দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ হঠাৎ করে পেট কামড়ানো বা পেটে মোচড় দেওয়া ব্যথা অনেকেরই পরিচিত একটি সমস্যা। কখনো নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই এ ধরনের ব্যথা শুরু হয়, আবার কখনো খাবার, মানসিক চাপ বা শারীরিক সমস্যার ফলেও পেট কামড়াতে পারে।

এই ব্যথা হালকা অস্বস্তি থেকে শুরু করে তীব্র যন্ত্রণার রূপ নিতে পারে, যা দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত করে। তাই কারণে অকারণে পেট কামড়ানো হলে এর সম্ভাব্য কারণ জানা ও সঠিক করণীয় সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
পেট কামড়ানোর অন্যতম সাধারণ কারণ হলো হজমের সমস্যা। অনিয়মিত খাবার খাওয়া, তেল-মসলাযুক্ত বা বাসি খাবার গ্রহণ, দ্রুত খাওয়া কিংবা অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে পাকস্থলীতে গ্যাস ও এসিড তৈরি হয়, যা পেটে মোচড় সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার সময়ও পেট কামড়ানো অনুভূত হয়। অনেক ক্ষেত্রে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ অন্ত্রের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলে, ফলে ‘ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম’ (IBS)-এর মতো সমস্যায় ঘন ঘন পেট ব্যথা দেখা দেয়।
পেট কামড়ালে প্রথমেই বিশ্রাম নেওয়া উচিত। শরীরকে কিছুটা আরাম দিলে অনেক সময় ব্যথা নিজে থেকেই কমে যায়। হালকা গরম পানির সেঁক পেটে দিলে পেশি শিথিল হয় এবং ব্যথা উপশমে সাহায্য করে। গ্যাসজনিত সমস্যায় গরম পানীয়, যেমন- হালকা গরম পানি বা আদা চা আরাম দিতে পারে।
খাদ্যাভ্যাসের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। পেট কামড়ানোর সময় ভারী, তেলযুক্ত ও ঝাল খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। পরিবর্তে সহজপাচ্য খাবার যেমন- ভাত, সেদ্ধ সবজি, কলা বা টোস্ট খাওয়া যেতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করলে হজম ভালো হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমে। নিয়মিত সময়মতো খাবার খাওয়ার অভ্যাস পেটের নানা সমস্যা প্রতিরোধে সহায়ক।
কিছু ঘরোয়া উপায়ও পেট কামড়ানো কমাতে সাহায্য করে। সামান্য আদা বা মৌরি চিবানো, অল্প গরম পানি পান করা কিংবা পুদিনা চা অন্ত্রের খিঁচুনি কমাতে কার্যকর হতে পারে। তবে নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ সেবন করা উচিত নয়, কারণ এতে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
যদি পেট কামড়ানো দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে বা ব্যথার সঙ্গে জ্বর, বমি, রক্তপাত, ওজন কমে যাওয়া কিংবা তীব্র দুর্বলতা দেখা দেয়, তবে এটি কোনো গুরুতর রোগের লক্ষণ হতে পারে। এ অবস্থায় দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
পেট কামড়ানোকে অবহেলা করা ঠিক নয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে এই সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সচেতন থাকলেই সুস্থ থাকা সহজ হয়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org