দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ এলোভেরা একটি বহুল পরিচিত ঔষধি গাছ, যা সৌন্দর্যচর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যের যত্ন- সব ক্ষেত্রেই সমানভাবে কার্যকর। বর্তমানে অনেকেই ঘরের বারান্দা কিংবা ছাদে টবের মধ্যে এলোভেরা চাষ করেন।

এলোভেরা গাছ দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি অল্প যত্নেই বেড়ে ওঠে। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে বারান্দায় রাখা এলোভেরা গাছ থাকবে সবুজ, সতেজ ও সুস্থ।
আলো ও স্থান নির্বাচন
প্রথমেই আসা যাক আলো ও স্থান নির্বাচনের বিষয়টিতে। এলোভেরা গাছ রোদ পছন্দ করে, তাই বারান্দার এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে প্রতিদিন অন্তত ৪-৬ ঘণ্টা সূর্যের আলো পড়ে। তবে সাবধান অতিরিক্ত রোদে সরাসরি অনেকক্ষণ রাখলে পাতাগুলো শুকিয়ে যেতে পারে। তাই গরমের দুপুরে গাছটিকে একটু ছায়ায় সরিয়ে রাখা ভালো।
মাটি প্রস্তুতি
এরপর আসে মাটি প্রস্তুতির বিষয়টি। এলোভেরা এমন মাটিতে ভালো জন্মে যা পানি নিষ্কাশনে উপযুক্ত। অর্থাৎ, মাটি হতে হবে বেলে-দোআঁশ জাতীয়। টবের নিচে ছিদ্র রাখতে হবে যেন পানি জমে না থাকে। মাটি তৈরির সময় ৫০% বালি, ৩০% দোআঁশ মাটি ও ২০% জৈব সার (যেমন পচা গোবর বা কম্পোস্ট) মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে গাছটি দ্রুত বেড়ে উঠবে।
সেচ বা পানি দেওয়া
সেচ বা পানি দেওয়া এলোভেরা যত্নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই গাছ খুব বেশি পানি সহ্য করতে পারে না। টবের মাটি যখন একেবারে শুকিয়ে যাবে তখনই পানি দিতে হবে। সাধারণত গ্রীষ্মে সপ্তাহে ২ বার এবং শীতে সপ্তাহে ১ বার পানি যথেষ্ট। অতিরিক্ত পানি দিলে শিকড় পচে যেতে পারে, যা গাছের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
পাতা পরিষ্কার রাখা ও ছাঁটাই করা
এলোভেরার পাতা পরিষ্কার রাখা ও ছাঁটাই করাও জরুরি। শুকনো বা হলুদ হয়ে যাওয়া পাতা নিয়মিত কেটে ফেলতে হবে। এতে গাছ নতুন কুঁড়ি বের করতে পারে এবং দেখতে সুন্দর লাগে। পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে প্রতি দুই সপ্তাহে একবার গাছের পাতা ভেজা কাপড়ে মুছে দিতে পারেন।
সার প্রয়োগ
সার প্রয়োগ গাছের বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। প্রতি দুই মাস অন্তর সামান্য পরিমাণ জৈব সার বা তরল কম্পোস্ট ব্যবহার করলে গাছের পাতা মোটা ও রসালো হয়। তবে রাসায়নিক সার ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ এতে গাছের প্রাকৃতিক গুণ নষ্ট হতে পারে।
শীত ও বর্ষায় যত্ন
আর একটি বিষয় হলো শীত ও বর্ষার যত্ন। বর্ষায় টবের পানি যেনো জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আবার শীতে গাছকে ঠান্ডা বাতাস এবং কুয়াশা থেকে রক্ষা করার জন্য রাতে ঘরের ভেতর এনে রাখা যেতে পারে।
তাই বলা যায়, এলোভেরা গাছের যত্ন নিলে শুধু আপনার বারান্দাই সবুজ হয়ে উঠবে না, বরং আপনি পাবেন একটি প্রাকৃতিক ওষুধের উৎস। এর পাতা থেকে পাওয়া জেল ত্বক এবং চুলের যত্নে অসাধারণ কাজ করে। তাই অল্প যত্নে বারান্দায় একটি এলোভেরা গাছ রাখতে পারলে তা হবে সৌন্দর্য এবং স্বাস্থ্যের এক অনন্য সংযোজন।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org