দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শুধু নায়ক নয়, খলনায়ক হিসেবেই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। এক সময় পর্দায় তার মুখ দেখলেই দর্শকের গা যেনো শিউরে উঠতো।

বলিউডের সেই কিংবদন্তি খলনায়ক প্রেম চোপড়া ইতিমধ্যেই ৯০–এ পা দিয়েছেন। প্রেম চোপড়া এ যাবত ৪০০-রও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার সংলাপ এবং চরিত্র আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মের দর্শকদের মুখে মুখে ফেরে।
প্রেম চোপড়ার শুরু
প্রেম চোপড়া ১৯৬১ সালে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। ছোটবেলায় তার বাবা চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তবে স্নাতক হওয়ার পর তিনি মুম্বাই পাড়ি জমান অভিনেতা হওয়ার উদ্দেশ্যেই। শুরুতেই নায়ক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে চলচ্চিত্রে আসেন, কিছু পাঞ্জাবি ছবিতে নায়ক চরিত্রে অভিনয়ও করেন। তবে হিন্দি ছবিতে নায়ক হিসেবে সেভাবে সাফল্য পাননি তিনি। ধীরে ধীরে খলনায়ক চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব আসতে শুরু করে, তাতেই ঘটে মোড় ঘোরা।
খলনায়ক হিসেবে উত্থান যেভাবে
প্রেম চোপড়া হলেন সেইসব খলনায়কদের একজন, যাকে দর্শকরা সিনেমার বাইরে গিয়েও তাকে ‘ভিলেন’ বলেই মনে করতেন। একঝলক তার চেহারা, হাঁটাচলা দেখলেই দর্শকরা আঁচ করতে পারতেন- এই ছবির খলনায়ক তিনিই।
অথচ তার ইচ্ছাই ছিল নায়ক হওয়ার। ‘ববি’, ‘দো অঞ্জানে’, ‘ত্রিশূল’, ‘রাজার বাবু’, ‘সৌতান’, ‘দোস্তানা’র মতো সিনেমাতে তিনি নায়কদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দর্শকদের মাতিয়েছেন।
প্রেম চোপড়ার পরিবার
৬ ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয় প্রেম চোপড়া। তিনি পড়াশোনা করেছেন পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে। নাট্যচর্চা থেকে সিনেমাতে যাত্রা শুরু। স্ত্রী উমাকে নিয়েই সংসার তার। এই দম্পতির তিন কন্যা- রাকিতা, পুনিতা এবং প্রেরণা। বড় মেয়ে রাকিতা চিত্রনাট্যকার রাহুল নন্দাকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় মেয়ে পুনিতা গায়ক এবং টেলিভিশন অভিনেতা বিকাশ ভল্লার স্ত্রী। ছোট মেয়ে প্রেরণার স্বামী বলিউড অভিনেতা শারমান যোশি, যিনি ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর মতো ৩৫০ কোটির ব্লকবাস্টার সিনেমাতে অভিনয় করেছেন।
প্রেম চোপড়ার আইকনিক সংলাপ
১৯৭৩ সালের ‘ববি’ সিনেমাতে প্রেম চোপড়ার সংলাপ ছিল- ‘প্রেম…প্রেম নাম হ্যায় মেরা…প্রেম চোপড়া’। এই এক সংলাপেই তিনি যেনো অমর হয়ে যান। তারপর থেকে তাকে দেখলেই দর্শকদের মনে পড়ে যেতো সেই সংলাপটি।
প্রেম চোপড়ার প্রথম সিনেমা
প্রেম চোপড়া প্রথম অভিনয় করেছিলেন ১৯৬০ সালের সিনেমা ‘মুড় মুড় কে না দেখ’-এ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময় খলনায়ক চরিত্রেই অভিনয় করে গেছেন প্রেম চোপড়া। তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org