নারীদের সহিংসতা হতে রক্ষা করবে মোবাইল অ্যাপ!

নারীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এসব অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ এবার এমন এক মোবাইল অ্যাপ বাজারে এসেছে যা নারীদের সহিংসতা হতে রক্ষা করবে! মূলত নারীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই এই অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো কীভাবে এটি কাজ করবে? এই বিষয়ে বলা হয়েছে, সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনের কোনও একটি বাটন চাপ দিলেই বিপদের সময় দ্রুত বার্তা চলে যাবে কোনও বন্ধু বা জরুরি সাহায্য সংস্থার কাছে। অবশ্য স্মার্ট-ফোনের এই যুগে এমন বহু অ্যাপ ইতিমধ্যেই নানা দেশে চালু রয়েছে।

নারীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এসব অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশেও বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে দেখার চেষ্টা করা হচ্ছে প্রযুক্তির মাধ্যমে কিভাবে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হয় এবং তা রোধ করা যায়, বা সহিংসতার শিকার নারী এবং শিশুর জন্য পরবর্তীতে দরকারি চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা কিভাবে দ্রুত দেওয়া যায়।

অ্যাসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশন বগুড়া এবং নরসিংদী জেলার ১৬টি ইউনিয়নে এমন একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে- যার মাধ্যমে দেখা হচ্ছে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে প্রযুক্তিকে কীভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।

অ্যাসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সেলিনা আহমেদ বিবিসিকে বলেছেন, এই পর্যন্ত তারা ১৩৪ জনকে এই ধরনের সহায়তা দিয়েছেন।

সেলিনা আহমেদ জানান, নারী ও মেয়ে শিশুদের প্রতি সহিংসতা দূর করতে একটি হেল্প ডেস্ক এবং হেল্প লাইন চালু, ই-ক্লিনিকের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা, সহিংসতার ঘটনায় একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করাসহ- বেশ কিছু কাজ করা হচ্ছে। এগুলো করার চেষ্টা চলছে মোবাইল ফোনের অ্যাপের সাহায্যে সংযোগ তৈরির মাধ্যমে।

সেলিনা আহমেদ আরও জানান, ‘যেখানেই সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, সেখানেই আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা একটি অ্যাপে কীভাবে নির্যাতন ঘটেছে, কোথায় এটি ঘটেছে, নাম কী সেসব বিস্তারিত তথ্য রেকর্ড করছে। তখন এসব তথ্য অ্যাপের মাধ্যমে হেল্প ডেস্কের কাছে খুব দ্রুত চলে আসছে। হেল্প ডেস্ক তখন তাৎক্ষণিকভাবেই ওই নারীর যে ধরনের সেবা প্রয়োজন সেটি পেতে তাকে সহযোগিতা করছে।’

এমন একটি হেল্প ডেস্কের অফিসার হলেন মুসাম্মৎ মিতু খাতুন। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, শুধুমাত্র স্বেচ্ছাসেবীদের কাছেই এই অ্যাপটি রয়েছে। তিনি আরও জানান, এর মাধ্যমে কোন কোন জায়গায় নারীর ওপর সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে সে সম্পর্কেও আগেভাগেই তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।

সেটি কীভাবে হচ্ছে তার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মিতু খাতুন বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবীরা গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে যান। তখন যদি দেখেন যে কোনও বাড়িতে সমস্যা রয়েছে, তখন তিনি তৎক্ষণাত অ্যাপের মাধ্যমে জানিয়ে দেন। তখন ওই বাড়িটির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হয়।’ তিনি আরও জানান, তখন তারা আগে ভাগেই ওই বাড়ির লোকজনদের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করেন।

মিতু খাতুন আরও বলছেন, ‘কদিন আগে আমার কাছে একজন ফোন দিয়ে জানিয়েছিলেন যে, গ্রামের এক লোক তাকে ধর্ষণ করার চেষ্টার চালাচ্ছে। তখন আমরা তাকে আইনি সহায়তার পাওয়ার সহজ উপায় বলে দিয়েছিলাম।’

তবে এখন পর্যন্ত এই কাজ চলছে খুব স্বল্প পরিসরে। অর্থাৎ মাত্র ১৬ ইউনিয়নে রয়েছে এর কর্ম পরিধি। অ্যাসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সেলিনা আহমেদ বলেছেন যে, আপাতত শুধু তাদের স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে অ্যালার্ট করা হচ্ছে। তবে এই অ্যাপটি যেনো এক সময় গুগল প্লে স্টোর কিংবা অ্যাপ স্টোরের মাধ্যমে সবার হাতে পৌঁছাতে পারে সেজন্যও তারা কাজ করে যাচ্ছেন।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...