কাতারে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২ প্রস্তুতিতে নিপীড়িত হচ্ছে বাংলাদেশী সহ নির্মাণ শ্রমিকরা : অ্যামনেস্টি

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক॥ কাতারে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২ অনুষ্ঠিত হবে ফলে সেখানে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে কাজে লাগানো হচ্ছে হাজার হাজার প্রবাসী শ্রমিক। তবে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন বলছে কাতারে এসব শ্রমিকদের সাথে করা হচ্ছে অমানবিক নির্যাতন এবং শ্রমিকদের সাথে করা হচ্ছে আধুনিক যুগে প্রাচীন দাস প্রথার মত ব্যবহার!


article-2286978-0B369532000005DC-73_634x442

সংক্ষেপেঃ

  • কাতারে অনুষ্ঠিত হবে ২০২০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল ফলে তারা বিশ্বকাপ স্থাপনা নির্মাণে অসংখ্য প্রবাসী শ্রমিক কাজে লাগাচ্ছে।
  • কাতারে বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে নিয়োজিত আছে ৩০ হাজার বাংলাদেশী সহ অসংখ্য শ্রমিক।
  • প্রতিদিন গড়ে সেখানে ১ জন করে শ্রমিক মারা যাচ্ছে।
  • ফিফা বলছে কাতার ঠিক পথেই আছে!

Protest outside Fifa headquarters
বিস্তারিতঃ কাতার ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২২ এর আয়োজক দেশ হওয়ার সুবাদে সেদেশে অবকাঠামো নির্মাণে খরচ করছে বিশাল অর্থনীতিক বাজেট একই সাথে সেখানে এশিয়া, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে নেয়া হয়েছে অসংখ্য শ্রমিক এসব শ্রমিকের মাঝে রয়েছে অসংখ্য বাংলাদেশী শ্রমিক। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম দি গার্ডিয়ান তাদের এক প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক ভয়ংকর প্রতিবেদন তুলে ধরেছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে কেবল মাত্র বাংলাদেশী শ্রমিকের সংখ্যা হিসেবে দেখা যায় সেখানে ৩০ হাজারের উপর শ্রমিক কর্মরত রয়েছে কেবল মাত্র বিশ্বকাপ সামনে রেখে অবকাঠামো নির্মাণে। এসব শ্রমিকদের বেশীরভাগ সে দেশে গিয়েছে বিভিন্ন সাব কনট্রাক্টরের তত্ত্বাবধায়নে এবং তাদের সকল দায়িত্ব সুবিধা অসুবিধা দেখভাল করার দায়িত্বও ঐ সব সাব কনট্রাক্টরের ফলে কাতারের মূল বিশ্বকাপ স্থাপনা বিনির্মাণ কমিটি এসব শ্রমিকের সুযোগ সুবিধার বিষয়ে মাথা ঘামায়না। ফলে শ্রমিকরা উন্নত জীবন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাথে কাজ করার স্বপ্নে জীবন ফেরাতে সে দেশে গেলেও সেখানে তারা কাটাচ্ছে মানবেতর জীবন। সেখানে তাদের গাধার মত পরিশ্রম করাচ্ছে একই সাথে দেয়া হচ্ছেনা সামান্যতম মানবিক সুবিধা!

Qatar

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে অসংখ্য শ্রমিক কাজ করতে হিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে এবং তারা সেখানে অঙ্গ হারাচ্ছে পঙ্গু হয়ে দেশে এসেও কোন ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেনা। এসব শ্রমিকের কোন দায়িত্ব কাতার সরকার নিতে নারাজ কারণ তারা সাব কনট্রাক্টরের তত্ত্বাবধায়নে কাতার গিয়েছিল এবং কাতার সরকার এদের বিভিন্ন মেয়াদে ঐ কনট্রাক্টরদের থেকে ভাড়ায় নিয়েছে বিনিময়ে নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করেছে এখানে অন্য কোন চুক্তি নেই।

Protest at the Qatar Embassy Against Slavery

এছাড়াও অনেক শ্রমিক অমানবিক শ্রম এবং শারীরিক কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যাও করতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে যেয়ে আহত নিহত হচ্ছে বিনিময়ে তারা কিংবা তাদের আত্মীয় স্বজনরা কোন ক্ষতিপূরণও পাচ্ছেনা।

Qatar Economy On Track For Double Digit Growth

প্রতিবেদন অনুযায়ী কাতারে শ্রমিকরা দিনে ১২ ঘন্টা কাজ করছে এবং সপ্তাহে ৭ দিন টানা কাছ করে যাচ্ছে, কাতারের মরুভূমির ভয়ংকর গরম সহ্য করে এভাবে এক টানা কাজ সত্যি অমানবিক বলে মতামত দিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাটি।

এদিকে গত মাসে ১২ জনের অধিক নেপালি শ্রমিক নির্মাণ কাজ করতে যেয়ে মারা যায় এবং তাদের কোন রকম ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি সে সময়। পরে ফিফার নজরে বিষয়টি এলে ফিফা কাতার সরকারের সাথে এবিষয়ে বিস্তারিত জানতে চায়।

এখন পর্যন্ত এক জরিপে দেখা গেছে ১,০০০ এর উপর শ্রমিক উপর থেকে পরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়েছেন নতুবা পঙ্গু হয়ে গেছেন। এছাড়াও প্রচণ্ড গরমে কাজ করার সময় এসব শ্রমিকরা পানি খেতে পর্যন্ত পারেন না কিংবা তাদের সেই সুযোগ দেয়া হয়না ফলে পানি সল্পতায় অনেকেই শ্রমিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন।

শ্রমিকদের দাসের মত ব্যবহার করছে কাতার কর্তৃপক্ষ। কাতারের বিশ্বকাপের অবকাঠামোর প্রস্তুতি শুরুর পর থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে একজন করে শ্রমিকের মৃত্য হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এসব মৃত্যুর অর্ধেকের বেশি ঘটে হার্ট অ্যাটাকে এবং বাকিদের মৃত্যুর কারণ কাজের ক্ষেত্রে নানান দুর্ঘটনা। কাজের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সাথে অমানবিক ব্যবহার ও নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ তো রয়েছেই।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান অবশ্য বলছেন অন্য কথা, সম্প্রতি তিনি কাতার ঘুরে গিয়ে জানিয়েছেন কাতার সঠিক ভাবেই কাজ করছে। ফিফা কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে দিয়ে ভুল কিছু করেনি।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...