দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ঘরে ঘরেই রক্তচাপ কমানোর ওষুধ পাবেন। তবে রক্তচাপের ওষুধ সকালে খাবেন, নাকি সন্ধ্যার পর? কখন খেলে উপকার বেশি পাবেন, তা জেনে রাখাটা সত্যিই জরুরি।

আপনার কী রক্তচাপ বেশি? নাকি প্রায় সময় ওঠানামা করে? বর্তমান জীবনশৈলীতে মানসিক চাপ যেভাবে বাড়ছে, তাতে রক্তচাপ ঠিক থাকছে কই? কর্মক্ষেত্রের উদ্বেগ, সংসারের দায়-দায়িত্ব পালন, ব্যক্তিগত সমস্যার বোঝা সামলাতে সামলাতে রক্তচাপ কখনওবা ঊর্ধ্বে উঠছে, আবার কখনও নামছেও। এর সঙ্গে রয়েছে ধূমপান, মদ্যপান, কায়িক পরিশ্রম কমে আসা, অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস ইত্যাদি।
রক্তচাপের ওষুধ কখন খাবেন?
রক্তচাপের ওষুধ সকালে খেলে ভালো কাজ হবে, নাকি সন্ধ্যায়, তা নিয়ে নানা মত রয়েছে। ২০২২ সালে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় ‘ল্যানসেট’ মেডিক্যাল জার্নালে। সেখানে গবেষকরা জানিয়েছিলেন যে, উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে এমন ২১ হাজার রোগীর উপর পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, যারা সকাল ৬টা হতে বেলা ১০টার মধ্যে রক্তচাপের ওষুধ খান, তাদের সারাদিনই রক্তচাপের কোনো হেরফের হয় না। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা পরে আরও একটি সমীক্ষা চালিয়েছিলেন। সেখানে গবেষকরা দেখেন, সকাল সকাল রক্তচাপের ওষুধ খেলে ‘স্ট্রেস হরমোন’ কর্টিসল এবং অ্যাড্রেনালিনের ক্ষরণ কম হয়। সেইসঙ্গে, উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে আসে।
তবে এই মতটিই যে একেবারে সঠিক মত, তা বলা যাবে না। কারণ এর পরে আরও কিছু গবেষণা হয়। তাতে গবেষকরা দাবি করেন যে, যাদের হাইপারটেনশন রোগ রয়েছে, হার্টের অসুখও রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে সকাল বেলার থেকে সন্ধ্যায় কিংবা রাতে রক্তচাপের ওষুধ খাওয়াই ভালো। ডায়াবেটিসের রোগী কিংবা যাদের রক্তে শর্করা বেশি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও এই নিয়মই প্রযোজ্য। রাত ৮টা হতে মধ্যরাত অবধি সময় রক্তচাপের ওষুধ খেলে কী কী সুবিধা হয়, তার তালিকাও দিয়েছেন গবেষকরা।
ঘুমাতে যাওয়ার আগে রক্তচাপের ওষুধ খাওয়ার সুবিধা
১। হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৪০ শতাংশ কমে।
২। স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩৪ শতাংশ কমবে।
৩। অন্যান্য কার্ডিয়োভাস্কুলার যে কোনও রোগের ঝুঁকিও কমবে ৬৬ শতাংশ।
তবে কী ধরনের ওষুধ খাচ্ছেন, তার উপরে নির্ভর করবে যে, কখন খেলে ভালো হয়। অনেকেই রয়েছেন যারা রক্তচাপ কমাতে ‘ডাইইউরেটিক্স’ গোত্রের ওষুধ খেয়ে থাকেন, অর্থাৎ যে ওষুধ শরীর হতে অতিরিক্ত পানি এবং লবণ বের করে দেয়। হার্টের রোগ, কিডনির রোগ এবং রক্তচাপ কমাতে এই জাতীয় ওষুধ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। এমন ওষুধ সকালে খেলে ভালো। রাতে খেলে বারে বারে প্রস্রাবের বেগ আসবে ও তখন ঘুমের দফারফা হয়ে যাবে। আবার অন্যান্য যেসব ওষুধ রয়েছে যেগুলো হার্টের রোগ এবং রক্তচাপ কমানোর জন্য দেওয়া হয়, সেগুলো সন্ধ্যার পর খেলে ভালো। তাতে করে রাতের দিকে বুকে ব্যথা, শ্বাসের সমস্যা, রাতে শুয়ে ঘেমে যাওয়া, এই সমস্যাগুলো হবে না।
আপনি রক্তচাপের ওষুধ যখনই খান না কেনো, তা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে। যারা সকালে কিংবা সন্ধ্যায় খাচ্ছেন, তারা হঠাৎ করে ওষুধ খাওয়ার সময় বদলাতে যাবেন না। চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলাটা জরুরি। অনেক সময় রোগীর শরীরের অবস্থা বুঝে ওষুধের সময় নির্ধারণ করা হয়। তাই নিজে থেকে কোনও সিদ্ধান্ত নিলে বিপদ বাড়তে পারে। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইন।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org