দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সবুজ শাকসবজির মধ্যে পালং শাক পুষ্টিগুণে ভরপুর ও সহজলভ্য একটি খাদ্য। প্রতিদিনের খাবার তালিকায় পালং শাক রাখলে শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

পালং শাকে থাকা নানা ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জন্য উপকারী।
পালং শাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন–এ, ভিটামিন–সি ও ভিটামিন–কে রয়েছে। ভিটামিন–এ চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। ভিটামিন–সি শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। অন্যদিকে ভিটামিন–কে রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়ক এবং হাড়ের গঠন মজবুত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই শাকে রয়েছে আয়রণ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ। আয়রন রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে সহায়ক, বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের জন্য পালং শাক খুবই উপকারী। ক্যালসিয়াম হাড় ও দাঁত শক্তিশালী করে, আর ম্যাগনেশিয়াম স্নায়ু ও পেশির কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
পালং শাকে প্রচুর আঁশ বা ফাইবার থাকায় এটি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে। নিয়মিত পালং শাক খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে এবং অন্ত্র পরিষ্কার থাকে। পাশাপাশি এটি ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক, কারণ এতে ক্যালরি কম কিন্তু পুষ্টি বেশি। যারা ওজন কমাতে চান, তাদের খাদ্যতালিকায় পালং শাক রাখা যেতে পারে।
এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন বিটা-ক্যারোটিন ও লুটেইন শরীরকে ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। ফলে ত্বক ভালো থাকে, বার্ধক্যের প্রভাব ধীর হয় এবং ক্যানসারের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। এছাড়া লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিন চোখের রেটিনাকে সুরক্ষা দেয়।
পালং শাক হৃদযন্ত্রের জন্যও উপকারী। এতে থাকা নাইট্রেট রক্তনালি প্রসারিত করে, রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে এবং হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এটি ভালো খাবার, কারণ এতে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক উপাদান রয়েছে।
পালং শাক একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ শাক যা শিশু থেকে বয়স্ক- সবার জন্য উপকারী। সঠিকভাবে ধুয়ে এবং পরিমিত রান্না করে নিয়মিত পালং শাক খেলে শরীর সুস্থ, শক্তিশালী ও রোগমুক্ত রাখা সম্ভব।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org