পেপ গার্ডিওলার ভেতরের মানুষটি!

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ “ঝুঁকি না নেওয়ার চাইতে বড় বিপজ্জনক কিছু আর নেই” – পেপ গার্ডিওলার বার্সোলোনার কোচ থাকাকালীন চার বছরে রেখে যাওয়া অসংখ্য বাণীর একটি। আর এই কথা শুধু কোচ হিসেবেই নয়, মানুষ হিসেবেও সেই গার্ডিওলার কাছ থেকেই এসেছে যিনি আর দশজনের মত কখনো কখনো ভয় পেলেও সেটাকে পথের কাঁটা হিসেবে দাঁড়াতে দেননি।


e693178c-6048-11e2-b657-00144feab49a.img

প্রেসরুম হোক, স্টেডিয়াম হোক কিংবা কোন রেস্টুরেন্ট গার্ডিওলার সরব উপস্থিতি অনেককেই স্তদ্ধ করে দেয়। বাকভঙ্গিতে অন্যদের থেকে ব্যতিক্রম তিনি, জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ তাঁকে দার্শনিক হিসেবে বর্ণণা করে মোটেও ভূল করেননি। সাংবাদিকদের সামনে শত শত বার উপস্থিতিতে গার্ডিওলা সেটাই প্রমাণ করেছেন, ফুটবল আর জীবন নিয়ে তার দার্শনিকতায়। খেলা আর কৌশল নিয়ে পড়ে থাকা কোচের বাইরেও স্মিত হাসি আর কথাবার্তার গভীরতায় তাঁর আলাদা একটা স্বত্তা চোখে পড়ে।

তিনিই বলেছিলেন, “প্রতিভা অনুপ্রেরণার ওপর নির্ভর করে, কিন্তু চেষ্টার বিষয়টা প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর।”

তাঁকে তার কোচ স্বত্তা থেকে আলাদা করা কঠিন। কে তাঁর সাথে মিশতে পারবে, তাঁকে জানতে পারবে আর কে পারবে না তা তিনিই ঠিক করেন, নিজের অন্তরঙ্গ পরিবেশকে শক্তভাবে রক্ষা করে চলেন তিনি। মানুষের সাথে সহজেই অন্তরঙ্গ হননা তিনি, শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ কিছু পরিবেশে বুদ্ধিমান কিছু মানুষ ছাড়া।

তাঁর মতে, “আমি মনে করি, ম্যানেজিং এর দায়িত্বে থাকা যে কারোরই এই বিষয়টা মাথায় রাখা উচিত যে, আগামীকালও তাঁকে পদ ছেড়ে চলে যেতে হতে পারে।”

গার্ডিওলা সাক্ষাতকার দেন শুধু দেওয়া আবশ্যিক হলে(যেমন ফিফা ব্যলন ডি অর), খ্যাতির মোহ তাঁর নেই, প্রশংসাতেও ভেসে যান না তিনি; নিজেকে ভাল করেই চেনেন আর সেই পরিচয়টা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ করেননা। পেপের কাছে ঈশ্বরের কোন অস্তিত্ব নেই। ক্যাটালানিয়া তাঁর দেশ, ফুটবল তাঁর জীবন আর ব্যর্থতা স্রেফ সাফল্যেরই একটি অংশ।

সময়ে সময়ে নিজের ভেতরে চলতে থাকা লড়াইটাও বাকিদের দেখতে দেন তিনি, আবেগের সঙ্গে যুক্তির সে লড়াইয়ে নিজের ভেতরকার উদার আর সংবেদনশীল অংশটার দেখানো পথে চলেন তিনি। একবার বলেছিলেন, “আমার এক অংশ আমাকে বলে ফুটবলের সাথে থাকাটা চালিয়ে যেতে আর এক অংশ বলে এসব ছেড়ে চলে যেতে।” তারপর একসময় ঠিকই কিছুসময়ের জন্য বিশ্রামে চলে গেলেন তিনি, কিন্তু এখন প্রাণশক্তি পুনরায় ফিরে আসায় নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে মুখিয়ে আছেন তিনি। চ্যালেঞ্জ হল বায়ার্ন মিউনিখের কোচিং আর এটি সম্ভবত তাঁর পেশাদার আর ব্যক্তিগত জীবন মিলিয়ে সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে।

শুধু দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েই পরে থাকেন গার্ডিওলা এমন ভাবাটাও ভুল হবে, “সামনের ছয় মাস বা এক বছরের চাইতে বেশি সময়ের জন্য কোন পরিকল্পনা করে রাখিনা আমি। এসব আমার দ্বারা হয়না, আমি ক্লান্ত হয়ে পরি।” এ কারণেই পেপ অসাধারণ, মাটিতে সারাক্ষণ পা রাখা মানুষটা হুট করেই বিস্মিত করে দেন সবাইকে।

গোলডটকম অবলম্বনে

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...