The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

তথ্য প্রযুক্তির সংক্ষিপ্ত সংবাদ (০৫-০১-১৩)

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে তথ্য প্রযুক্তির হাওয়া। তাইতো বর্তমান বিশ্বে তথ্য প্রযুক্তি ছাড়া ভাবাই যায় না। আজ তথ্য প্রযুক্তির সংক্ষিপ্ত সংবাদ (০৫-০১-১৩) এ বিশ্বের বেশ কিছু তথ্য প্রযুক্তির খবর তুলে ধরা হলো।
Paper Pendrive
এবার আসছে কাগজের পেনড্রাইভ

পেনড্রাইভের সঙ্গে সবাই পরিচিত। কিন্তু অদ্ভুত মনে হলেও সত্য এবার বাজারে আসছে কাগজের পেনড্রাইভ! সাধারণ কাগজ ব্যবহার করেই তৈরি হবে এই পেনড্রাইভ। ইউএসবি পোর্টে কাগজটি প্রবেশ করিয়ে পেনড্রাইভের যাবতীয় কাজ করা যাবে। ডিসকভারি নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএসবি ড্রাইভ বা পেনড্রাইভের ব্যবহার বর্তমানে এতটাই বেড়েছে যে, এখন তথ্য সংরক্ষণ বা স্থানান্তরের কাজে তা অহরহই ব্যবহূত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা কাগজ ব্যবহার করে সাধারণ পেনড্রাইভের মতো একটি পেনড্রাইভ তৈরির পরিকল্পনা করেছেন। এ পেনড্রাইভ একবার ব্যবহার শেষে দুমড়ে মুচড়ে আবর্জনা হিসেবে ফেলে দেয়া যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের ইনটেল আইপেপার নামের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলীরা কাগজের সঙ্গে সিলিকন চিপ যুক্ত করার একটি পদ্ধতি বের করেছেন, যার মাধ্যমে সাধারণ কাগজ ব্যবহার করেই পেনড্রাইভ তৈরি করা যায়। এ পেনড্রাইভ যেকোন কম্পিউটারের ইউএসবি পোর্টে ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় তথ্য স্থানান্তর করা যাবে। কাগজ অক্ষত থাকলে এটি আবার ব্যবহার করা যাবে। এ ইউএসবি ড্রাইভটিকে কাস্টমাইজ করে আবার যেকোন আকার দিয়ে আমন্ত্রণপত্র বা যেকোন কার্ড হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। পেনড্রাইভটি কিউ আর কোডের মতো কাজ করবে। কিউ আর কোড হচ্ছে দ্বিমাত্রিক চিত্রের আদলে বানানো বিশেষ এক ধরনের কোড। এ কোডের মধ্যে টেক্সট, ফোন নম্বর, ইমেইল ঠিকানা থেকে শুরু করে বিশেষ বা উল্লেখযোগ্য ঘটনার তারিখও দেয়া থাকে। এ ধরনের কোড মুঠোফোনের সাহায্যে স্ক্যান করা হলে ওয়েবসাইট লিংক তৈরি করতে পারে এবং স্মার্টফোনের পর্দায় সংশ্লিষ্ট তথ্য দেখাতে পারে। গবেষকরা বলেন, যন্ত্রের যুগে কাগজের ব্যবহার যতই কমানোর কথা ভাবুন না কেন এখনও চারপাশে কাগজ রয়েছে। এখনও মানুষের হাতে কাগজের বিজনেস কার্ড, জন্মদিনের কার্ড, নিমন্ত্রণপত্র, চাকরির আবেদনপত্র প্রচলিত রয়েছে। অনেক সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও গ্রাহকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইনটেল আইপেপার নামের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান তাই প্রচলিত কাগজ ব্যবহার করে পেনড্রাইভ তৈরির পরিকল্পনা করেছে। এজন্য পেটেন্ট আবেদনও করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

পেনড্রাইভের জন্য ইউএসবি ফ্রেশার

পেনড্রাইভ যখন পিসিতে যুক্ত করা হয় তখন অজান্তেই নানা ধরনের অপ্রয়োজনীয় সিস্টেম ফাইল (যেমন ঃযঁসনং.ফন, .ঃৎধংযবং, .ফং-ংঃড়ৎব ইত্যাদি) আপনার পেনড্রাইভে জমা হয়। এর ফলে প্রেনড্রাইভের পারফর্মমেন্স কমে যায়। তবে টংনভৎবংযবৎ নামক একটি সফটওয়্যার দিয়ে এসব ফাইল অটোমেটিক বা ম্যানুয়েলি ডিলিট করা যায়। এই সফটওয়্যার কমন ফাইলগুলোর লিস্ট করে অটো ডিলট করে থাকে। কিংবা চাইলে ইচ্ছামত ফাইল এক্সেটশন যোগ করা যায়। সফটওয়্যারটি দিয়ে কম্পিউটারের লোকাল ড্রাইভেরও অপ্রয়োজনীয় ফাইল সরানো যায়। সফটওয়্যারটি এই লিংক থেকে ডাউনলোড করা যাবে-htp://www.affinity-tools.com/usbfresher/

