দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মাছ খাওয়ার সময়ে চোখ বাদ দিলে কিন্তু চলবে না। ভালো করে চিবিয়ে খেতে হবে। ওই দুই ছোট বলের মতো বস্তু থেকে যে কতো উপকার পাওয়া যেতে পারে, তা কল্পনাতীত বলে ব্যাখ্যা করেছেন পুষ্টিবিদ।

ছোটবেলায় আমরা শুনেছি মাছ খাওয়ার সময় চোখ বাদ দিলে চলবে না। ভালো করে চিবিয়ে খেতে হবে। ওই দুই ছোট বলের মতো বস্তু হতে যে কতো উপকার পাওয়া যেতে পারে, তা কল্পনাতীত! আমেরিকাবাসী বাঙালি পুষ্টিবিদ রেশমী রায় চৌধুরী বলেছেন, ‘‘ছোট মাছের চোখ আপনার চোখ খারাপ সারিয়েও দিতে পারে। এছাড়াও মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী। শিশুদের অটিজ়মের মতো সমস্যা থাকলে ছোট মাছের চোখ খাওয়াটা দরকার। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এর তুলনাই হয় না। মাছের ঝোল খাওয়ার সময় চোখগুলো বাদ দিলে চলবে না। প্রত্যেকের জন্য খুবই উপকারী। এমনকি বড় মাছের চোখও বাদ দেওয়া উচিত হবে না। তবে মাছের মুড়ো চিবিয়ে খেলে ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা দেখা দিতেই পারে। বরং শুধু চোখদু’টি চিবিয়ে খেয়ে নিলে ভালো।’’
ছোট মাছের চোখে কী কী পুষ্টিগুণ রয়েছে
মাছের চোখের পুষ্টি উপাদান ও তাদের উপকারিতা ব্যাখ্যা করেছেন পুষ্টিবিদ। প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন এ- এই ত্রয়ীর উপস্থিতিতে ছোট মাছের চোখ ‘সুপারফুড’ হয়ে ওঠারও যোগ্য। এই ত্রয়ী আবার শরীরের মূলত ৩টি অঙ্গের স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়। চোখ, হার্ট ও মস্তিষ্কের জন্য অপরিহার্যও হতে পারে। তাছাড়াও অনেক পুষ্টি উপাদান ও উপকারিতা রয়েছে মাছের চোখে। এখন দেখে নিন, কোনও উপাদানগুলো কিসে সাহায্য করে।
প্রোটিন
যে কোনও ধরনের প্রোটিনের কাজই হলো, কোষের গঠন এবং মেরামতি। ছোট মাছের চোখে থাকা প্রোটিনও সেই কাজই করে।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড
এটি স্বাস্থ্যের খুব জরুরি এক উপাদান। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মধ্যে থাকে ইপিএ (আইকোসাপেন্টাইনোইক অ্যাসিড) ও ডিএইচএ (ডোকোসাহেক্সাইনোইক অ্যাসিড)। এই দু’টি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। শরীরের জন্য অপরিহার্য পুষ্টি, অথচ শরীর নিজ থেকে তা তৈরিও করতে পারে না। এগুলো কিছু মাছ, শেলফিশ ও কিছু শৈবালে পাওয়া যায়। এই দু’টি ফ্যাটি অ্যাসিড হার্ট ও শিশুমস্তিষ্কের জন্যও উপকারী। স্মৃতিশক্তি, মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যও এই দুই ফ্যাটি অ্যাসিড কার্যকরী। সেইসঙ্গে, চোখের জন্যও খুবই ভালো।
লিউটিন ও জ়িয়াজ়্যান্থিন
এগুলো মূলত অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট বৈশিষ্ট্যযুক্ত ক্যারোটিনয়েড, যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই প্রয়োজন। এগুলোতে মাছের চোখের ম্যাকুলায় পাওয়া যায়, যেগুলো মানুষের চোখে আসা নীল আলোর (স্ক্রিন থেকে যে ‘ব্লু রে’ বেরোয়) ফিল্টার হিসেবেও কাজ করে ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের হাত থেকে রক্ষা করে। ছানি পড়া রোধ করতেও বিশেষভাবে সাহায্য করে।
কোলাজেন
বিদেশে অনেকেই ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করতে আজকাল প্রক্রিয়াজাত কোলাজেন খাচ্ছেন। অথচ আমাদের মতো দেশে পুকুরে পাওয়া ছোট মাছের চোখে পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে কোলাজেন।
ভিটামিন বি১২
স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়াতে পারে ভিটামিন বি১২, যার দুর্দান্ত উৎস হলো ছোট মাছের চোখ।
রড সেল এবং কোন সেল
সারাদিন ধরে ফোন কিংবা টিভিতে বা ল্যাপটপ-কম্পিউটারে চোখ থাকে বর্তমান নতুন প্রজন্মের। কাজের জন্য কিংবা শখের জন্যও। স্ক্রিনের নীল রশ্মির সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছে সবাই। সেি ক্ষেত্রে নিজের চোখ ঠিক রাখতে মাছের চোখের উপর ভরসা রাখতে হবে। ছোট মাছের রেটিনায় থাকে রড সেল ও কোন সেল। কম আলোতেও যাতে করে দৃষ্টির সমস্যা না হয়, তার খেয়াল রাখে এই রড সেল। অতিরিক্ত চোখ ঝলসানো আলোতে যাতে রং ও উচ্চ-রেজ়োলিউশনে চোখের সমস্যা না হয়, সেদিকে নজর রাখে এই সেল। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইন।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org