দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই শরীরের এমন অংশে ট্যাটু করাচ্ছেন, যার ফলশ্রুতিতে ভবিষ্যতে মারাত্মক ক্ষতিও হতে পারে। শরীরের কোন কোন অংশে ট্যাটু না করানোই ভালো? সেটি আজ জেনে নিন।

সাম্প্রতিক সময়ে ট্যাটু ফ্যাশনের অঙ্গ হিসাবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে কমবয়সিদের মধ্যে ট্যাটুর জনপ্রিয়তা যেনো আকাশছোঁয়া। এবার সেটি নিয়েই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন চিকিৎসকরা। ট্যাটু করানোর সুচ অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যে কারণে অ্যালার্জি, ত্বকের ক্যান্সারও বাসা বাঁধতে পারে শরীরে। এছাড়াও অনেকেই শরীরের এমন অংশে ট্যাটু করাচ্ছেন, যে কারণে ভবিষ্যতে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। শরীরের কোন কোন অংশে ট্যাটু না করানো উচিত? সেটি আজ জেনে নিন।
ঘাড়ে
অনেকেই ঘাড়েই ট্যাটু রয়েছে। আবার ট্যাটু করালে ঘাড়েই করাবেন- এমনটিই ভেবেছেন। তবে ঘাড়ে ট্যাটু করাতে বারণ করছেন চিকিৎসকরা। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির কারণে ট্যাটু ফিকেও হয়ে যেতে পারে। আর চর্মরোগের ঝুঁকিও থেকে যায়। ঘাড় থেকে পিঠ পর্যন্ত মেলানিনের ভারসাম্যও বিঘ্নিত হতে পারে। যে কারণে সোরিয়াসিস, ডার্মাটাইটিসের মতো রোগও হতে পারে।
তালু
আপনি কী হাতের তালুতে সঙ্গীর নামে ট্যাটু করানোর কথা ভাবছেন? তাহলে সেই ভাবনা চিরতরে বাদ দিয়ে দিন। হাতের তালু কিন্তু অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এছাড়াও হাতের তালুতে করা ট্যাটু কিন্তু বেশি দিন অক্ষয় হবে না। তেলমশলা, ক্রিম লেগে ধীরে ধীরে যেনো ফ্যাকাশে হতে শুরু করবে তালুর ট্যাটু। এছাড়াও ট্যাটুর রাসায়নিক কালি মিশে ত্বকে সংক্রমণও হতে পারে। এগজিমা কিংবা সোরিয়াসিসের মতো মারাত্মক কিছু ত্বকের রোগের কারণও হয়ে উঠতে পারে।
বাহুমূল
অনেকেরই বাহুমূলে ট্যাটু করানোর ইচ্ছা রয়েছে। ট্যাটু করানোর পর সুচ ভালো করে জীবাণুমুক্তও করা হয় না। যে কারণে সেই সুচ দিয়ে আবার ট্যাটু করালে সংক্রমণ যে হবে, তাতে কোনও রকম সন্দেহ নেই। এছাড়াও বাহুমুলের ত্বক অত্যন্ত নরম ও স্পর্শকাতরও হয়। যে কারণে ট্যাটু করালে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ভয়ও সবচেয়ে বেশিই থাকে। তথ্যসূত্র: এই সময়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org