The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

চীনে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬১

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মৃত্যুর মিছিল যেনো ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিদিন বহু মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এই মারণব্যাধি করোনা ভাইরাসে এবং সেই সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে দ্রুত গতিতে। এ পর্যন্ত চীনে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬১ তে দাঁড়িয়েছে।

চীনে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬১ 1

চীনজুড়ে উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস। প্রতিদিনই কেও না কেও আক্রান্ত হচ্ছেন। নতুন করে আজ (সোমবার) পর্যন্ত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও অন্তত ২ হাজার ৬২০ জন।

সব মিরিয়ে দেশটিতে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৬১ জনে। অপরদিকে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। চীনের স্বাস্থ্য বিভাগের বরাত দিয়ে আজ (সোমবার) বিবিসির এক খবরে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে।

প্রাণঘাতি এই ভাইরাসে চীনের বাইরে প্রথমবারের মতো ফিলিপাইনে ৪৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গতকাল (রবিবার) মারা গেছেন। কয়েকদিন পূর্বে তিনি হুবেই প্রদেশ থেকে নিজ দেশে ফেরত আসেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য সচিব ফ্রান্সিসকো জানিয়েছেন।

এদিকে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত গতিতে বাড়ার কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চীন।

দেশটিতে নতুন করে আরও ২১ হাজার ৫৫৮ জনকে করোনায় আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৭০০ জন। শঙ্কামুক্ত হওয়ায় মাত্র ৪৭৫ জনকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হয়েছে।

জাপান, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ তাদের আকাশ পথ সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করেছে। এবার চীনের সঙ্গে সীমান্ত সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ। যে কারণে মারাত্মকভাবে অর্থনৈতিক সংকটে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে চীনে।

অপরদিকে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটিতে এক লাখ দুই হাজারের অধিক লোক এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন- এমন সন্দেহে তাদেরকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

তবে মহামারি করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা নিয়ে চীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে যে হিসাব দিয়েছে প্রকৃতপক্ষে ওই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলেই মনে করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে যে, হাসপাতালে মৃতের কোনো রেকর্ড না রেখেই তড়িঘড়ি করে মরদেহগুলো সৎকার করছে চীন।

করোনভাইরাসের প্রভাব হতে রেহাই পায়নি দেশটিতে বসবাসরত বিশ্বের অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও। তবে তা আরও ব্যাপক আকারে যাতে না হয় সেজন্য জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ তাদের দেশের নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই তাদের অনেককে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে। সন্দেহভাজনদের হাসপাতালে ও আশঙ্কা এড়াতে অন্যান্যদের পৃথক স্থানে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

চীনের বাইরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি থাইল্যান্ডে (১৯ জন)। এছাড়া সিঙ্গাপুর-১৬, জাপান-১৫, দক্ষিণ থাইল্যান্ড-১৪, কোরিয়া-১২,অস্ট্রেলিয়ায়-১০, তাইওয়ান-১০, মালয়েশিয়া-৮, জার্মানি-৭, যুক্তরাষ্ট্র-৭, ফ্রান্স-৬, ভিয়েতনামে-৫ আমিরাত-৪, কানাডায়-৪, ইতালি-২, কম্বোডিয়ায়-১, ফিনল্যান্ড-১, ভারত-১, নেপাল-১, ফিলিপাইন-১ (মৃত) শ্রীলঙ্কা-১, সংযুক্ত আরব ও জনসহ শতকের বেশি মানুষের দেহে প্রাণঘাতি এই ভাইরাস শনাক্ত করেছে দেশগুলোর স্বাস্থ্য বিভাগ। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে চীনাদের জন্য।

এদিকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা চলমান রয়েছে। অপরদিকে করেনা ভাইরাস রোধে মাস্ক সংকটে পড়েছে চীন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ২০ কোটি মাস্কের অর্ডার দিয়েছে দেশটি। অর্থনৈতিক সংকটে পড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে চীনের।

আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চললেও এখন পর্যন্ত এর কোনো প্রতিষেধক উদ্ভাবন হয়নি। প্রতিষেধক উদ্ভাবনে নিযুক্ত এক ফরাসি গবেষক জানিয়েছেন, “ওষুধ হাতে পেতে আরও হয়তো কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে।”

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর উহানে এই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যাওয়ার পর চীনের সীমানা পেরিয়ে এই ভাইরাস রাজধানী বেইজিং, সাংহাই, ম্যাকাও এবং হংকংয়ের বাইরে বিশ্বের অন্তত ২২টি দেশে ছড়িয়েছে।

তবে বিস্তার ঠেকাতে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ চীনগামী বিমানের ফ্লাইট বাতিলও করছে। ইতিমধ্যেই ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স, এয়ার এশিয়া, ক্যাথে প্যাসিফিক, এয়ার ইন্ডিয়া ও ফিনএয়ার চীনগামী বিমানের সংখ্যা কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশির মতো সমস্যাগুলো দেখা দেয়। সবথেকে ভয়ংকর বিষয় হলো এই রোগির সংস্পর্ষে এলেই আক্রান্ত হতে হচ্ছে। শ্বাস প্রশাসের মাধ্যমেই রোগটি মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...