দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারের ফলে ডেটা সেন্টারের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়ে গেছে।

এআই মডেল প্রশিক্ষণ, ক্লাউড কম্পিউটিং, ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন ব্যাংকিং এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনার জন্য বিশাল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াকরণ করতে হয়। এই কাজগুলো পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হলো আধুনিক ডেটা সেন্টার।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগ করছে। কারণ উন্নত এআই মডেল পরিচালনার জন্য হাজার হাজার উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রসেসর একসঙ্গে কাজ করে। এর ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহার, কুলিং ব্যবস্থা এবং উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগের চাহিদাও ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
ডেটা সেন্টারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তথ্যের নিরাপত্তা। আধুনিক কেন্দ্রগুলোতে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ প্রযুক্তি, বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকে। এতে তথ্য হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে এবং অনলাইন সেবার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য ডেটা সেন্টার হবে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। শুধু বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নয়, ব্যাংক, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি সংস্থাগুলোকেও নিরাপদ ডেটা ব্যবস্থাপনার দিকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশেও ডেটা সেন্টার খাতে বিনিয়োগ ধীরে ধীরে বাড়ছে। দেশীয় ক্লাউড সেবা, ই-গভর্ন্যান্স, অনলাইন শিক্ষা এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে নির্ভরযোগ্য ডেটা অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের ডেটা সেন্টার গড়ে তুলতে পারলে দেশীয় তথ্য সংরক্ষণ আরও নিরাপদ হবে এবং বিদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ আকর্ষণ করাও সহজ হবে।
আগামী কয়েক বছরে এআই, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ইন্টারনেটভিত্তিক সেবার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে ডেটা সেন্টারের সংখ্যা এবং সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যে কারণে এই খাত প্রযুক্তি শিল্পের অন্যতম কৌশলগত ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org