The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

বিশ্বের এক নম্বর হত্যাকারী মার্কিন সিরিয়াল কিলারকে দেখে নিন!

১৯৭০ সাল হতে ২০০৫ সাল পর্যন্ত যে ডজন ডজন নারী হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে এই কিলার

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আপনি কি বিশ্বের মানুষ হত্যাকারী এক সিরিয়াল কিলারের কথা কখনও শুনেছেন? যদি সত্যিই না শুনে থাকেন তাহলে আজ স্বচোক্ষে দেখে দিন বিশ্বের এক নম্বর মানুষ হত্যাকারী মার্কিন সিরিয়াল কিলারকে!

বিশ্বের এক নম্বর হত্যাকারী মার্কিন সিরিয়াল কিলারকে দেখে নিন! 1

একদনি দু’দিন নয় মার্কিন মুলুকে দীর্ঘ চার দশক ধরে ৯০ জনকে হত্যা করেছেন বলে স্বীকারোক্তি দেওয়া এক কারাবন্দী খুনির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এফবিআই মনে করছে যে, স্যামুয়েল লিটল নামে ৭৮ বছর বয়সী ওই মার্কিন ব্যক্তি অপরাধের ইতিহাসে সিরিয়াল কিলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক খুনের ঘটনা ঘটিয়ে এক নম্বরে রয়েছেন। বিবিসি’র উদ্বৃতি দিয়ে সংবাদ মাধ্যম এই খবর প্রকাশ করে।

প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি তার স্বীকারোক্তিতে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে ১৯৭০ সাল হতে ২০০৫ সাল পর্যন্ত যে ডজন ডজন নারী হত্যার ঘটনা ঘটেছে সেগুলো বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছে।

তদন্তকারীরা বলেছেন যে, ইতিমধ্যে ৩৪টি হত্যার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততাও পাওয়া গেছে। আরও অনেকগুলোতে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত কিনা সেটি জানতে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে এই সিরিয়াল কিলারের প্রকৃত অপরাধের সংখ্যা ও তার কারণও জানা সম্ভব হবে বলে পুলিশ মনে করছে।

সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়, অভিযুক্ত স্যামুয়েল লিটল তিনজন নারীকে হত্যার দায়ে ২০১৪ সালে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বর্তমানে কারাভোগ করছেন।

জানা যায়, ২০১২ সালে কেন্টাকিতে গৃহহীনদের একটি আশ্রয়-শিবির হতে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং ক্যালিফোর্নিয়াতে তাকে নিয়ে আসা হয়।

পকাশিত এক খবরে জানা যায়, ১৯৮৭ ও ১৯৮৯ সালে নিহত তিন নারীর মৃত্যুর রহস্য উদঘটিত না হওয়ায় জড়িত থাকার সন্দেহে লিটল এর ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়। ওই তিনজন নারীর প্রত্যেককে প্রচুর মারধোর করা হয় এবং তাদের দেহ আলাদা আলাদাভাবে ফেলে দেওয়ার আগে শ্বাসরোধ করার চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল।

তবে বিচারের সময় স্যামুয়েল লিটল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন, তবে শেষপর্যন্ত তাকে প্যারোলের কোনো সুযোগ না রেখে টানা তিন-দফা যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশ দেয় আদালত।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বেও তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড ছিল, যার মধ্যে রয়েছে ধর্ষণ ও সশস্ত্র ডাকাতির অভিযোগ।

এদিকে লিটলের এই অপরাধ স্বীকারোক্তির পর লিটল`কে এফবিআইর সহিংসতা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বিষয়ক একটি প্রকল্পে পাঠানো হয়। সেখানে এই ধরনের সিরিয়াল কিলারদের সহিংসতা ও যৌন অপরাধের বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে এবং ভবিষ্যতে অমীমাংসিত অপরাধের রহস্য-জট খুলতে স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যাবতীয় তথ্য শেয়ার করা হয়।

এই প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তখন তারা “বিপজ্জনক একটি ধরন” ও মার্কিন মুল্লুক-জুড়ে এ ধরনের আরও হত্যার সঙ্গে “যোগসূত্র”ও খুঁজে পান তারা।

উঠে আসে সে সময় টেক্সাসের ওডিসিতে একটি অমীমাংসিত ঠাণ্ডা মাথায় সংঘটিত খুনের মামলা, আর এই ঘটনার জন্য ডেনিস ক্রিস্টির স্বজনরা তখন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপর চড়াও হয়েছিলো।

সে সময় স্থানীয় একজন রেঞ্জার জেমস হল্যান্ড ক্যালিফোর্নিয়া যাচ্ছিলেন ভায়েলেন্ট ক্রিমিনাল অ্যাপ্রিহেনশন প্রোগ্রাম কিংবা ভাইক্যাপের দলের সদস্যদের সঙ্গে লিটলের সাক্ষাৎকার নিতে।

তারা জানিয়েছেন যে, স্যামুয়েল লিটল তাদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হন কারণ হলো তার উদ্দেশ্যই ছিল জেলখানা হতে বের হওয়া।

এফবিআই বলছে যে, লিটল সর্বমোট ৯০টি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে- যার বিস্তৃতি শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, ক্যালিফোর্নিয়া হতে মেরিল্যান্ড পর্যন্ত।

এই সপ্তাহের শুরুতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভাইক্যাপ দলের সদস্যরা বলেন, তারা অন্তত ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে স্পষ্ট ভিত্তি খুঁজে পেয়েছেন, তবে এখনও অনেকগুলোর নিশ্চয়তা পাওয়া বাকি রয়েছে।

মে মাসের ওই সাক্ষাৎকারে রেঞ্জার হল্যান্ডকে তিনি প্রতিটি স্থানে কতোজনকে হত্যা করেছেন তাদের সংখ্যাও জানান। যেমন “জ্যাকসন মিসিসিপিতে একজন, সিনসিনাটি, ওহাইওতে একজন, ফিনিক্স, অ্যারিজোনায় তিনজন, নেভাডায় একজন এবং লাস-ভেগাসে”।

তদন্তকারীদের ধারনা, লিটল বিশেষ করে প্রান্তিক ও দরিদ্র নারীদেরকে টার্গেট করতেন। যাদের মধ্যে আবার অনেকেই পতিতাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত বা মাদকাসক্ত ছিল।

তদন্তকারীরা বলছেন যে, তাদের মরদেহকে প্রায়ই অজ্ঞাত পরিচয় হিসাবে ফেলে যাওয়া হতো বা তাদের মৃত্যু তদন্তহীনই থেকে যেতো।

এফবিআই বলছে যে, ৭৮ বছর বয়সী এই বুড়ো “ভালো শারীরিক অবস্থার মধ্যে নেই” এবং সম্ভবত তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত টেক্সাসের কারাগারেই তাকে থাকতে হবে। ওডিসি হত্যার ঘটনার স্বীকারোক্তির পর ক্যালিফোর্নিয়া হতে তাকে সেখানে নেওয়া হয়।

ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো বলেছে, তারা রেঞ্জার হল্যান্ডের পাশাপাশি কাজ করছে যিনি কিনা ‘প্রায় প্রতিদিনই’ লিটলের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করছেন। উদ্দেশ্য হলো, সংঘটিত অপরাধের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে আনার জন্য।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...