মোবাইল বিজ্ঞাপনে চাহিদা বাড়ছে

অনলাইন বিজ্ঞাপন আসায় বিপাকে পড়েছে প্রিন্ট মিডিয়া। অবাধ তথ্যনির্ভর প্রযুক্তিবিশ্বে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সব তথ্য তুলে ধরার সুযোগ নিতে চাইছে যেকোন প্রতিষ্ঠান। কারণ মোবাইল ফোনে একইসঙ্গে ক্রেতার লোকেশন ট্র্যাক করা যায়। এমনকি প্রতিষ্ঠানটি কোথায় বা পণ্যটি কোথায় পাওয়া যাবে তার ম্যাপও মোবাইলের মাধ্যমে দিয়ে দেয়া যায় সহজে। আর ক্যালেন্ডারে অ্যালার্টও দেয়া সম্ভব হচ্ছে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই মোবাইল বিজ্ঞাপনের বাজার জমে উঠছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। মোবাইলে অ্যাড স্পেসের জন্য খরচও অত্যন্ত কম। প্রিন্ট মিডিয়ার চেয়েও অনেক কমে নির্দিষ্ট সংখ্যাক ক্রেতার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে হালনাগাদ সব তথ্য। এ ছাড়াও যেসব প্রতিষ্ঠান অনলাইন কিংবা মোবাইলে বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন তারাও জানতে পারছে বিজ্ঞাপনটি কাজে আসছে কিনা। কিংবা কতজন তার তথ্যটি একবার হলেও ক্লিক করে দেখছেন। এর মাধ্যমে বিজ্ঞাপনে অর্থ ব্যয় পরিপূর্ণতা পাচ্ছে। যা প্রিন্ট মিডিয়ার বিজ্ঞাপনে কখনোই সম্ভব নয়। কয়েকদিন আগে ফেসবুক জানায়, মোবাইল ফোনের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের প্রতিষ্ঠান ১৫ কোটি মার্কিন ডলার আয় করে। যা মোট মুনাফার ১৪ ভাগ। প্যানডোরা থেকেও জানানো হয়, মোট মুনাফার ৫৮ ভাগ এসেছে মোবাইল বিজ্ঞাপন থেকে। এ হিসাবে পিছিয়ে নেই গুগলও। তারাও মোবাইল ফোনের বিজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে আয় করে মোট আয়ের ৫৬ ভাগ। এদিকে টুইটার এ বিষয়ে কোন তথ্য না দিলেও ভবিষ্যতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই সব প্রতিষ্ঠান অর্থ উপার্জন করবে বলে জানিয়েছে। তবে এখনও এগিয়ে আছে গুগল। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, মোবাইল ফোনে বিজ্ঞাপন যত জনপ্রিয় হবে, গুগলের আয়ও তত বাড়বে। কারণ অধিকাংশ প্রযুক্তিপ্রেমী যেকোন তথ্যের জন্য গুগলের ওপরই নির্ভর করে। গুগলের মতে, ফুডশপের তথ্য খুঁজতে গিয়ে ৩০ ভাগ মানুষ মোবাইলের মাধ্যমে গুগলে ঢুকেছেন। আর ২৫ ভাগ মানুষ মোবাইল দিয়ে গুগলে ঢুঁ মারেন বিভিন্ন ফিল্মের তথ্যের জন্য। তবে গুগল মূলত এগিয়ে গেছে ক্লিক টু কল বিজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে। এ বিজ্ঞাপনটি শুরু হওয়ার পর থেকে স্টারউড হোটেলের মোবাইল বুকিং বেড়ে যায় ২০ ভাগ।

ইউটিউবের গ্যাংনাম নাচ সর্বকালের রেকর্ড ভেঙেছে

তুমুল জনপ্রিয় ‘গ্যাংনাম স্টাইল’ নাচকে বিদায় জানালেন দক্ষিণ কোরীয় র‌্যাপ সংগীতশিল্পী সাই। গত ৩১ ডিসেম্বর নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে আয়োজিত এক কনসার্টে এমনটিই জানান তিনি। ইউটিউবে গত ২ জানুয়ারি পর্যন্ত ভিডিওটি দেখা হয় ১১০ কোটি ৯৬ লাখ ১১ হাজার ৪৫৬ কোটি বার। গত বছরের জুলাইয়ে প্রথম ইন্টারনেটে পোস্ট করা হয়েছিল এই গ্যাংনাম স্টাইল। এরপরই এই ভিডিও ক্লিপ আর এর স্রষ্টা সাই পেয়ে যান বিশ্বজোড়া খ্যাতি। কিছুদিন আগেই গ্যাংনাম স্টাইল নামের এই দক্ষিণ কোরীয় ভিডিওটি খবরের শিরোনাম হয়েছিল ইউটিউবের সবচেয়ে দর্শকনন্দিত হয়ে অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি লাইক পেয়ে।

