে। গুগল ও চীনের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকায় দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিষ্ঠানটি ততটা সফল হবে না বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মের জন্য যারা অ্যাপ তৈরি করেন, তারা উপকৃত হতে পারেন বলে ধারণা অনেকের। চীনের স্মার্টফোন বাজারের আকার আরও বড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কিংবা এখনই আরও বেড়ে যেতে পারত। অন্যান্য দেশের চেয়ে চীনে থ্রিজি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হতে সময় বেশি নিয়েছে, তাই এর আগে অত গুরুত্ব পায়নি এ বাজার। এছাড়া আইফোন কিংবা অ্যান্ড্রয়েডের জন্য চীনের ক্রেতাদের এক কিংবা দু’মাসের বেতন পরিশোধ করতে হয়। এ কারণে দেশটির স্মার্টফোন বাজার যতটা বড় হওয়ার কথা ছিল ততটা হয়নি। তবে পরিস্থিতি এখন বদলেছে। চীনে ৫৮ শতাংশের বেশি মানুষ ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড ব্যবহার করছে। আগের চেয়ে ১০০ ডলার কমে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন এখন সে দেশে পাওয়া যায়। আর ২০০ ডলার দিয়ে পাওয়া যায় ভালো মানের অ্যান্ড্রয়েড ফোন। আর তাই স্মার্ট ইউজার এখন ঘরে ঘরে।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...