The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

লাল আপেল নাকি সবুজ: পুষ্টির দৌড়ে কোনটি এগিয়ে?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রচলিত একটি কথা রয়েছে যে, প্রতিদিন আপেল খেলে ডাক্তারের কাছে ছুটতে হবে না। তবে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে কিন্তু অন্য জায়গায়। বাজারে লালের পাশাপাশি সবুজ আপেলও দেখা যায়।

লাল আপেল নাকি সবুজ: পুষ্টির দৌড়ে কোনটি এগিয়ে? 1

মূলত ভারতের জম্মু এবং কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরখণ্ডে উৎপন্ন হয় সবুজ আপেল। দেশটির বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানিও করা হয়। তাই বাংলার বাজারে সবুজ আপেল দেখা যায়। স্বাভাবিকভাবেই লাল আপেলের তুলনায় সবুজ আপেলের দামও একটু বেশি। তবে পুষ্টিগুণের দিক দিয়ে কে এগিয়ে রয়েছে, তা-কি জানেন?

সবুজ আপেলের উপকারিতা

সবুজ আপেলের মধ্যে শর্করার পরিমাণ কম ও গ্লাইসেমিক সূচকও কম। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তাও করে এই সবুজ আপেল। পুষ্টিবিদ পল্লবী চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ‘সবুজ আপেল ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য ভীষণ উপকারীও।’ শুধু তাই নয়, ফাইবারের পরিমাণও সবুজ আপেলের মধ্যেই বেশি বলে জানিয়েছেন ডায়েটেশিয়ান। এই আপেলের মধ্যে পেকটিন নামে ফাইবার রয়েছে। এই ফাইবার ওজনও কমায় ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নতও করে। সবুজ আপেলের মধ্যে পলিফেনল নামে যৌগ রয়েছে, যা দেহে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এতে ক্রনিক অসুখের ঝুঁকিও কমে। তবে সবুজ আপেলের স্বাদে একটু টক।

লাল আপেলের উপকারিতা

পল্লবীর বক্তব্য হলো, লাল আপেল সবুজের তুলনায় একটু বেশিই মিষ্টি। এছাড়াও লাল আপেলের মধ্যে অ্যান্থোসায়ানিন নামে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা দেহের অক্সিডেটিভ স্ট্রেসও কমায়। শুধু তাই নয়, এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রদাহ কমায় ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক। সবুজের তুলনায় লাল আপেলের মধ্যে ফাইবারের পরিমাণ কম এটি ঠিক, তবে এটাও স্বাস্থ্যকর। ডায়েটেশিয়ানের কথায়, লাল আপেলের মধ্যে থাকা ফাইবার ও হজম স্বাস্থ্য উন্নত করে।

লাল নাকি সবুজ?

লাল এবং সবুজ আপেলের মধ্যে শর্করার মাত্রা, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লেভেল এবং ফাইবারের ধরনের মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে। তবে দুই আপেলের মধ্যেই বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন এবং মিনারেল পাওয়া যায়। পুষ্টিবিদের ভাষায়, লাল হোক সবুজ, দুই ধরনের আপেল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তাই দুই ধরনের আপেলই মিলিয়ে মিশিয়ে খাওয়া যেতেই পারে। বাজারে যখন যে আপেল সহজলভ্য, তখন সেটিই কিনে খেতে পারেন- তাতে কোনোই সমস্যা নেই। তথ্যসূত্র: এই সময়।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

bn_BDBengali