দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শীতকালীন সবজির তালিকায় সিমের জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। সবুজ রঙের এই সবজি শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। গ্রাম থেকে শহর- সবখানেই সিম সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী।

পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে সিম খেলে শরীরের নানা উপকার পাওয়া যায়। সিমে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্যআঁশ, যা হজমশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। আঁশ অন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। যারা পেটের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য সিম একটি উপকারী সবজি হতে পারে।
এই সবজিতে ভিটামিন সি ও ভিটামিন এ পাওয়া যায়। ভিটামিন সি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। ভিটামিন এ চোখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং ত্বক ভালো রাখতে সহায়ক। এছাড়া সিমে ফলেট (ভিটামিন বি৯) রয়েছে, যা রক্ত তৈরিতে ও কোষ গঠনে সহায়ক।
সিমে ক্যালরি কম থাকলেও এতে উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের উপস্থিতি রয়েছে। ফলে এটি নিরামিষভোজীদের জন্য একটি ভালো পুষ্টির উৎস হতে পারে। পাশাপাশি এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হৃদ্যন্ত্রের সুস্থতায় ভূমিকা রাখে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ হওয়ায় সিম শরীরের কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিক্যাল থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত সিম খেলে দীর্ঘমেয়াদি কিছু রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। এছাড়া এতে থাকা আয়রন রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক।
তবে সিম ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া উচিত। কাঁচা বা আধা সেদ্ধ সিম খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে। যাদের গ্যাসের সমস্যা রয়েছে, তারা পরিমিত পরিমাণে সিম খাওয়াই উত্তম।
সিম একটি পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত সবজি। সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে সিম যুক্ত করলে শরীর পাবে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও আঁশ, যা সুস্থ জীবনযাপনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org