দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পেয়ারা আমাদের দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর ফল। এটি সহজলভ্য, সস্তা এবং ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ। পেয়ারা দুই ধরনের হয়- সাদা ও লাল।

উভয় ধরনের পেয়ারাতেই রয়েছে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খাদ্যআঁশ, পটাশিয়াম এবং বিভিন্ন খনিজ পদার্থ। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কোন পেয়ারা বেশি উপকারী- এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।
গবেষণালব্ধ তথ্য এবং পুষ্টিবিদদের মতামত অনুযায়ী, সাদা ও লাল দুই ধরনের পেয়ারাই উপকারী হলেও লাল পেয়ারা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি উপকারি বলে ধরা হয়।
প্রথমেই জানা দরকার যে, পেয়ারার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) খুবই কম, অর্থাৎ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ায় না। তাই এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ ফল। পেয়ারা খাওয়ার ফলে শরীরে গ্লুকোজ ধীরে ধীরে শোষিত হয়, ফলে রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
লাল পেয়ারা কেনো বেশি উপকারী? লাল পেয়ারায় “লাইকোপিন” (Lycopene) নামক একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের ইনসুলিন কার্যকারিতা উন্নত করে। এই উপাদান রক্তে চিনি নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ডায়াবেটিসের জটিলতা যেমন হৃদরোগ বা চোখের ক্ষতি প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়া, লাল পেয়ারার ভিটামিন সি-এর পরিমাণও সাদা পেয়ারার তুলনায় কিছুটা বেশি। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং কোষের ক্ষতি রোধ করে।
অপরদিকে, সাদা পেয়ারাতেও রয়েছে প্রচুর খাদ্যআঁশ, যা হজমে সহায়তা করে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ধীরে বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে। তবে এতে লাইকোপিনের পরিমাণ কম থাকায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রভাব কিছুটা কম। তবুও সাদা পেয়ারা একেবারেই ক্ষতিকর নয়; এটি নিয়মিত খাওয়া যায়, বিশেষত যদি লাল পেয়ারা সহজলভ্য না হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন অল্প পরিমাণে (একটি মাঝারি আকারের) পেয়ারা খেলে ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ হয়। তবে অতিরিক্ত পেয়ারা খাওয়া ঠিক নয়, কারণ তাতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি (Fructose) বেশি পরিমাণে শরীরে প্রবেশ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে।
পেয়ারার খাওয়ার কিছু সতর্কতা
# খালি পেটে পেয়ারা খাওয়া উচিত নয়; এতে গ্যাস বা পেট ব্যথা হতে পারে।
# ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খোসাসহ পেয়ারা খাওয়া ভালো, কারণ খোসায় প্রচুর ফাইবার থাকে যা রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
# পেয়ারার জুস বা চিনি মেশানো সালাদ এড়িয়ে চলা উচিত; কারণ এতে অতিরিক্ত চিনি যুক্ত হয়।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পেয়ারা একটি আদর্শ ফল, তবে লাল পেয়ারা তুলনামূলকভাবে বেশি উপকারী কারণ এতে লাইকোপিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি-এর পরিমাণ বেশি। নিয়মিত পরিমাণমতো পেয়ারা খেলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং শরীর থাকে চাঙ্গা এবং সুস্থ।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org