সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ-২

ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ বিশ্বের সংক্ষিপ্ত সংবাদ নিয়ে শুক্রবারের আয়োজনে সকলকে স্বাগতম। আজকেও বিশ্বের বিভিন্ন ধরনের সংবাদ রয়েছে আপনাদের জন্য। সাপ্তাহিক এই আয়োজন নিশ্চয়ই আপনাদের ভালো লাগবে।

পৃথিবীর একমাত্র মাটির তলায় নগর কুবার পেডি

জায়গাটার নাম কুবার পেডি। এটি হচ্ছে পৃথিবীর একমাত্র মাটির তলার নগরী। অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত নগরী অ্যাডিলেড থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের মরুভূমিতে কুবার পেডি অবস্থিত। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল কুবার পেডি এক সময় শতভাগ জনমানবশূন্য ছিল। এখনও এটি মানুষের বসবাস উপযোগী নয়। কারণ গ্রীষ্মে এখানকার তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠে যায়। আবার শীতকালে তাপমাত্রা নেমে আসে শূন্য ডিগ্রিরও নিচে। এমন অবস্থায় মানুষের পক্ষে মানিয়ে নেয়া সত্যি কঠিন। আর সেই সঙ্গে ধূলি ঝড়, পানির কষ্ট ইত্যাদি তো রয়েছেই। তাই কুবার পেডিতে মানুষ বসবাস করবে এটি কল্পনারও অতীত ছিল। কল্পনাতীত এই বিষয়টিই একসময় বাস্তব হয়ে ওঠে। সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কুবার পেডিতে গড়ে উঠেছে অত্যাধুনিক একটি শহর। যে শহরটি মাটির ওপরে নয় নিচে অবস্থিত। আধুনিক নগরীর সুবিধা সংবলিত কুবার পেডিতে রয়েছে রেস্তোরাঁ, বইয়ের দোকান, গির্জা, বিনোদন কেন্দ্র, ক্লাব, ব্যাংক, আর্ট গ্যালারি, মার্কেট কমপ্লেক্স। পৃথিবীর যে কোনো আধুনিক শহরের সঙ্গে পাল্লা দেয়ার মতো সবই আছে সেখানে। তবে এখানকার এই জাঁকজমক একদিনে গড়ে ওঠেনি। এর পেছনে রয়েছে মজার এক গল্প। এই কুবার পেডির পাথুরে জমির সঙ্গে মিশে ছিল বিশেষ এক ধরনের রত্ন। এই রত্নের নাম- ওপাল। এই জায়গাটার বিশেষত্ব প্রথম আবিষ্কার করে উইল হাচিসন নামের চৌদ্দ বছরের এক কিশোর। ঘটনাটা ছিল ১৯১১ সালের। এই মজার আবিষ্কারের আগে এখানকার বাসিন্দা বলতে ছিল মরুভূমির সাপ, বিষাক্ত পোকামাকড়, টিকটিকি আর এমু পাখি। কিন্তু ওপালের অস্তিত্ব আবিষ্কার বদলে দিতে শুরু করল কুবার পেডিকে।
ওপাল আবিষ্কারের পর বহু রত্নলোভী পাড়ি জমাল এখানে। রত্নের সন্ধানে শুরু হল খোঁড়াখঁ-ড়ি। আস্তে আস্তে কুবার পেডির বাণিজ্যিক গুরুত্ব বাড়তে লাগলে। কুবার পেডি নামকরণের পেছনেও রয়েছে ছোট্ট একটি ইতিহাস। এখানকার আদিবাসীরা মাইনারদের খোঁড়াখুঁড়ি দেখে তাদের ভাষায় জায়গার নাম দিয়েছিল কুপা সিটি। যার অর্থ মাটিতে সাদা মানুষের গর্ত। কালের বিবর্তনে সেটাই বদলে গিয়ে কুবার পেডি হয়ে যায়। সব মরুভূমিতেই দিনের বেলায় প্রচণ্ড গরম আর রাতে হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা থাকে। মাটির নিচে কিছুটা গেলেই অন্যরকম হয়ে যায় সবকিছু। পৃথিবী নিজেই যেন একটা প্রাকৃতিক এয়ারকন্ডিশনার। তাই মাটির নিচে গড়পড়তা সহনশীল একটা তাপমাত্রা পাওয়া যায় সারা বছরই। অন্য দিকে খোঁড়াখুঁড়ির জন্য মাইনারদের দিনের বেশির ভাগ সময়ই কাটাতে হয় মাটির নিচে। তাই সেখানে থাকার ঘরটাও বানিয়ে নিলে মন্দ কি! মাটির নিচে থাকলে ধূলিঝড় থেকেও বাঁচা যাবে। শুরু হল মাটির নিচে বসতি বানানো। এভাবেই গড়ে উঠেছে কুবার পেডি। শুধু থাকার জায়গা নয়, তৈরি হয়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, পানি সমস্যার সমাধান। পানির ব্যাপারে কুবার পেডির জনগণ ভীষণ সচেতন। মরুভূমিতে পানির অভাবের কারণে তারা গোসল ও ধোয়ামোছার ব্যবহূত পানি রিসাইকেলের মাধ্যেমে সদ্ব্যবহার করে অন্যান্য কাজে। তবে এসব অসুবিধা সত্ত্বেও আজকের কুবার পেডি এতটাই জমজমাট যে অস্ট্রেলিয়ার অনেক ট্যুরিস্টই এক ঝলক দেখে যান জাগয়াটি। আর স্থানীয় বাসিন্দাদের তো কথাই নেই। বেশ কয়েকজন কুবার পেডিবাসী অন্যত্র বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েও কিছুকাল বাইরে কাটিয়ে আবার ফিরে এসেছে কুবার পেডিতে। অদ্ভুত সুন্দর এই পাতাল নগরী যে কাউকেই মুগ্ধ করবে।

কায়রো সেই দূর্গ

মিসরের রাজধানী কায়রোতে অবস্থিত এই দূর্গটি সালাউদ্দিন দূর্গ হিসেবে পরিচিত। মধ্যযুগে মুসলমানদের অবস্থান আরও সুরক্ষিত করতে এবং ক্রুসেডারদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মোকাত্তাম পাহাড়ের কাছে সুলতান সালাউদ্দিন ১১৭৬ হতে ১১৮৩ সালের মধ্যে দূর্গটি নির্মাণ করা হয়। এক সময় স্থানটি মনোরম বাতাস এবং শহরের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য অবলোকনের জন্য ব্যবহূত হত। বর্তমানে দূর্গটি একটি ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। দূর্গে একটি মসজিদ ও জাদুঘর রয়েছে।

শয়তানের জাদুঘর!

ইউরোপ মহাদেশের লিথুনিয়ায় কাউনাস শহরে তৈরি হয়েছে একটি ভিন্ন রকমের জাদুঘর। প্রতিষ্ঠাতার নামানুসারেই এই জাদুঘরের নামকরণ হয়েছে জিমুইডজিনাভিকাস জাদুঘর। তবে এটি এখন সারাবিশ্বে শয়তানের জাদুঘর নামেই পরিচিত। লিথুয়ানিয়ান ভাষায় ঠবষহর সুঁরবলঁং। এই জাদুঘরে এমন কিছু ভৌতিক ভাস্কর্য ও ছবি রয়েছে যা দর্শনার্থীদের অতীতে দেখা কোন ভয়াল দুঃস্বপ্ন ও আতঙ্কের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মূর্তি ও ভাস্কর্যগুলো বিভিন্ন গল্প উপকথা আর ধর্মীয় বিশ্বাসের শয়তানদের। চিত্রশিল্পী আনটানাস জিমুইডজিনাভিকাস (অহঃধহধং তসঁরফুরহধাররঁং) (১৮৭৬- ১৯৬৬) তার নিজের বাড়িতে সখের বশবর্তী হয়ে এই সংগ্রহশালা শুরু করেন। তার মৃত্যুর পর পরই এখানেই জাদুঘরটির যাত্রা শুরু হয়। প্রথম দিকে এতে আনটানাসের রেখে যাওয়া ২৬০টির মতো ভয়ঙ্কর দর্শন শয়তান মূর্তি ছিল। পরে জাদুঘরটি সমৃদ্ধ হয়েছে এর পরিদর্শকদের থেকে পাওয়া উপহার দিয়ে। ফলে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সমাজ, সংস্কিৃতি, বিশ্বাস, লোক কাহিনী ও রূপকথার দৈত্য, অসুর ও শয়তানদের মূর্তি স্থান পেয়েছে এই জাদুঘরে। এমনকি এখানে বিশ্বের কুখ্যাত রাজনৈতিকদের মূর্তিও রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ এ জাদুঘরের রয়েছে হিটলার ও স্টালিনের ভয়ঙ্কর দর্শন মূর্তি; যারা একটি মাঠে মানুষের হাড়গোড় নিয়ে খেলা করছে। ১৯৮২ সালে জাদুঘরটিকে আরও তিনতলা বাড়িয়ে নেয়া হয়।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...