দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বলিউড থেকে হলিউডের লিডিং লেডি হয়ে ওঠার পথটা প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার জন্য কোনো রূপকথায় ছিল না। এর পেছনে ছিল অক্লান্ত এক পরিশ্রম।

তবে সম্প্রতি দেওয়া তার এক সাক্ষাৎকার প্রমাণ করলো, তিনি এখন গ্লোবাল এন্টারটেইনমেন্টের সেই চূড়ায় পৌঁছে গেছেন যেখানে চিত্রনাট্যই তার জন্য অপেক্ষা করে।
একদিকে যেমন অস্কারজয়ী ফিলানথ্রোপিস্ট অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সঙ্গে কোলাবোরেশন, অপরদিকে এস এস রাজামৌলি’র চার মহাদেশ জুড়ে শুট করা মেগা প্রজেক্ট ‘বারাণসী’, প্রিয়াঙ্কা বর্তমানে বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিশালী গ্লোবাল পাওয়ার হাউজ।
তবে প্রিয়াঙ্কা জোলির সঙ্গে কাজ করার কথা বললেও প্রজেক্টের ধরন গোপনই রেখেছেন। বিনোদন বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র বড় পর্দার সিনেমা নাও হতে পারে। যেহেতু অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া দুজনেই জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের শুভেচ্ছাদূত ও বিশ্ব জুড়ে নারী এবং শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন, তাই এটি একটি বড় ধরনের বৈশ্বিক সমাজকল্যাণমূলক প্রজেক্ট বা মার্ভেল কিংবা সিটাডেলের মতো কোনো আন্তর্জাতিক স্পাই-অ্যাকশন প্রজেক্ট হতে পারে। জোলির পাশাপাশি পেনেলোপ ক্রুজ এবং সালমা হায়েকের মতো গ্লোবাল ডিভাদের নিজের অনুপ্রেরণা বলায় ইঙ্গিত মেলে যে প্রিয়াঙ্কা বর্তমানে খাঁটি হলিউড এ-লিস্টার বৃত্তেরই অংশ।
এবার প্রিয়াঙ্কা ভারতীয় সিনেমায় ফিরছেন এক অবিশ্বাস্য প্রজেক্টের মাধ্যমে। এস এস রাজামৌলি তার স্বভাবসুলভ লার্জার-দ্যান-লাইফ ক্যানভাসে নির্মাণ করছেন ‘বারাণসী’। গত ৩ বছর ধরে অত্যন্ত গোপনে জর্জিয়ার বরফাবৃত পাহাড়, অ্যান্টার্কটিকার প্রতিকূল আবহাওয়া ও আফ্রিকার জঙ্গলে এটির শুটিং হয়েছে।
২০২৭ সালের এপ্রিলে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা এই অ্যাডভেঞ্চার ড্রামাটি ভারতীয় সিনেমার স্কেলকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাবে বলে মনে করেন প্রিয়াঙ্কা। নবাগত হিসেবে হলিউডে যে প্রিয়াঙ্কাকে ছোটখাটো চরিত্রের জন্য স্ট্রাগল করতে হয়, এবার ২০২৬-এ এসে তিনি নিজেই নিজের প্রজেক্টের ক্রিয়েটর।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org