কাপড় পরা নিষেধ পৃথিবীর এমন এক গ্রামের গল্প!

আপনি নিজেও যদি নগ্ন হতে রাজি হন তাহলে সেইগ্রামে কিনতে পারবেন জমি!

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পৃথিবীতে কতো রকম বিধি নিষেধ রয়েছে তা গুণে শেষ করা যাবে না। তবে এবার এমন এক নিষেধাজ্ঞার কথা শোনা গেলো যা শুনলে বিস্মিত হতে হয়। এক দেশের এমন এক গ্রাম রয়েছে যেখানে সকলেই নগ্ন, কারণ সেখানে কাপড় পরা নিষেধ!

আমরা অনেক নগ্ন বিচের কথা শুনেছি, কিংবা নগ্ন অবকাশযাপন কেন্দ্রের কথাও অনেক সময় শোনা যায়। তবে নগ্ন গ্রামের কথা বোধহয় এবারই প্রথম শোনা গেলো! দক্ষিণ আমেরিকায় ঘনজঙ্গলে কিছু আদিবাসী রয়েছেন যারা এখনও সভ্যতার ছোঁয়া পাননি। তাদের কথা হলে ভিন্ন কথা ছিল। কিন্তু তা নয়। সভ্য সমাজে অর্থাৎ একটি সভ্য গ্রামেই এমন একটি ভৌতিক নিয়ম!

আপনি নিজেও যদি নগ্ন হতে রাজি হন তাহলে সেইগ্রামে কিনতে পারবেন জমি। অন্যথায় জমিও কিনতে পারবেন না, মিলবে না বাড়ি-ঘর বা বসবাসের কোনো সুযোগও! হয়তো আপনি অবাক হচ্ছেন? তবে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ঘটনাটি আসলেও সত্যি। সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যের হার্টফোর্ডশায়ারে অবস্থিত স্পিলপ্লাজ নামক একটি গ্রামে এমনই রীতি বিদ্যমান! কারণ হলো, ওই গ্রামে কেও কাপড়ই পরে না। তাই সেখানে আপনাকে থাকতে চাইলে তাদের মতো করেই থাকতে হবে।

সভ্যতার পথপ্রদশক হিসেবে নিজেদের দাবি করেন যারা সেই যুক্তরাজ্যে এমন গ্রামের কথা শুনলে অনেকেই হয়তো অবাক হবেন। তবে গ্রামবাসীরা অবশ্য এই নগ্নতার মধ্যে অসভ্যতার কিছু নাকি দেখেন না! যেখানে ইউরোপ-আমেরিকার সামনের সারির সভ্য দেশগুলোর শিক্ষিতরাও নগ্নতার দাবিতে আন্দোলন করছেন, রাস্তার মধ্যে কাপড় খুলে ব্যানার হাতে টিভি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে পড়তেও পিছপা হচ্ছেন না, সেখানে ওই গ্রামবাসীকে অসভ্য বলার কোনো সুযোগই থাকছে না। তারা নিজেদের মতো করেই থাকছেন, কারও বাড়া ভাতে তারা তো ছাই দিচ্ছেন না। এটা ওই গ্রামের মানুষদেরই কথা।

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, ওই গ্রামের মানুষ বেশ সচেতন এবং সৌখিনও। তারা গায়ে কাপড়ের কোনো পোশাক না পরলেও রোদ হতে চোখ বাঁচাতে সানগ্লাস তারা ব্যবহার করেন! তাদের গলায় থাকে স্বর্নের চেইন। এমনকি আঙ্গুলে আংটিও পরেন অনেকেই শখ করে! গ্রামের ভেতর বেশ সমৃদ্ধ বারও রয়েছে। তবে কারও গায়ে কোনো পোশাকই নেই!

সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা যায়, মোর-৪ নামে একটি টিভি চ্যানেল ওই গ্রামের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা নিয়ে একটি ধারাবাহিক ডকুমেন্টরি নির্মাণ করছে। সে কারণেই নতুন করে আলোচনায় চলে আসে স্পিলপ্লাজ।

জানা গেছে, ওই গ্রামের সবাই থাকেন বস্ত্রহীন। প্রথম দর্শনে এই গ্রামটিকে আর দশটি গ্রামের মতোই মনে হতে পারে। ছবির মতো সুন্দর, বেশ পরিপাটি করে সাজানো একটি সুন্দর গ্রাম। তবে আপনার ধারণা ক্রমেই পাল্টাতে শুরু করবে যখন আপনি ওই গ্রামের কোনো বাসিন্দার সামনে যাবেন। ওই গ্রামের বাসিন্দারা গ্রামটিকে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে পুরনো নগ্নতাবাদী অঞ্চল বলে দাবি করে থাকেন। তারা এতোটাই নগ্নতাবাদী যে আপনি যদি তাদের মতের সঙ্গে কখনও একমত না হন তাহলে সেই গ্রামের কেও আপনার কাছে জায়গা-জমি, বাড়ি-ঘর কোনো কিছুই বিক্রি পর্যন্ত করবে না।

সংবাদ মাধ্যমকে ওই গ্রামের বাসিন্দা ৮৫ বছর বয়সী ইছিয়ুট রিচার্ডসন বলেছেন, আমি বুঝি না এটা নিয়ে এতো হৈচৈ করার কি রয়েছে। আমি তো অন্য গ্রামের সঙ্গে এই গ্রামের কোনো রকম পার্থক্য দেখি না। ওরা যেভাবে জীবন যাপন করে আমরাও ঠিক সেইভাবেই করি। আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠি, দিনের কাজ শুরু করি, বাজারে যাচ্ছি, পানশালায় যাচ্ছি, দুধওয়ালা, পোষ্টম্যানরা আমাদের বাড়িতে আসছে। সবাই একেবারেই স্বাভাবিক, অস্বাভাবিক তো কিছুই দেখি না আমি। আমরা শুধুমাত্র বস্ত্রহীন থাকি, এইটুকুই শুধু পার্থক্য। তাছাড়া অন্য আর দশটা গ্রামের সঙ্গে আমাদের কোনো পার্থক্য নেই- ইছিয়ুট রিচার্ডসন এমনিভাবেই দাবি করেছেন। সত্যিই আশ্চর্য এক গ্রাম আর তাদের মন মানষিকতা!

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...