এবার এই ভিডিওটি প্রথমবারের মতো পেরিয়েছে ১১০ কোটি ৯৬ লাখ ১১ হাজার ৪৫৬ কোটি দর্শকসংখ্যা। এযাবতকালে নির্মিত প্রথম ভিডিও হিসেবে এটি অতিক্রম করেছে এই ম্যাজিক ফিগার। এর মধ্য দিয়ে গ্যাংনাম স্টাইল ভেঙে দিলো পপস্টার জাস্টিন বিবারের বেইবি গানের মিউজিক ভিডিওর গড়া আগের রেকর্ড। ২০১৩ সালকে স্বাগত জানাতে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজিত ‘ডিক ক্লার্ক’স নিউ ইয়ারস রকিং ইভ কনসার্টে গান গাওয়ার এক পর্যায়ে সাই বলেন, নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে টাইমস স্কয়ারে উপস্থিত থাকতে পারাটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমার কাছে পুরো মহাবিশ্বের মধ্যে এ মঞ্চটিই সবচেয়ে বড়। তার ওপর আজ আমার ৩৫তম জন্মদিন। এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে অর্থপূর্ণ জন্মদিন। আমার মনে হয়, এতকিছু পাওয়ার পর এখন গ্যাংনাম স্টাইলকে বিদায় জানানোর সময় এসেছে, জানিয়েছে এমটিভি নিউজ।

সাই আরও বলেন, আর সব কিছুর মতো জনপ্রিয়তারও নির্দিষ্ট একটি স্থায়িত্ব থাকে। গ্যাংনাম স্টাইল যথেষ্ট জনপ্রিয়তা পেয়েছে, কিন্তু চিরকাল সেটা থাকবে না। এখন গানটির জনপ্রিয়তাকে ছাপিয়ে যেতে চাই আমি। সে লক্ষ্যে পরবর্তী গান তৈরির পেছনেই সময় ও শ্রম ব্যয় করছি। আমার প্রত্যাশা, নতুন এই গানটিও ঝড় তুলবে। ইউটিউবের স্বত্বাধিকারী গুগল জানিয়েছে, গড়ে প্রতিদিন ৭ মিলিয়ন থেকে ১০ মিলিয়ন বার দেখা হয়েছে গ্যাংনাম স্টাইল।

এ প্রসঙ্গে ইউটিউবের ট্রেন্ডস ম্যানেজার কেভিন অ্যালোকা বলেন, সাইয়ের গ্যাংনাম স্টাইলের এই আকাশছোঁয়া সাফল্য প্রমাণ করে, এর আকর্ষণীয় সুর, কথা আর নতুন ধারার নাচের আবেদন বিশ্বব্যাপী। তবে শুধু আনন্দ দেয়াই নয়, একই সঙ্গে মানুষকে অনুপ্রাণিতও করেছে গ্যাংনাম স্টাইল।
ব্রিটিশ আর্মি এবং থাই নেভির মতো সেনাবাহিনীর কঠিন মনের সদস্যদের অনুপ্রাণিত করেছে সাইয়ের এই ভিডিও ক্লিপ। ইউটিউবের গ্যাংনাম নাচকে বিদায় জানালেন সাই!

২০১২-এর সব ডুডল নিয়ে নতুন বছরে গুগল

২০১৩ সালের শুরুর দিকে নতুন এক ডুডল তৈরি করে সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগল। এ ডুডলে ২০১২ সালে গুগলের ডুডলগুলোর চরিত্রের সম্মিলন করা হয়েছে। সাধারণত বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির জন্ম অথবা মৃত্যু দিবসে এবং বিশেষ ঘটনা উপলক্ষে গুগল ডুডল তৈরি করে থাকে। ২০১২’র শুরুর দিনেও নতুন একটি ডুডল তৈরি করেছিল গুগল। ৩১ ডিসেম্বর ২০১১-তে নতুন ডুডলে নতুন বছরের শুরুর সময় দেখানো হয়েছিল। আর এবার দিল্লিতে ধর্ষণের কারণে নিহত তরুণীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভারতে নতুন বছরে ডুডল পোস্ট করেনি গুগল। এর বদলে ওই নারীর প্রতি সম্মান জানাতে সার্চ ইঞ্জিনটির এক কোণে একটি মোমবাতি দেখানো হয়। ১৯৯৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত হাজারটিরও বেশি ডুডল তৈরি করেছে গুগল। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মনে করিয়ে দেয় এই সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট। নতুন বছর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রথম ডুডলে ব্যবহার করা হয় গত বছরের সব ডুডল। সেখানে এক প্রান্তে দেখা যায় সুরকার ক্লারা শুমাকে। তার ১৯৩তম জন্মদিনে ওই ডুডল তৈরি করা হয়েছিল।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...