দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে একটি বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনে বলা হয় যে, পৃথিবীর চুম্বকীয় ক্ষেত্র (magnetic field) প্রায় ৮ মিলিয়ন বছর ধরে একটি গুতর্-গলন (glitch) করেছে- এবং এটি ক্রমেই “বিস্ময়করভাবে” বাড়ছে। এই বিভ্রান্তির নাম South Atlantic Anomaly বা SAA।

কী ঘটছে?
পৃথিবীর চুম্বকীয় ঢাল (magnetic shield) হলো সৌর কণা (solar particles) থেকে আমাদের রক্ষা করে। তবে SAA হলো এমন একটি দুর্বল অঞ্চল যেখানে এই ঢাল খাটপাট করছে। -Popular Mechanics
এই অঞ্চল দক্ষিণ আমেরিকার উপরে থেকে আফ্রিকার দিকে ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে। -Popular Mechanics
এখানে স্যাটেলাইট ইলেকট্রনিক্সে বিরল ত্রুটি হচ্ছে- যদিও এখন পর্যন্ত গ্রাউন্ড লেভেলে মানুষের জীবনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব নেই।
-Popular Mechanics
কেনো এটি আজব?
চোখে না দেখা হলেও, পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গতিপথ কিংবা “জিওডায়নামো” (geodynamo) এমনভাবে কাজ করছে যে আমাদের জীবনের জন্য স্বাভাবিক মনে হয় এমন চুম্বক ক্ষেত্র ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। এটি আজব কারণ-
এটি ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে এবং বিজ্ঞানীদেরও পুরোপুরি সমাধান হয়নি।
এই পরিবর্তনের ফল আমাদের দৈনন্দিনে খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না, তাই হয়তো আমরা বিষয়টা গুরুত্বই দিচ্ছি না, তবে সময়ের দিকে তাকালে বিষয়টি বড়। প্রাকৃতিকভাবে এত বড় ধরনের পরিবর্তন দৃষ্টিগোচর হয় না; তাই এর “অলৌকিকতা” রয়েছে।
ভাববার বিষয়
এই ধরণের পরিবর্তন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, পৃথিবী স্থির নয়, পরিবর্তনের মধ্যেই রয়েছে। প্রযুক্তিগত যতই উন্নত হই না কেনো, আমরা প্রকৃতির বৃহত্তর গতিপথে শুধু এক অংশ। SAA-র পরিবর্তন আমাদের জন্য সতর্কবার্তা।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org