The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ল্যাপটপ কেনার সময় খেয়াল রাখার বিষয়: বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও জনপ্রিয় মডেল তুলনা

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আজকের ডিজিটাল যুগে ল্যাপটপ কেবলমাত্র অফিস বা শিক্ষা নয়, বরং বিনোদন, ক্রিয়েটিভ কাজ এবং অনলাইন শপিং বা ভিডিও স্ট্রিমিং-এর জন্যও অপরিহার্য।

ল্যাপটপ কেনার সময় খেয়াল রাখার বিষয়: বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও জনপ্রিয় মডেল তুলনা 1

বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের ল্যাপটপ থাকায় সঠিকটি বেছে নেওয়া অনেকের জন্য জটিল হয়ে ওঠে। পুষ্টিবিদ নয়, তবে প্রযুক্তিবিদদের মতে ল্যাপটপ কেনার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে দীর্ঘমেয়াদে খরচ ও সমস্যার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

প্রসেসর (CPU)

প্রসেসর হলো ল্যাপটপের “মস্তিষ্ক”, যা বিভিন্ন কাজের গতি নির্ধারণ করে। ইন্টেল (Intel) বা এএমডি (AMD)-এর লেটেস্ট প্রসেসর ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাচন করা উচিৎ। সাধারণ ব্যবহার যেমন ওয়েব ব্রাউজিং, ইমেইল বা ভিডিও স্ট্রিমিং-এর জন্য মাঝারি ক্ষমতার প্রসেসর যথেষ্ট, কিন্তু ভিডিও এডিটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন বা গেমিং-এর জন্য উচ্চ ক্ষমতার প্রসেসর প্রয়োজন।

র‍্যাম (RAM)

র‍্যাম ল্যাপটপের মাল্টিটাস্কিং ক্ষমতা নির্ধারণ করে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ৮ জিবি যথেষ্ট, তবে ভারী সফটওয়্যার চালাতে হলে ১৬ জিবি বা তার বেশি র‍্যাম থাকা ভালো। কম র‍্যাম থাকলে ল্যাপটপ ধীরগতির হয়ে যেতে পারে।

স্টোরেজ

স্টোরেজের ধরন ও পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ। SSD (Solid State Drive) দ্রুত চালু হয় এবং ফাইল ট্রান্সফার দ্রুত হয়। HDD তুলনামূলক সস্তা হলেও ধীর। কমপক্ষে ২৫৬ জিবি SSD ব্যবহারকারীদের জন্য যথেষ্ট, কিন্তু বড় ফাইল বা গেম রাখার জন্য ৫১২ জিবি বা ১ টেরাবাইটের SSD/SSD+HDD কম্বিনেশন বেশি সুবিধাজনক।

ডিসপ্লে ও স্ক্রিন রেজোলিউশন

স্ক্রিনের সাইজ ও রেজোলিউশন ব্যবহারকারীর কাজের ধরন অনুযায়ী নির্বাচন করা উচিৎ। সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ১৩–১৫ ইঞ্চি স্ক্রিন যথেষ্ট। গ্রাফিক্স ডিজাইন বা ভিডিও এডিটিং-এর জন্য ফুলি এইচডি (Full HD) বা ৪কে (4K) রেজোলিউশন ভালো।

ব্যাটারি লাইফ

ব্যাটারি দীর্ঘ সময় চলবে এমন ল্যাপটপ নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। কমপক্ষে ৬–৮ ঘণ্টার ব্যাটারি ল্যাপটপ ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধাজনক। যারা বাইরে কাজ করেন, তাদের জন্য আরও দীর্ঘ ব্যাটারি প্রয়োজন।

ব্র্যান্ড, সার্ভিস ও গ্যারান্টি

ব্র্যান্ডের সার্ভিস সেন্টারের উপস্থিতি, গ্যারান্টি মেয়াদ ও ওয়ারেন্টি নীতি যাচাই করা উচিৎ। ল্যাপটপের ওজন, কীবোর্ড আরাম, পোর্টের সংখ্যা ও ধরনও গুরুত্বপূর্ণ।

বাজেট ও প্রয়োজনের সমন্বয়

সঠিক ল্যাপটপ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাজেট ও প্রয়োজনের মিল থাকা জরুরি। সস্তা ল্যাপটপ অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদে ব্যর্থ হয়, আবার ব্যয়বহুল ল্যাপটপ সব ব্যবহারকারীর জন্য প্রয়োজনীয় নাও হতে পারে।

জনপ্রিয় মডেলের তুলনা (সংক্ষেপে)

Dell XPS 13: উচ্চমানের বিল্ড, ভালো ব্যাটারি, গ্রাফিক্স এবং প্রসেসর শক্তিশালী; দাম কিছুটা বেশি।

MacBook Air M2: লাইটওয়েট, দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ, ক্রিয়েটিভ কাজের জন্য ভালো; MacOS ব্যবহার করতে ইচ্ছুকদের জন্য উপযুক্ত।

HP Spectre x360: টাচস্ক্রিন, রূপান্তরযোগ্য ল্যাপটপ, প্রফেশনাল ও শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী।

Lenovo ThinkPad X1 Carbon: ব্যাটারি ভালো, ওজন হালকা, ব্যবসায়িক ও অফিস ব্যবহারে সুবিধাজনক।

Acer Aspire 5: বাজেট বন্ধুত্বপূর্ণ, প্রাথমিক কাজের জন্য যথেষ্ট, কিন্তু উচ্চ গ্রাফিক্স বা গেমিংয়ে সীমাবদ্ধ।

ল্যাপটপ কেনার সময় প্রসেসর, র‍্যাম, স্টোরেজ, স্ক্রিন, ব্যাটারি, ব্র্যান্ড ও বাজেট- এই সব বিষয় বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক মডেল বাছাই করলে ল্যাপটপ দীর্ঘদিন কার্যকর ও ঝুঁকিমুক্তভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali