The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

শীতের রাতেও ঘুমের মধ্যে ঘেমে যাওয়া কোন রোগের লক্ষণ?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শীতকালে সাধারণত শরীর ঘামার কথা নয়। বরং ঠাণ্ডার কারণে শরীর শুষ্ক থাকে এবং কম ঘাম হয়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়- শীতের রাতেও কেও কেও ঘুমের মধ্যে অতিরিক্ত ঘেমে যাচ্ছেন।

শীতের রাতেও ঘুমের মধ্যে ঘেমে যাওয়া কোন রোগের লক্ষণ? 1

এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে নাইট সুয়েটস বলা হয়। এটি কোনো সাময়িক সমস্যা হতে পারে, আবার কখনও কখনও গুরুতর রোগের পূর্বলক্ষণও হতে পারে।

শীতের রাতে ঘেমে যাওয়ার অন্যতম সাধারণ কারণ হলো হরমোনের ভারসাম্যহীনতা। বিশেষ করে থাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত সক্রিয় হলে (হাইপারথাইরয়েডিজম) শরীরের বিপাকক্রিয়া বেড়ে যায়। যে কারণে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং ঠাণ্ডার মধ্যেও ঘাম হতে থাকে। নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজ বা হরমোনজনিত পরিবর্তনের সময় রাতের ঘাম খুবই সাধারণ একটি উপসর্গ।

সংক্রমণজনিত রোগ শীতের রাতে ঘামার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। যক্ষ্মা (টিবি) রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে রাতের বেলা অতিরিক্ত ঘাম হওয়া একটি পরিচিত লক্ষণ। এ ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদি ব্যাকটেরিয়াল কিংবা ভাইরাল সংক্রমণ, যেমন এন্ডোকার্ডাইটিস কিংবা এইচআইভি সংক্রমণেও এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্যান্সার, বিশেষ করে লিম্ফোমা বা লিউকেমিয়ার মতো রক্তজনিত ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবেও রাতের ঘাম দেখা যায়। এই ধরনের ঘামের সঙ্গে সাধারণত ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘদিন জ্বর থাকা বা অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো উপসর্গ যুক্ত থাকে।

আবার ডায়াবেটিস রোগীরাও শীতের রাতে ঘামতে পারেন। রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে গেলে, বিশেষ করে রাতে, শরীর সতর্ক সংকেত হিসেবে ঘাম সৃষ্টি করে। যারা ইনসুলিন বা কিছু নির্দিষ্ট ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবন করেন, তাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

এ ছাড়াও মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং ঘুমের সমস্যা রাতের ঘামের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা প্যানিক অ্যাটাকের কারণে স্নায়ুতন্ত্র উত্তেজিত হয়ে শরীরকে ঘামাতে পারে। কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও নাইট সুয়েটস দেখা যায়।

সব সময় যে শীতের রাতে ঘেমে যাওয়া মারাত্মক রোগের লক্ষণ হবে, তা অবশ্য নয়। কখনও ভারী কম্বল, গরম পোশাক বা ঘরের তাপমাত্রা বেশি থাকলেও এমনটা হতে পারে। তবে যদি নিয়মিতভাবে, কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই রাতের ঘাম হয় এবং এরসঙ্গে ওজন কমা, জ্বর বা দুর্বলতার মতো উপসর্গ যুক্ত থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শীতের রাতেও ঘুমের মধ্যে ঘেমে যাওয়া শরীরের একটি সতর্ক সংকেতও হতে পারে। বিষয়টি অবহেলা না করে কারণ অনুসন্ধান করাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali