দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সম্প্রতি এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে, চা, আপেল, বেরিজাতীয় ফল এবং চকোলেট গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

চা হতে ফল, চকোলেটের কমবেশি কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতাও রয়েছে। তবে এগুলো যে ক্রনিক অসুখের ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে, তা কী আপনি জানেন? সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, চা, আপেল, বেরিজাতীয় ফল এবং চকোলেট গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি কমায় ও বেশিদিন বাঁচতে সাহায্য করে।
কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্ট, এডিথ কোয়ান ইউনিভার্সিটি পার্থ, ভিয়েনা মেডিকেল ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি উইনের গবেষকরা এই গবেষণা করেছেন। সেখান থেকেই জানা যায়, এইসব খাবার সুস্থ জীবনযাপনেও সাহায্য করে। তবে চা, আপেল, বেরিজাতীয় ফল এবং চকোলেটই কেনো? প্রকৃতপক্ষে এই খাবারগুলোতে ফ্ল্যাভনয়েড নামে একটি যৌগ পাওয়া যায়। মূলত এই যৌগই রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
ওই গবেষণা থেকে জানা যায়, ফ্ল্যাভনয়েড সমৃদ্ধ খাবার টাইপ ২ ডায়াবেটিস, কার্ডিওভাস্কুলার ডিজ়িজ়, ক্যান্সার ও স্নায়ুবিক রোগের ঝুঁকি প্রতিরোধেও সাহায্য করে। এই ফ্ল্যাভনয়েড মূলত চা, ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি, আপেল, কমলালেবু, আঙুর, ডার্ক চকোলেট এবং রেড ওয়াইনেও পাওয়া যায়। অতএব, এই খাবারগুলো প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখলে ক্রনিক অসুখের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত গবেষক ডাঃ বেঞ্জামিন পারমেন্টার জানিয়েছেন যে, প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মিলিগ্রাম ফ্ল্যাভোনয়েড গ্রহণ করলে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি অন্তত ১৬% কমে যায়, সেইসঙ্গে কার্ডিওভাসকুলার ডিজ়িজ়, টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও শ্বাসযন্ত্রের রোগের ঝুঁকিও প্রায় ১০% কমে যায়।
তবে ফ্ল্যাভোনয়েড পরিমাপ করে খাবার খাওয়া সম্ভব নয়। এছাড়াও সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভবই নয় যে, কোন খাবারে কতোটা পরিমাণ ফ্ল্যাভোনয়েড রয়েছে। এই বিষয়ে ডাঃ পারমেন্টার বলেছেন, ‘দুই কাপ চা’য়ে আপনি যে পরিমাণ ফ্ল্যাভোনয়েড পাবেন, সেটিই আপনার স্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট।’ তথ্যসূত্র: এই সময়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org