দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ হলিউডে অ্যানিমেটেড সিনেমা জগতে সবচেয়ে বেশি আয় করে রেকর্ড গড়লো ‘জুট্রোপলিস ২’। বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে এই সিনেমাটি আয় করেছে ১৭০ কোটি ডলার (১৩০ কোটি পাউন্ড)।

অনেক দেশে এই সিনেমাটি ‘জুটোপিয়া ২’ নামেই পরিচিত। এটি ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ইনসাইড আউট ২’-এর রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে। আগের রেকর্ডধারী ওই সিনেমাটি সেই সময় আয় করেছিল ১৬৯ কোটি ডলার।
বিশ্ব বক্স অফিসের ইতিহাসে সব ধরনের সিনেমার তালিকায় ‘জুট্রোপলিস ২’ বর্তমানে নবম সফল সিনেমা। তার আগে রয়েছে ‘অ্যাভাটার’, ‘টাইটানিক’, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ ও ‘স্টার ওয়ার্স: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেনস’-এর মতো ব্লকবাস্টার সব সিনেমা।
তবে ‘জুট্রোপলিস ২’ হলিউডে রেকর্ড গড়লেও বিশ্বের সর্বোচ্চ আয় করা অ্যানিমেটেড সিনেমা অবশ্য এটি নয়। সেই মুকুট এখনও চীনের ‘নে ঝা ২’-এর দখলে। গত বছর মুক্তি পাওয়া ওই সিনেমাটি আয় করে ২২০ কোটি ডলার (১৬৫ কোটি পাউন্ড)।
‘নে ঝা ২’ নামে গত বছর মুক্তি পাওয়া ওই সিনেমাটি আয় করে ২২০ কোটি ডলার (১৬৫ কোটি পাউন্ড)।
২০১৬ সালের হিট সিনেমা ‘জুট্রোপলিস’-এর সিক্যুয়েল হচ্ছে এই ‘জুট্রোপলিস ২।
গত নভেম্বর মাসে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমার বাজেট ছিল আনুমানিক ১৫ কোটি ডলার (১১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড)।
এই সিনেমার গল্পে দেখা যায়, খরগোশ পুলিশ অফিসার জুডি হপস (কণ্ঠ দিয়েছেন জিনিফার গুডউইন) ও তার সঙ্গী ধূর্ত শিয়াল নিক ওয়াইল্ড (জেসন বেটম্যান) আবারও এক হয়েছে। এবার তাদের মিশন হলো গ্যারি ডি’স্নেক (কি হুই কুয়ান) নামে এক রহস্যময় সরীসৃপকে খুঁজে বের করা।
ডিজনি এন্টারটেইনমেন্টের কো-চেয়ারম্যান অ্যালান বার্গম্যান এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, ‘এই মাইলফলকটি সবার আগে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সেইসব ভক্তদের, যাদের উৎসাহ এটি সম্ভব করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের নির্মাতাদের নিয়ে ভীষণভাবে গর্বিত। জুটোপিয়া ২ একটি অসাধারণ অর্জন। যারা এই সিনেমাটিকে জীবন্ত করে তুলেছেন, তাদের সবার প্রতিই আমরা কৃতজ্ঞ।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘থ্যাঙ্কসগিভিং’ উপলক্ষে মুক্তির সময়ই সিনেমাটি অ্যানিমেটেড ছবির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ওপেনিং উইকেন্ডের রেকর্ড গড়ে। এ ছাড়াও হলিউডের অ্যানিমেটেড সিনেমা হিসেবে এটিই সবচেয়ে দ্রুত বিশ্বজুড়ে ১০০ কোটি ডলার (৭৫ কোটি পাউন্ড) আয়ের মাইলফলক স্পর্শ করে।
ফ্যান্টাসি অ্যাডভেঞ্চার সিনেমা ‘নে ঝা ২’ অবশ্য এখনও বেশ ভালো ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। এর ২২০ কোটি ডলার আয়ের বড় অংশই এসেছে চীন হতে।
সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা ১০টি সিনেমার তালিকা দেখে নিন:
১) অ্যাভাটার (২০০৯)- ২৯২ কোটি ডলার
২) অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম (২০১৯)- ২৭৯ কোটি ডলার
৩) টাইটানিক (১৯৯৭)- ২২৬ কোটি ডলার
৪) অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অফ ওয়াটার (২০২২)- ২২৫ কোটি ডলার
৫) নে ঝা ২ (২০২৫)- ২২১ কোটি ডলার
৬) স্টার ওয়ার্স: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেনস (২০১৫)- ২০৭ কোটি ডলার
৭) অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার (২০১৮)- ২০৫ কোটি ডলার
৮) স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম (২০২১)- ১৯২ কোটি ডলার
৯) জুটোপিয়া ২ (২০২৫)- ১৭০ কোটি ডলার
১০) ইনসাইড আউট ২ (২০২৪)- ১৬৯ কোটি ডলার।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org