দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মানুষের ঘুম হলো একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। নিদ্রার সময় শরীর আপনার অজান্তেই একাধিক জরুরি কাজ শুরু করে। যেজন্য পরের দিন উঠে শরীর ফ্রেশ লাগে। কেটে যায় সকল ক্লান্তি।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, আমাদের প্রতিটি মানুষের দিনে অন্ততপক্ষে ৭ ঘণ্টা ঘুমের দরকার। আর সেই ঘুমটা যেমন তেমন নয়, বরং ঠিক ঠাক হতে হবে। তাহলে শরীর থাকবে সুস্থ-সবল। শুধু তাই নয় মনও থাকবে ভালো।
তবে মুশকিলের বিষয় হলো, অনেকের পর্যাপ্ত সময় ঘুম হয় না। আবার অনেকের পর্যাপ্ত সময় ঘুম হলেও তা ঠিক-ঠাক হয় না। যে কারণে তাদের শরীর এবং মনের উপর বেশ প্রভাব পড়ে। তবে নিজেদের অজ্ঞানতার জন্য তারা বিষয়টি বুঝতে পারেন না। তাই পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাওয়ার আগে সাবধান হতে হবে।
ক্লান্তি
ঠিক ঠাক ঘুম না হওয়ার প্রথম লক্ষণই হলো ক্লান্তি। এই ক্ষেত্রে ঘুম থেকে ওঠার পরও ক্লান্ত লাগতে পারে। কাজেই মন লাগতে চায় না। সব কিছুতেই ভুল হওয়ার আশঙ্কাও তখন বাড়ে। এমনকী হাতে-পায়ে ব্যথা হওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়।
হুহু করে বাড়তে পারে ওজন
ওজন বেশি থাকাটা কোনও কাজের কথায় নয়। তবে অনেক সময় ঠিক-ঠাক ঘুম না হলে ওজন বেড়েও যেতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো, ঘুমের সঙ্গে খিদের সম্পর্কটা ঠিক কী? এই সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা জানালেন, ঘুম ঠিকঠাক না হলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্যও বিগড়ে যেতে পারে।
বের হতে পারে ব্রণ
আপনি জানলে অবাক হবেন, আপনার ঘুম ঠিক হওয়া কিংবা না হওয়ার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ব্রণের সম্পর্ক। আসলে ঘুম ঠিক-ঠাক না হলে শরীরে হরমোনের ব্যালেন্স বিগড়ে যেতে পারে। যে কারণে ব্রণ বের হতে পারে। এমনকি অন্যান্য ত্বকের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
মুড সুইং হওয়ার আশঙ্কা
সাধারণত ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্ক একাধিক কাজ করে। অদরকারি স্মৃতি ‘রিসাইকেল বিন’-এ ফেলে দেয় এই সময়। আবার প্রয়োজনের তথ্য গচ্ছিত রাখে ব্রেনে। যে কারণে সকালে উঠেই আমরা ঠিক-ঠাক কাজ করতে পারি। আমাদের মনও ভালো থাকে। তবে ঘুম যদি ঠিক-ঠাক না হয়, তাহলে কোনও মতেই মন ভালোই থাকে না। তার হাল বিগড়েও যেতে পারে। তখন কথায় কথায় মন খারাপ হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ে।
ভালো মতো ঘুমানোর জন্য মেনে চলবেন কোন কোন নিয়ম?
# ঘুমাতে যাওয়ার ৩০ মিনিট আগে থেকে মোবাইল থেকে চোখ সরিয়ে নিতে হবে।
# এই সময় টিভি দেখবেন না।
# চেষ্টা করুন রাতে কফি কিংবা চা না খাওয়ার।
# রাতে বেশি তেল, মশলাদার খাবার না খাওয়ার চেষ্টা করুন।
# ঘুম না এলে শুয়ে না থেকে, কিছু সময় পায়চারি করুন।
আশা করছি, এই নিয়মগুলো মেনে চললেই আপনার ঠিক-ঠাক ঘুম হবে।
# তথ্যসূত্র: এই সময়
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org