The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

এআই চালাতে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণে প্রতিযোগিতা

প্রযুক্তির অগ্রগতি নাকি নতুন জ্বালানি সংকট?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন ধরনের অবকাঠামোগত প্রতিযোগিতা।

এআই চালাতে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণে প্রতিযোগিতা 1

আগে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো মূলত দ্রুতগতির প্রসেসর, উন্নত সফটওয়্যার বা নতুন এআই মডেল তৈরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করত। এখন সেই প্রতিযোগিতার বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বিশাল আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণ। কারণ আধুনিক এআই মডেল প্রশিক্ষণ এবং পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ কম্পিউটিং শক্তি, বিদ্যুৎ এবং উন্নত কুলিং ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। ফলে বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে নতুন ডেটা সেন্টার গড়ে তুলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরে এআই-নির্ভর কম্পিউটিংয়ের চাহিদা এত দ্রুত বাড়বে যে ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক ডেটা সেন্টার সক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। এই সম্প্রসারণে কয়েক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। ক্লাউড কম্পিউটিং এবং জেনারেটিভ এআই-এর জনপ্রিয়তা এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

তবে এই উন্নয়নের সঙ্গে একটি বড় চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে- বিদ্যুতের চাহিদা। আধুনিক এআই ডেটা সেন্টারগুলো প্রচলিত ডেটা সেন্টারের তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। ফলে অনেক দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন এবং বিতরণব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। এ কারণেই শুধু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নয়, বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোও এখন এআই অবকাঠামোকে ঘিরে বড় বিনিয়োগ শুরু করেছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল গ্রিড যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ অবকাঠামো উন্নয়নে ১.৭৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে, যা এআই-চালিত বিদ্যুৎ চাহিদা বৃদ্ধিরই একটি প্রতিফলন।

পরিবেশগত প্রভাবও এখন বড় আলোচনার বিষয়। ডেটা সেন্টারের সার্ভার ঠান্ডা রাখতে প্রচুর পানি ও বিদ্যুৎ লাগে। এ কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন কুলিং প্রযুক্তি, সৌরবিদ্যুৎ, পারমাণবিক শক্তি এবং অন্যান্য বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। উদাহরণ হিসেবে, কিছু নতুন প্রকল্পে ক্ষুদ্র পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করে ডেটা সেন্টারে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উন্নত লিকুইড কুলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে পানি ব্যবহারের পরিমাণ কমানোরও চেষ্টা চলছে।

ডেটা সেন্টার নির্মাণেও আসছে নতুন প্রযুক্তি। বর্তমানে কিছু বড় প্রকল্পে স্বয়ংক্রিয় রোবট ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ হওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে মানুষের কাজ করার প্রয়োজনও কমছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে ডেটা সেন্টার নির্মাণে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতির ব্যবহার আরও বাড়বে।

এদিকে এশিয়াতেও এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণ দ্রুত এগোচ্ছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক ডেটা সেন্টার কোম্পানি BDx এআই-চাহিদা বৃদ্ধিকে সামনে রেখে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে এবং ভবিষ্যতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে। এটি প্রমাণ করে যে এআই অবকাঠামো এখন শুধু প্রযুক্তি নয়, বৈশ্বিক বিনিয়োগেরও অন্যতম আকর্ষণীয় খাতে পরিণত হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ডেটা সেন্টারের দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার সমন্বয় করা না গেলে ভবিষ্যতে নতুন ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। তাই প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ডেটা সেন্টারই হয়ে উঠছে ডিজিটাল বিশ্বের নতুন ভিত্তি। আগামী কয়েক বছরে যে দেশ এবং প্রতিষ্ঠান দ্রুত, দক্ষ এবং পরিবেশবান্ধব ডেটা সেন্টার গড়ে তুলতে পারবে, তারাই বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে। একই সঙ্গে এই প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতের জ্বালানি, পরিবেশ এবং প্রযুক্তি নীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

bn_BDBengali