দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মানবদেহ একটি জটিল তবে অত্যন্ত সচেতন ব্যবস্থা। কোনো রোগ শরীরে প্রবেশের আগেই শরীর নানা সংকেতের মাধ্যমে আমাদের সতর্ক করে দেয়।

তবে আমরা অনেক সময় সেই লক্ষণগুলোকে উপেক্ষা করি, যে কারণে সামান্য সমস্যা বড় আকার ধারণ করে। তাই শরীরের প্রাথমিক পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করা ও সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
# অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা এমন একটি সাধারণ লক্ষণ, যা অনেক রোগের পূর্বাভাস হতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নেওয়ার পরও যদি শরীরে শক্তি না থাকে বা সারাক্ষণ অবসাদ লাগে, তবে এটি রক্তাল্পতা, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড বা লিভারের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
# হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া শরীরের ভেতরে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ফল হতে পারে। ওজন হ্রাস হলে ডায়াবেটিস, ক্যানসার, বা পেটের সংক্রমণ থাকতে পারে; আবার ওজন বেড়ে গেলে থাইরয়েড বা হরমোনজনিত সমস্যা হতে পারে।
# ক্ষুধা ও ঘুমের পরিবর্তনও রোগের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। হঠাৎ করে ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া বা একেবারে কমে যাওয়া, অনিদ্রা বা অতিরিক্ত ঘুম—এসবই শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
# ত্বক ও চোখের অস্বাভাবিক পরিবর্তন অনেক সময় লিভার, কিডনি বা হৃদযন্ত্রের সমস্যার সংকেত দেয়। যেমন চোখের নিচে কালচে দাগ, ত্বক হলদে হয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত শুষ্ক হওয়া- এসব উপসর্গ অবহেলা করা উচিত নয়।
# বমি ভাব, মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড় বা শ্বাসকষ্টও শরীরের ভেতরে কোনো অসুস্থতা বাসা বাঁধার লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে রক্তচাপ বা হার্টের সমস্যা থাকলে এসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
তা ছাড়াও মেজাজের পরিবর্তন, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মনোযোগে ঘাটতি মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির ইঙ্গিত দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক অসুস্থতাও ডেকে আনে।
শরীর কখনও হঠাৎ করে অসুস্থ হয় না- এর আগেই বিভিন্নভাবে সংকেত দেয়। তাই নিজের শরীরের প্রতিটি পরিবর্তন মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সচেতন থাকলেই বড় রোগগুলোকে প্রাথমিক পর্যায়েই প্রতিরোধ করা সম্ভব, তাতেই লুকিয়ে রয়েছে সুস্থ জীবনের রহস্য।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org