The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

স্ট্রোক হওয়ার আগে কী কী লক্ষণ দেখা যায়

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ স্ট্রোক এমন একটি জরুরি শারীরিক অবস্থা, যেখানে মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় কিংবা রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ ঘটে।

স্ট্রোক হওয়ার আগে কী কী লক্ষণ দেখা যায় 1

যে কারণে মস্তিষ্কের কোষ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করতে পারে। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলেই অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ‘স্ট্রোক হওয়ার আগে’ বলতে অনেক সময় এমন সতর্ক সংকেতও বোঝানো হয়, যা ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক কিংবা TIA-এর মতো সাময়িক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। TIA-এর লক্ষণ কয়েক মিনিট কিংবা অল্প সময়ের মধ্যে চলে গেলেও এটিকে অবহেলা করা উচিত নয়।

স্ট্রোকের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো হঠাৎ শরীরের এক পাশ অবশ কিংবা দুর্বল হয়ে যাওয়া। মুখের এক পাশ বেঁকে যেতে পারে, একটি হাত কিংবা পা ঠিকমতো নড়াতে সমস্যা হতে পারে কিংবা হাত তুললে একটি হাত নিচের দিকে নেমে যেতে পারে। কখনও আক্রান্ত ব্যক্তি বুঝতেই পারেন না যে তার মুখের এক পাশ স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো হঠাৎ কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া। ব্যক্তি হয়তো পরিচিত কোনো শব্দ বলতে পারছেন না, অস্বাভাবিক শব্দ উচ্চারণ করছেন অথবা অন্যের সহজ কথা বুঝতে পারছেন না। পরিবারের সদস্যরা এমন পরিবর্তন সবচেয়ে দ্রুত লক্ষ্য করতে পারেন।

হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা কিংবা দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তনও স্ট্রোকের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। এক চোখ কিংবা দুই চোখেই দেখতে অসুবিধা হতে পারে। এর সঙ্গে হঠাৎ মাথা ঘোরা, হাঁটতে সমস্যা, ভারসাম্য হারানো বা শরীরের সমন্বয় ক্ষমতা কমে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথাও হতে পারে, যার কোনো পরিচিত কারণ নেই। বিশেষ করে মাথাব্যথার সঙ্গে বমি, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা স্নায়বিক কোনো পরিবর্তন থাকলেও বিষয়টি জরুরি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

এইসব লক্ষণ মনে রাখার সহজ উপায় হলো B.E. F.A.S.T.—Balance অর্থাৎ হঠাৎ ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, Eyes অর্থাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন, Face অর্থাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, Arms অর্থাৎ একটি হাত দুর্বল হয়ে যাওয়া, Speech অর্থাৎ কথা জড়িয়ে যাওয়া ও সময় অর্থাৎ দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়ার সময়।

বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- লক্ষণ কয়েক মিনিট পর ঠিক হয়ে গেলেও সেটিকে নিরাপদ মনে করা যাবে না। সাময়িকভাবে লক্ষণ চলে গেলে সেটি TIA হতে পারে ও পরবর্তী বড় স্ট্রোকের সতর্ক সংকেত হতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে দ্রুতই চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।

স্ট্রোকের ক্ষেত্রে ‘আর একটু দেখি, পরে হাসপাতালে যাবো’ -এই সিদ্ধান্ত বিপজ্জনকও হতে পারে। লক্ষণ শুরু হওয়ার সময়টি মনে রাখা কিংবা লিখে রাখা চিকিৎসকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত চিকিৎসা শুরু হলে মস্তিষ্কের ক্ষতি কমানোর সুযোগ থাকে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali