The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

২০২০ সালে যেসব তারকাদের আমরা হারিয়েছি

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পুরো ২০২০ সালটাই করোনা ভাইরাস তাণ্ডবে বিধ্বস্ত ছিলো। প্রিয়জনদের হারানোর বছর ছিলো এটি। এই বছর করোনা মহামারীতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন দেশে-বিদেশের অনেক তারকা। বাংলাদেশেও করোনা কেড়ে নিয়েছে অনেক কিংবদন্তি তারকাকে।

২০২০ সালে যেসব তারকাদের আমরা হারিয়েছি 1

দেখে নেওয়া যাক ২০২০ সালে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন যেসব তারকা ও গুণী মানুষগুলো:

প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর

দীর্ঘদিন ধরে ব্লাড ক্যান্সারে ভুগে চলতি বছর মারা গেলেন দেশের ‘প্লেব্যাক সম্রাট’খ্যাত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। ৬ জুলাই সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথান এলাকায় তার বোন ডা. শিখা বিশ্বাসের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। ক্যারিয়ারে ৮বার চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন এই বরেন্য সংগিতশিল্পী।

সুরের যাদুকর আলাউদ্দীন আলীর চলে যাওয়া

চলতি বছরের ৯ আগস্ট মারা যান দেশের বরেণ্য সুর সম্রাট আলাউদ্দীন আলী । ওইদিন সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

আলাউদ্দীন আলী দীর্ঘদিন ফুসফুসের প্রদাহ ও রক্তে সংক্রমণের সমস্যায় ভুগছিলেন। এছাড়াও তিনি মরণব্যাধী ক্যান্সারেও ভুগছিলেন।

করোনায় মারা যান নাট্য ব্যক্তিত্ব কে এস ফিরোজ

গত ৯ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টা ২০ মিনিটে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মারা গেছেন টিভি নাটকের উজ্জ্বল নক্ষত্র কে এস ফিরোজ।

১৯৬৭ সালে কে এস ফিরোজ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। মেজর হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ১৯৭৭ সালে সেনাবাহিনী হতে অবসর নেন।

নাট্যদল ‘থিয়েটার’–এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে অভিনয়ে নাম লেখান তিনি। এই দলের হয়ে তিনি অভিনয় করেছেন ‘সাত ঘাটের কানাকড়ি’, ‘কিং লিয়ার’ এবং ‘রাক্ষসী’ নাটকসহ বহু নাটকে।

করোনায় মৃত্যু সাদেক বাচ্চুর

কে এস ফিরোজের শোক মুছতে না মুছতেই আবারও শোকের ছায়ায় ডুবেছিল সিনেমাপাড়ায়। ১৪ সেপ্টেম্বর মারা যান ঢাকাই ছবির প্রতাপশালী এই অভিনেতা সাদেক বাচ্চু।

সেদিন দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।

সাদেক বাচ্চু কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হন। প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গত ৬ সেপ্টেম্বর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

করোনা কেড়ে নেয় ‘বড়চাচা’খ্যাত আলী যাকেরকে

ক্যান্সারের সঙ্গে চার বছরের লড়াই শেষে মারা যান অভিনেতা ও নির্দেশক আলী যাকের। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। গত ২৭ নভেম্বর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান তিনি। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই অভিনেতার মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন আলী যাকের। তার ছেলে ইরেশ যাকের ফেইসবুকে এক পোস্টে জানান, মৃত্যুর দুদিন আগে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণও ধরা পড়েছিল তার।

প্রযোজক মতিউর রহমান পানুর বিদায়

গত ২৪ মার্চ রাত ১১টা ২০ মিনিটে রাজধানীর উত্তরার নিজ বাসায় মারা গেছেন ‘বেদের মেয়ে জোছনা’খ্যাত প্রযোজক, পরিচালক মতিউর রহমান পানু। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।

১৯৬৪ সালে প্রথমে সহকারী পরিচালক হিসেবে সিনেমাপাড়ায় হাতেখড়ি হয়েছিলো মতিউর রহমান পানুর। ১৯৭৯ সালে তিনি ‘হারানো মানিক’ ছবিটি পরিচালনার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

না ফেরার দেশে নায়িকা জবা

নায়িকা জবা চৌধুরী প্রথম ছবি করেই সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। তবে দ্বিতীয় ছবিতে আর দেখা যায়নি তাকে। দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে তাকে খুঁজে পায়নি সিনেপ্রেমীরা। গত ৩ মে তার মৃত্যুর খবরে জানা যায়। ১৯৭৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জিঘাংসা’ছবিতে অভিনয় করেন তিনি।

গত ৩ মে ভোরে রানী বন্দরে নিজ বাড়িতেই জবা চৌধুরী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

‘জিঘাংসা’ ছবির খুরশিদ আলম এবং রুনা লায়লার গাওয়া ‘পাখির বাসার মতো দুটি চোখ তোমার, ঠিক যেনো নাটোরের বনলতা সেন’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল সত্তর দশকে।

অভিনেত্রী মিনু মমতাজ এর মৃত্যু

দীর্ঘদিন কিডনি ও চোখের সমস্যায় ভুগে অবশেষে পরপারে পাড়ি জমালেন অভিনেত্রী মিনু মমতাজ। গত ২২ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টায় রাজধানীর গ্রীন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রীও করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুর পরও অবহেলার শিকার হন এই অভিনেত্রী। চিকিৎসা বাবদ প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা বিল বাকি ছিল ওই হাসপাতালে। বিল পরিশোধ করতে হবে শুনেই তার মরদেহ নিতে আসছিলেন না তার পরিবারবর্গ। অবশেষে অভিনয় শিল্পী সংঘ ও মিনু মমতাজের এক ভাগ্নির সহায়তায় তার দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়।

চলে গেলেন সংগীতঙ্গ আজাদ রহমান

এ বছরের ১৬ মে মারা যান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী সুরকার, সংগীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী আজাদ রহমান । রাজধানী ঢাকার শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

‘জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো’, ‘ভালোবাসার মূল্য কত’, ‘ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই’, ‘ডোরা কাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়’ ‘মনেরও রঙে রাঙাবো’সহ অনেক জনপ্রিয় গানে সুর দিয়েছেন তিনি।

চিত্রনায়ক রানা হামিদ

এ বছরের ১০ মে মারা যান চিত্রনায়ক, প্রযোজক এবং পরিচালক রানা হামিদ। রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। রানা হামিদ কিডনিজনিত রোগে ভুগছিলেন।

এ বছর আরও যাদের হারিয়েছি

২০ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন অভিনেত্রী, নির্দেশক ও আবৃত্তিশিল্পী ইশরাত নিশাত। ২ মার্চ মারা যান ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে লক্ষ মুক্তি সেনা’ সহ একাধিক জনপ্রিয় গানের সুরকার সেলিম আশরাফ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শ্বাসকষ্ট ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন। টেলিভিশন নৃত্যশিল্পী সংস্থার সাবেক সভাপতি, দেশের সুপরিচিত নৃত্যশিল্পী ও নৃত্য পরিচালক হাসান ইমাম ১৫ মে সন্ধ্যায় হঠাৎ অসুস্থ হয়েই মারা যান।

৩১ মে মারা যান চলচ্চিত্র প্রযোজক জনাব মোজাম্মেল হক সরকার। গত ৬ জুন মারা যান সহস্রাধিক সিনেমার নৃত্য পরিচালক এস আলম। অপরদিকে অনুষ্ঠান পরিকল্পনাকারী, নাট্যশিল্পী স্বপন সিদ্দিকী মারা যান ১০ জুলাই। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৮ জুলাই ল্যাব এইড হাসপাতালে মারা গেছেন চিত্রপরিচালক আফতাব খান টুলু । গত ২৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০ টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরীফউদ্দীন খান দীপু । ৩ নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন দেশের নামজাদা চলচ্চিত্র প্রযোজক ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সাবেক সদস্য নাসির উদ্দিন দিলু।

ডিসেম্বর মাসের ১০ তারিখে সকাল ৬টায় না ফেরার দেশে চলে যান দেশের ঐতিহ্যবাহী ও বৃহৎ অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সংগীতার স্বত্বাধিকারী সেলিম খান। ঠিক এর ৮দিন পরেই ১৮ ডিসেম্বর করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রসম্পাদক আমিনুল ইসলাম মিন্টু।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

# সব সময় ঘরে থাকি।
# জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে নিয়মগুলো মানি, মাস্ক ব্যবহার করি।
# তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ইচ্ছে করলে ধুয়েও ব্যবহার করতে পারি।
# বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোশাক ধুয়ে ফেলি। কিংবা না ঝেড়ে ঝুলিয়ে রাখি অন্তত চার ঘণ্টা।
# বাইরে থেকে এসেই আগে ভালো করে (অন্তত ২০ সেকেণ্ড ধরে) হাত সাবান বা লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ফেলি।
# প্লাস্টিকের তৈরি পিপিই বা চোখ মুখ, মাথা একবার ব্যবহারের পর

অবশ্যই ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
# কাপড়ের তৈরি পিপিই বা বর্ণিত নিয়মে পরিষ্কার করে পরি।
# চুল সম্পূর্ণ ঢাকে এমন মাথার ক্যাপ ব্যবহার করি।
# হাঁচি কাশি যাদের রয়েছে সরকার হতে প্রচারিত সব নিয়ম মেনে চলি। এছাড়াও খাওয়ার জিনিস, তালা চাবি, সুইচ ধরা, মাউস, রিমোট কন্ট্রোল, মোবাই, ঘড়ি, কম্পিউটার ডেক্স, টিভি ইত্যাদি ধরা ও বাথরুম ব্যবহারের আগে ও পরে নির্দেশিত মতে হাত ধুয়ে নিন। যাদের হাত শুকনো থাকে তারা হাত ধোয়ার পর Moisture ব্যবহার করি। সাবান বা হ্যান্ড লিকুইড ব্যবহার করা যেতে পারে। কেনোনা শুকনো হাতের Crackle (ফাটা অংশ) এর ফাঁকে এই ভাইরাসটি থেকে যেতে পারে। অতি ক্ষারযুক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...