দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ গতকাল (বুধবার) শুরু হয়েছে শেফিল্ড ডকফেস্ট। যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় প্রামাণ্যচিত্র উৎসব এবং প্রভাবশালী ডকুমেন্টারি বাজারে নিজেদের প্রকল্প নিয়ে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের চার নির্মাতা এবং প্রযোজক।

জানা গেছে, বাংলাদেশের নির্মাতারা আগামী ১৩ জুন ‘নিউ স্টোরিজ, ইমার্জিং অথরস: শোকেস অব ওয়ার্ক ইন প্রোগ্রেস ফ্রম বাংলাদেশ’ শীর্ষক আয়োজনে তাদের প্রকল্পগুলো তুলে ধরবেন। নির্মিত তথ্যচিত্রের কিছু অংশও সেখানে প্রদর্শন করা হবে।
নোম্যাডস অব দ্য নর্থ নিয়ে অংশ নিচ্ছেন পরিচালক এবং প্রযোজক পিপলু আর খান। তথ্যচিত্রটির শুটিংও চলছে। এ ছাড়াও কাজী আরেফিন আহমেদ অপেক্ষা, তায়রান রাজ্জাক মন্ত্র অব দ্য ম্যানগ্রোভস ও মকবুল চৌধুরী মাশাব শীর্ষক ৩টি তথ্যচিত্রের প্রকল্প তুলে ধরবেন। এই ৩টি তথ্যচিত্রের কাজও চলছে।
পরিচালক এবং প্রযোজক পিপলু আর খান বলেছেন, ‘শেফিল্ড ডকফেস্টে আমরা প্রযোজক, পরিবেশক এবং সেলস এজেন্টদের কাছে তথ্যচিত্রটি তুলে ধরবো। সাউথ এশিয়ান নির্মাতাদের জন্য এটি একটি বড় আয়োজন। এই আয়োজনের মধ্যদিয়ে আমরা তথ্যচিত্রটিকে বড় পরিসরে নিয়ে যেতে চাই।’
প্রতিবছর ইংল্যান্ডের শেফিল্ডে হয় এই উৎসবটি। এই সময় বিশ্বজুড়ে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা, প্রযোজক, পরিবেশক, সম্প্রচারক এবং দর্শকদের মিলনমেলায় পরিণত হয় শেফিল্ড। শুধু তথ্যচিত্রই নয়, টেলিভিশন, পডকাস্ট, ইমারসিভ মিডিয়া ও শিল্পভিত্তিক নানা ধরনের ডকুমেন্টারি কাজও এখানে প্রদর্শিত হয়ে থাকে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের আয়োজনে স্থান পেয়েছে বিশ্বের ১০৪টি চলচ্চিত্র। এটি চলবে ১৫ জুন পর্যন্ত। ঢাকা ডকল্যাব এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের নির্মাতারা।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org