দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এবার ইতালির প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে শাকিব খানের প্রিন্স সিনেমা। ১৮ এপ্রিল ও ২০ এপ্রিল ইতালির ভেনিস ও রোম শহরের দু’টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে সিনেমাটি।

পবিত্র ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ৫ সিনেমার ৪টি ‘দম’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘রাক্ষস’ ও ‘প্রেশার কুকার’ ইতিমধ্যেই মুক্তি পেয়েছে দেশের বাইরে। সর্বশেষ ঈদের সিনেমা হিসেবে এবার বিদেশে মুক্তি পাচ্ছে শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন আ টাইম ইন ঢাকা’।
ঢালিউড অভিনেতা শাকিব খানের সিনেমাটি ‘প্রিন্স’ ঈদুল ফিতরে মুক্তি পেয়েছে। আর ইতালিতে শুরু হচ্ছে ‘প্রিন্স’-এর আপডেট ভার্সন। ভেনিস এবং রোম শহরে দু’টি সিনেমা হলে এই সিনেমাটি প্রদর্শন করা হবে। ইতালি প্রবাসী বাঙালিদের জন্য প্রদর্শন করা হবে সিনেমাটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এ এমন কথা জানিয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মস।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে যে, কারিগরি ত্রুটিমুক্ত করতে সিনেমাটির ডিজিটাল ফাইল নতুন করে সংস্করণ করা হয়। দেশে মুক্তির সময় সাউন্ড, কালার এবং ভিএফএক্স নিয়ে দর্শকদের যে অভিযোগ ছিল, উন্নত সংস্করণে সেইসব জটিলতা কাটিয়ে আরও নিখুঁতভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়।
আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত ‘প্রিন্স’ অ্যাকশন সিনেমাটি নব্বই দশকের ঢাকার অপরাধজগতকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে। এই সিনেমাটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাকিব খান। সিনেমাটিতে একজন প্রতাপশালী গ্যাংস্টার হিসেবে দেখা যায় তাকে।
কিং খানের সঙ্গে এই সিনেমায় জুটি হয়ে অভিনয় করেছেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ, কলকাতার অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু ও ভারতীয় অভিনেতা দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য।
এ ছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে রয়েছেন রাশেদ মামুন অপু এবং ইন্তেখাব দিনারসহ একঝাঁক খ্যাতিমান তারকা। ইতালিতে এই প্রদর্শনী শুরুর মাধ্যমে এবারের ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত সবকটি সিনেমা আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিলো।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org