The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ল্যাপটপ কেনার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা দরকার

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বর্তমান ডিজিটাল যুগে ল্যাপটপ শুধু পড়াশোনা বা অফিসের কাজেই নয়, বিনোদন, ডিজাইন, প্রোগ্রামিং এমনকি অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রেও অপরিহার্য একটি যন্ত্র।

ল্যাপটপ কেনার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা দরকার 1

তবে সঠিকভাবে না দেখে ল্যাপটপ কিনলে পরে নানা সমস্যায় পড়তে হয় যেমন- ধীরগতি, কম ব্যাটারি ব্যাকআপ বা প্রয়োজন অনুযায়ী পারফরম্যান্স না পাওয়া। তাই ল্যাপটপ কেনার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রথমেই কি কাজে ব্যবহার করবেন সেটি নির্ধারণ করুন

# প্রথমেই ভাবুন আপনি ল্যাপটপটি কী কাজে ব্যবহার করবেন।

# শুধুমাত্র পড়াশোনা বা অফিসের কাজের জন্য হলে মাঝারি মানের প্রসেসর ও র‍্যাম যথেষ্ট।

# গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং বা গেমিংয়ের জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রসেসর (Core i7 বা Ryzen 7) এবং Dedicated Graphics Card থাকা দরকার।

# সঠিক ব্যবহার নির্ধারণ করলে বাজেট ও স্পেসিফিকেশন ঠিক করা সহজ হয়।

প্রসেসর

ল্যাপটপের “মস্তিষ্ক” হলো প্রসেসর। ইন্টেল বা এএমডি- দুই ধরনের ব্র্যান্ডই ভালো। সাধারণ কাজের জন্য Core i3 বা Ryzen 3 যথেষ্ট, তবে ভারী কাজের জন্য Core i5/i7 বা Ryzen 5/7 বেছে নেওয়া ভালো।

র‍্যাম

র‍্যাম যত বেশি, ল্যাপটপ তত দ্রুত একাধিক অ্যাপ একসঙ্গে চালাতে পারে। ন্যূনতম ৮ জিবি র‍্যাম থাকা উচিত। গ্রাফিক্স বা ভিডিও এডিটিংয়ের জন্য ১৬ জিবি বা তার বেশি র‍্যাম প্রয়োজন হতে পারে।

স্টোরেজ

হার্ডড্রাইভ (HDD) ও সলিড স্টেট ড্রাইভ (SSD) – দুটি ধরন আছে। HDD সস্তা কিন্তু ধীর, আর SSD দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য। কমপক্ষে ২৫৬ জিবি SSD থাকলে ল্যাপটপ দ্রুত চালু হয় এবং ফাইল লোডিং সময় কমে যায়।

ব্যাটারি ব্যাকআপ

যাদের বাইরে কাজ করতে হয়, তাদের জন্য ব্যাটারির স্থায়িত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অন্তত ৬ ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ আছে এমন মডেল বেছে নিন।

ডিসপ্লে ও রেজোলিউশন

চোখের আরাম ও কাজের মান নির্ভর করে স্ক্রিনের গুণমানে। ১৪ বা ১৫.৬ ইঞ্চি ফুল এইচডি (1920×1080) ডিসপ্লে সাধারণ ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত। ডিজাইনারদের জন্য IPS প্যানেল বেছে নেওয়া ভালো।

পোর্ট ও সংযোগ সুবিধা

USB 3.0, HDMI, Wi-Fi 6, Bluetooth ইত্যাদি ফিচার আছে কিনা দেখুন। নতুন ল্যাপটপে Type-C পোর্ট থাকলে ডেটা ট্রান্সফার ও চার্জিং সুবিধা বাড়ে।

ব্র্যান্ড ও ওয়ারেন্টি

বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড যেমন Dell, HP, Lenovo, Asus বা Acer থেকে কেনা নিরাপদ। অন্তত এক বছরের ওয়ারেন্টি ও সার্ভিস সেন্টারের অবস্থান যাচাই করে নিন।

ল্যাপটপ কেনা কেবল দামের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক স্পেসিফিকেশন বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। প্রসেসর, র‍্যাম, স্টোরেজ, ব্যাটারি ও ডিসপ্লের মান যাচাই করে, নির্ভরযোগ্য বিক্রেতা থেকে কেনা ল্যাপটপই আপনাকে দীর্ঘদিন নির্বিঘ্ন ব্যবহার উপহার দেবে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali