The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

চীনে কুকুর বিড়ালের ও মুরগি নিধনের হিড়িক!

এইচ৫এন১ ভাইরাসজনিত বার্ড ফ্লু দেখা দিয়েছে দেশটির হুনান প্রদেশের শুয়াংকিং জেলা শহরের একটি পোল্ট্রি খামারে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ নভেল করোনা ভাইরাস নামে সার্স গোত্রীয় এক ভাইরাসে সাড়ে চার শতাধিক মানুষ মারা গেছে চীনে। ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন আরও প্রায় ২০ হাজার মানুষ। ইতিমধ্যেই দেশটিতে বার্ড ফ্লু ছড়িয়েছে। আতঙ্কিত চীনারা পোষা কুকুর বিড়াল হত্যার পর এখন হাজার হাজার মুরগি নিধন শুরু করেছে।

চীনে কুকুর বিড়ালের ও মুরগি নিধনের হিড়িক! 1

চীনের কৃষি ও গ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই তথ্য দিয়েছে। এইচ৫এন১ ভাইরাসজনিত বার্ড ফ্লু দেখা দিয়েছে দেশটির হুনান প্রদেশের শুয়াংকিং জেলা শহরের একটি পোল্ট্রি খামারে। পাখি থেকে মানবদেহে সংক্রমণের এই ফ্লু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ওই প্রদেশে নিধন করা হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার ৮২৮টি মুরগি।

করোনা ভাইরাসের উৎসস্থল হুবেই প্রদেশের দক্ষিণ-সীমান্তে অবস্থিত এই হুনান প্রদেশ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই নিধন প্রক্রিয়া চালিয়েছে প্রদেশটির স্থানীয় প্রশাসন। কৃষি ও গ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বলেছে, একটি খামারে ৭ হাজার ৮৫০টি মুরগি ছিল। এরমধ্যে সাড়ে ৪ হাজার মুরগি ফ্লু আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর ওই এলাকার প্রায় মুরগি নিধন শুরু করে প্রশাসন।

যদিও মন্ত্রণালয়ে পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যদিও এ পর্যন্ত কোনো মানব-সংক্রমণের (হিউম্যান এইচ৫এন১ ভাইরাস) খবর পাওয়া যায়নি। করোনা ভাইরাসের মোকাবিলা নিয়ে এমনিতেই বিশ্বের কাছে সাহায্যের আকুতি জানিয়েছে চীন সরকার। ঠিক এমন সময় বার্ড ফ্লু সংক্রমণের খবর চীনকে আরও বিপদে ফেলেছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা গেছে, এইচ৫এন১ ভাইরাসের কারণে এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা হয়ে থাকে। এটি বার্ড ফ্লু নামেই অধিক পরিচিত। ২০১৫ সালে চীনের সিচুয়ান প্রদেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু ঘটে। তবে এটি অন্যান্য প্রাণঘাতী ভাইরাসের তুলনায় কিছুটা দুর্বল বলে মনে করা হয়।

ভাইরাসটি কেবল চীনেই নয়, ভারতেও ছড়ানোর খবর পাওয়া গেছে। গত ২৯ জানুয়ারি বিশ্ব প্রাণি স্বাস্থ্য সংস্থার (ওআইই) পক্ষ হতে জানানো হয় যে, ছত্তিশগড়ের একটি পোল্ট্রি ফার্মে এই ভাইরাসজনিত বার্ড ফ্লু আক্রমণ করলে ২১ হাজার ৬০টি মুরগির মধ্যে ৫ হাজার ৬৩৪টির মৃত্যু হয়। পরে বাকি মুরগিগুলোকে নিধন করা হয়।

এদিকে হুবেই প্রদেশের উহান হতে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস নিয়ে নতুন এক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে চীনাদের মধ্যে। ভাইরাসটি প্রাণী হতে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হচ্ছে, এমন একটি গুজব ছড়ানোর পর চীনারা তাদের পোষা প্রাণীগুলোকে বহুতল ভবন হতে ছুড়ে মারছেন। দেশটিতে যত্রতত্র পোষা কুকুর বিড়াল মরে থাকতেও দেখা গেছে।

ব্রিটিশ দৈনিক সান এই নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয় যে, গোটা চীন এখন এক মহাসঙ্কটের মধ্যে পড়েছে। শুধু হুবেই নয় চীন ছাড়াও বিশ্বের বিশটির বেশি দেশে বর্তমানে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। তবে চীন থেকে এমন কিছু ছবি পাওয়া গেছে যা সত্যিই মর্মান্তিক। কুকুর-বিড়ালের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায় দেশটির বিভিন্ন শহরের রাস্তায় রাস্তায়।

গত রবিবার প্রকাশিত সচিত্র ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের হুবেই প্রদেশের তিয়ানজিন নামক শহরে একটি আবাসিক এলাকার রাস্তায় মরে পড়ে রয়েছে একটি পোষা কুকুর। বহুতল ভবন থেকে পোষা ওই প্রাণীটিকে কেও ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। যার গোটা শরীরই রক্তাক্ত।

চীনের আরেক বড় শহরদ হলো সাংহাই। ওই শহরেও এমন ঘটনা ঘটেছে একাধিকটি। শহরের এক রাস্তায় একসঙ্গে ৫টি পোষা বিড়াল রক্তাক্ত অবস্থায় মরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। করোনাভাইরাস আতঙ্কে মানুষ তার প্রিয় পোষা প্রাণীগুলোকে ঘর হতে বের করতে এভাবেই ছুড়ে ফেলে দিচ্ছে রাস্তায় রাস্তায়।

পোষা প্রাণীর মাধ্যমে মানুষও করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছে এমন গুজব সম্বন্ধে সচেতন করতে চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া (হু) একটি নোট প্রচার করে। তাতে লেখা রয়েছে, ‘কুকুর ও বিড়ালের মতো অন্যান্য পোষাপ্রাণী নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।’

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...