দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ক্লিনজ়িং, টোনিং এবং ময়েশ্চারাইজ়িং- এই তিন ধাপ মেনে চললে ত্বকের সমস্যাও দূরে থাকে। এর বাইরে ত্বকের যত্ন নেওয়ার সময় হয় না। যে কারণে মাঝেমধ্যে ফেসিয়ালও করান। তাও খরচ সাপেক্ষ।

তাই সপ্তাহান্তে ত্বকের যত্ন নিন একটু ভিন্নভাবে। আপনি ঘরে বসেই করুন ফেসিয়াল স্টিমিং। পার্লার গিয়েও ক্রিম মালিশের পর মুখে গরম পানির ভাপ দেওয়া হয়। যদিও সেই ক্ষেত্রে ফেস স্টিমার ব্যবহার করা হয়। মুখে গরম পানির এই ভাপ নেওয়ার প্রক্রিয়াকে ফেসিয়াল স্টিমিংও বলে। এটা পার্লারে না গিয়ে ঘরে বসেই করা সম্ভব।
ফেসিয়াল স্টিমিং করলে ত্বকের কী উপকার হয়?
ত্বকের উপর যেসব ময়লা, ধুলোবালি, জীবাণু বাসা বাঁধে থাকে, সেগুলো পরিষ্কার করে দেয় এই ফেসিয়াল স্টিমিং। গরম পানির ভাপ নিলে ত্বকের রন্ধ্রগুলো খুলে যায়। তখন ভিতর হতে সমস্ত ময়লা বেরিয়ে আসে। ত্বকে থাকা জীবাণু গরম ভাপে নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি ব্ল্যাকহেডস এবং হোয়াইটহেডসের সমস্যা কমে যায়। অর্থাৎ ডিপ ক্লিনজ়িংয়ের কাজও করে এই ফেসিয়াল স্টিমিং।
এই ফেসিয়াল স্টিমিং নিলে ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে ও ত্বক দীপ্তিময় হয়ে ওঠে। এই পদ্ধতি ত্বকের কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দিতেও সাহায্য করে। সেইসঙ্গে ব্রণ-ফুস্কুড়ির সমস্যা থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। এমনকী ত্বকে কোলাজেন উৎপাদনও বাড়িয়ে দেয়। এতে করে ত্বক টানটান থাকে ও ত্বক সতেজ দেখায়।
কীভাবে বাড়িতে ফেসিয়াল স্টিমিং করবেন?
প্রথমেই একটি পাত্রে পরিমাণ মতো গরম পানি নিতে হবে। তবে ফুটন্ত গরম পানি না হলেও চলবে। এবার এই পানিতে ২ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে দিতে হবে। তারপর মাথায় তোয়ালে ঢাকা দিয়ে গরম পানিতে ভাপ নিতে হবে। এই গরম ভাপ যেনো আপনার নাকে, মুখে এবং গলায় পৌঁছায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
ফেসিয়াল স্টিমিং নেওয়ার পূর্বে অবশ্যই মুখে ক্লিনজ়ারের মাধ্যমে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। ৫ হতে ১০ মিনিট ফেসিয়াল স্টিমিংও নিতে পারেন। ভাপ নেওয়া শেষ হলে ২-৩ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এরপর জেল ভিত্তিক ময়েশ্চারাইজ়ার মেখে নিতে হবে। সপ্তাহে একদিন এই ফেসিয়াল স্টিমিং করলে ত্বক সৌন্দর্য অটুট থাকবে। তথ্যসূত্র: এই সময়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org