দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ একজন বাঙালি অভিনেত্রী হয়েও মুম্বাই পাড়ি জমিয়ে বলিউডেও নিজের শক্ত অবস্থান গড়েছেন মৌনি রায়। ভালোবেসেই সুরাজ নাম্বিয়ারের সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন এই অভিনেত্রী। তবে কিছু দিন ধরে গুঞ্জন উঠেছে ভেঙে যাচ্ছে এই অভিনেত্রীর সংসার।

মৌনির বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে নানা ধরনের চর্চা চললেও নীরবই ছিলেন তিনি। তবে আড়াল ভেঙে এবার মুখ খুললেন এই অভিনেত্রী। ইনস্টাগ্রামে স্টোরিতে দেওয়া এক পোস্টে মৌনি লিখেছেন ‘সকল মিডিয়া হাউজকে আমি বিনীত অনুরোধ করছি বিয়ে নিয়ে নানা ধরনের মিথ্যা গল্প প্রকাশ করবেন না। আমাদের একটু একা থাকতে দিন এবং গোপনীয়তা রক্ষা করুন।’
সিয়াসাত ডটকম এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মৌনি রায় এবং সুরাজ নাম্বিয়ারের সংসার ভাঙার গুঞ্জন চাউর হয়েছে। ইনস্টাগ্রামে তারা পরস্পরকে আনফলোও করেছেন। এমনকি মৌনির সঙ্গে তোলা ছবি সুরাজ তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হতে ডিলিট করে ফেলেছেন। তবে তাদের পুরোনো কয়েকটি ছবি এখনও কিন্তু দেখা যাচ্ছে। তারপর এই জুটির বিচ্ছেদের চর্চা আরও জোরালো হয়েছে।
করোনা মহামারির সময় দুবাই আটকা পড়েন মৌনি রায়। ওই সময় পেশায় ব্যাংকার সুরাজের সঙ্গে তার বেশ ভালো সময় কাটে। পরে তা প্রেমের সম্পর্কেই রূপ নেয়। দুবাই প্রবাসী সুরাজ নাম্বিয়ারের সঙ্গে মৌনির প্রেম এবং বিয়ের গুঞ্জন নিয়েও আলোচনা কিন্তু কম হয়নি। সবকিছুর ইতি টেনে ২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি সাতপাকে বাঁধা পড়েন তারা।
আর টিভি ধারাবাহিকে খ্যাতির পর অক্ষয় কুমার অভিনীত ‘গোল্ড’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন মৌনি রায়। ‘কেজিএফ চ্যাপ্টার ওয়ান’ সিনেমার ‘গলি গল’ গানে নেচে বেশ জনপ্রিয়তা পান মৌনি। তারপর ‘রোমিও আকবর ওয়াল্টার’ ‘মেড ইন চায়না’ ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ ‘ব্ল্যাকআউট’ প্রভৃতি সিনেমায় অভিনয় করেন এই অভিনেত্রী।
মৌনি রায়কে সর্বশেষ দেখা গেছে, ‘সালাকার’ সিরিজে। থ্রিলার ঘরানার এই সিরিজটি পরিচালনা করেন ফারুক কবির। গত বছরের ৮ আগস্ট ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জিওহটস্টারে মুক্তি পায় এই সিরিজটি।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org