সম্প্রীতির নিদর্শন: হিন্দু-মুসলিম একে অপরকে কিডনি দান!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নিদর্শন দেখালেন দুই হিন্দু ও মুসলিম। তারা একে অপরকে কিডনি দান করার মাধ্যমে সমাজের কতিপয় মানুষকে দেখিয়ে দিলেন।

dhaka-times

মুসলিম আনোয়ার আহমেদ বয়স হবে ৪০। খুবই কৃতজ্ঞ হিন্দুধর্মীয় বিনোদ মেহরার কাছে। এর কারণ হলো, এই মেহরার কারণে ঈদ উল আজহার পূর্ব হতেই তার বাড়ি জুড়ে ঈদের খুশি যেনো উপচে পড়ছে। বিনোদ মেহরাও কম কৃতজ্ঞ নন আনোয়ার আহমেদের কাছে। এর কারণ হলো, এই আহমেদের কল্যাণে তার বাসায়ও দিওয়ালির রোশনাইয়ের যেনো বান ডেকেছে।

বিনোদ এবং আনোয়ারের ধর্মীয় বিশ্বাস অবশ্য ভিন্ন, তবে মনুষ্যত্ব ও মহত্ত্বে তাদের মনোভাব এক ও অভিন্ন। যার বড় প্রমাণ হলো, এই ভিন্ন দুই ধর্মাবলম্বী সম্প্রতি নিজেদের কিডনি একে অপরের অর্ধাঙ্গিনীকে দান করে উৎসবের আনন্দ বয়ে এনেছেন দুই পরিবারের মধ্যে।

ভারতের জয়পুরের বিনোদ মেহরা ও আনোয়ার আহমেদ ‘জাতের নামে বজ্জাতি’র এই সময়ে ঐক্যের নতুন এক বীজ রোপণ করেছেন। আনোয়ারের দেওয়া কিডনিতে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন বিনোদ মেহরার স্ত্রী। আবার একইভাবে বিনোদের দান করা কিডনিতে প্রাণ ফিরে পেয়েছেন আনোয়ারের স্ত্রীও! সেপ্টেম্বর মাসের ২ তারিখে ভারতের জয়পুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে এই বিরল অস্ত্রোপচার করেন আশুতোষ সোনি নামে এক চিকিৎসক।

সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা যায়, বহুদিন যাবত কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন বিনোদের স্ত্রী অনিতা। তার রক্তের গ্রুপ বি প্লাস। অথচ এ প্লাস রক্তের গ্রুপের বিনোদের পক্ষে স্ত্রীকে কিডনি দেওয়া সম্ভব হয়নি। একই সমস্যায় পড়েছিলেন আনোয়ার আহমেদ। অতিরিক্ত পেইন কিলার খাওয়ার কারণে কিডনি অকেজো হয়ে গিয়েছিল আনোয়ারে স্ত্রী তসলিমা জাহানেরও। ঘটনাচক্রে তসলিমার রক্তের গ্রুপ এ প্লাস এবং বি প্লাস রক্তের গ্রুপ আনোয়ারের।

সাধারণত নিকট আত্মীয়দের নিকট হতে রোগীর জন্য কিডনি নিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। তবে আনোয়ার-অনিতা এবং বিনোদ-তসলিমের রক্তের গ্রুপ মিলে যাওয়ায় এই ‘সুযোগ’ নেন আশুতোষ সোনি। অস্ত্রোপচার সফলভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। আনোয়ার এবং বিনোদ আগেই ছাড়া পেয়েছেন হাসপাতাল হতে। পরে বাড়ি ফেরেন তসলিমা ও অনিতা। নতুন জীবনে উৎসবের আনন্দ তাই ভাগ করে নেবে এই পরিবার দুটি। সত্যিই তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...