দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পেটের স্বাস্থ্য ভালো কি না, তা বুঝে নেওয়ার সহজ পরীক্ষাও রয়েছে, বলেছেন নেটমাধ্যম প্রভাবী তানিয়া মালিক চাওলা। তবে এই পরীক্ষা কী আদৌ গ্রহণযোগ্য বা স্বাস্থ্যসম্মত?
পেটের স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে শরীরেও তার প্রভাব পড়বে। বদহজম, ঘন ঘন গ্যাস, পেটখারাপ হলে সহজেই বোঝা যাবে, অন্ত্রের স্বাস্থ্য বিগড়ে গেছে। তবে কারও গ্যাসের ধাত কতোটা, পেটের স্বাস্থ্য ভারো কি না, তা বুঝে নেওয়ারও সহজ পরীক্ষা রয়েছে, বলেছেন নেটমাধ্যম প্রভাবী তানিয়া মালিক চাওলা। ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি বলেছেন, কারও গ্যাসের ধাত রয়েছে কি না, তা বুঝে নেওয়া যায় মাত্র এক মিনিটের পরীক্ষায়। খালি পেটে সামান্য একটু বেকিং সোডা পানিতে গুলে খেতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তখন ঢেকুর উঠবে।
এর কারণ হলো, বেকিং সোডা পেটের অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে গ্যাস উৎপাদন করে ফেলে। আর সেজন্যই ঢেকুর ওঠে। কতোক্ষণে ঢেকুর উঠছে, তা থেকে বোঝা যাবে অ্যাসিডের পরিমাণ কম নাকি বেশি।
সাধারণত হজমের সমস্যা হলে ধরে নেওয়া হয় যে, শরীরে অ্যাসিড বেশিই উৎপাদন হচ্ছে। তবে তানিয়া বলেছেন, পাকস্থলীতে অ্যাসিড বা অম্লের পরিমাণ কম থাকলে হজমে ও পুষ্টি শোষণে সমস্যা হতেই পারে। তার যুক্তি মানছেন চেন্নাইয়ের পুষ্টিবিদ মিনু বালাজিও। তিনিও বলেছেন, ‘‘অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি বা কম- দুই ক্ষেত্রেই হজম, গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। পাকস্থলীতে থাকা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড খাবারের কণা ভাঙতে ও পাচকরস উৎপাদনে সাহায্যও করে। শরীরে অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যাসিড তৈরি হলে তা যেমন গ্যাসের কারণ হতে পারে, তেমনি অ্যাসিডের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় কম হলেও হজমের গোলযোগ দেখা দিতেই পারে।’’
তবে মাত্র এক মিনিটের এই ঘরোয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে মোটেও গুরুত্ব দিচ্ছেন না মিনু। এই পুষ্টিবিদের বক্তব্য হলো, ঢেকুর ওঠার নানা কারণ থাকতেই পারে। অ্যাসিডের আধিক্য কিংবা পরিমাণ কম থাকার জন্যও যেমন ঢেকুর ওঠে, তেমনি ক্ষুদ্রান্ত্রে ব্যাক্টেরিয়ার বাড়বৃদ্ধিও এর নেপথ্য কারণও হতে পারে। অতি দ্রুত খেলে, ঠিক করে চিবিয়ে না খেলে কিংবা শরীরে বাতাস ঢুকে থাকলেও ঢেকুর উঠতে পারে।
যে কারণে বেকিং সোডা মেশানো পানি খেয়ে এই পরীক্ষার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন থাকে। কারও খাবার পূর্বেই ঢেকুর ওঠে। সুতরাং ঢেকুর উঠছে মানেই তা বেকিং সোডার জন্য নাকি অন্য কারণে, সেটি বোঝা মুশকিল। এছাড়াও এক এক জনের শরীরে অ্যাসিডের পরিমাণ এক এক রকম হয়ে থাকে। দিনের বিভিন্ন সময় এর তারতম্যও ঘটে। যে কারণে, এই পরীক্ষা যে সঠিক তথ্য দেবেই, তেমনটি নাও হতে পারে। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইন।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org