দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ রক্তচাপ বাড়লে বেশিরভাগ মানুষ ভয় পেয়ে যান হার্ট অ্যাটাকের। উচ্চ রক্তচাপ হার্টের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তবে হাইপারটেনশন শুধু যে হার্টের জন্যই ক্ষতিকর তা নয়। ভয় রয়েছে চোখেরও।

রক্তচাপ বেশি থাকলে সেটি চোখেরও ক্ষতিও করতে পারে। এমনকি দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন উচ্চ রক্তচাপের কারণে। এর জন্য দায়ী কী?
চোখের স্ট্রোকের জন্য কী হাইপারটেনশনই দায়ী?
চোখের চিকিৎসক ডাঃ সুমন মুখোপাধ্যায় বলেছেন, ‘হাইপারটেনশনের কারণে চোখের একাধিক ক্ষতিও হতে পারে।’ উচ্চ রক্তচাপের কারণে চোখের রেটিনার শিরায় ব্লকেজ তৈরি হয়। যে কারণে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। এই অবস্থাকে ‘সেন্টাল রেটিনাল ভেইন অকুলেশন’ (CRVO) বলা হয়ে থাকে। এটি শিরার পাশাপাশি ধমনীতেও হতে পারে বলে জানান ডাঃ মুখোপাধ্যায়। আসলে চলতি ভাষায় এই অবস্থাকে চোখের স্ট্রোক বলা হয়।
সিআরভিও-এ কি দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন?
সিআরভিও’র একাধিক উপসর্গ রয়েছে। যারমধ্যে সবচেয়ে কমন হলো, হঠাৎ করে একটি চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়া। এ ছাড়াও চোখে রক্তপাত হলে চোখের ভিতর কালো ঝুলের মতো অংশ দেখা দেয়।
‘সিআরভিও’র চিকিৎসা হলো ইনজেকশন কিংবা রেটিনাল লেজ়ার’, বলেছেন ডাঃ মুখোপাধ্যায়। সিআরভিও হলে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া এবং দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি কতটা ক্ষতিকর?
ডাঃ মুখোপাধ্যায়ের সংযোজন করেন, ‘প্রেশার খুব বেশি থাকলে চোখের ভিতর যেসকল অপটিক নার্ভ থাকে, তারও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।’ এই অবস্থায় চোখে রক্তপাত হতে পারে। একে চিকিৎসার ভাষায় হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি বলা হয়ে থাকে।
হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি কি গর্ভবতীদেরও হয়?
হাইপারটেনশনের ভয় রয়েছে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের। অনেক সময় গর্ভাবস্থায় হবু মায়ের ব্লাড প্রেশার অত্যাধিক বেড়ে যেতে পারে। যাকে বলে প্রেগন্যান্সি হাইপারটেনশন কিংবা ‘একলাম্পসিয়া’। এই অবস্থা তৈরি হলে মস্তিষ্কে রক্তপাতও হয়। এই পর্যায়ে পৌঁছানোর ঠিক আগে চোখের উপর প্রভাব পড়ে। আর তখন দৃষ্টিশক্তি কমে আসে। এই লক্ষণ দেখে বোঝা যায়, ‘একলাম্পসিয়া’ খারাপ দিকেই এগোচ্ছে ও এক্ষুনি সিজ়ার করাতে হবে, অন্যথায় মা এবং সন্তানের ক্ষতিও হতে পারে। এটিও হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথিরই অংশ বলে জানান ডাঃ মুখোপাধ্যায়।
অস্ত্রোপচারের সময় প্রেশার কন্ট্রোলে রাখা দরকার কেন?
এ ছাড়াও অস্ত্রোপচারের সময় প্রেশার বারবার যাচাই করা প্রয়োজন। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ থাকা অবস্থায় অস্ত্রোপচার করলে চোখে রক্তপাতও হতে পারে ও চোখ নষ্টও হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ডাঃ মুখোপাধ্যায়। তথ্যসূত্র: এই সময়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org