The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

কতোটুকু পানি খেলে কিডনির সমস্যা হবে না

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কিডনি মানবদেহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। রক্ত পরিশোধন, শরীরের বর্জ্য ও অতিরিক্ত তরল বের করে দেওয়া, ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা-সবকিছুতেই কিডনির ভূমিকা অপরিসীম।

কতোটুকু পানি খেলে কিডনির সমস্যা হবে না 1

এই কিডনিকে সুস্থ রাখতে পানির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু প্রশ্ন হলো- প্রতিদিন ঠিক কতটা পানি খেলে কিডনি সুস্থ থাকবে এবং কোনো সমস্যা তৈরি হবে না?

চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য সাধারণভাবে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ লিটার পানি (প্রায় ৮–১২ গ্লাস) পান করা নিরাপদ ও উপকারী। এই পরিমাণ পানি কিডনিকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করে এবং প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীরের বর্জ্য সহজে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পানি না খেলে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যে কারণে কিডনিতে পাথর, সংক্রমণ বা দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

তবে সবার জন্য পানির প্রয়োজন একরকম নয়। বয়স, ওজন, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্যের অবস্থা অনুযায়ী পানির চাহিদা কম–বেশি হতে পারে। গরম আবহাওয়ায় বা যারা বেশি ঘামেন, তাদের পানির চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেশি হয়। আবার যারা শারীরিক পরিশ্রম কম করেন, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পানি খাওয়াও প্রয়োজন নেই।

কিডনি সুস্থ রাখার একটি সহজ নির্দেশক হলো প্রস্রাবের রঙ। যদি প্রস্রাব হালকা হলুদ বা প্রায় স্বচ্ছ হয়, তাহলে বুঝতে হবে শরীরে পানির ঘাটতি নেই। গাঢ় হলুদ প্রস্রাব পানিশূন্যতার ইঙ্গিত দেয়, যা কিডনির জন্য ক্ষতিকর। আবার একেবারে স্বচ্ছ প্রস্রাব বারবার হলে তা অতিরিক্ত পানি খাওয়ার লক্ষণও হতে পারে।

অনেকেই মনে করেন, যত বেশি পানি খাওয়া যাবে ততই ভালো। কিন্তু বাস্তবে অতিরিক্ত পানি খাওয়াও ক্ষতিকরও হতে পারে। খুব বেশি পানি পান করলে শরীরের সোডিয়ামের মাত্রা কমে গিয়ে হাইপোন্যাট্রেমিয়া নামক সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা কিডনি এবং স্নায়ুতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।

যাদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা আছে, যেমন ক্রনিক কিডনি ডিজিজ বা হার্ট ফেইলিউর— তাদের ক্ষেত্রে পানির পরিমাণ অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত। এসব রোগীর জন্য অতিরিক্ত পানি কখনো কখনো মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

শুধু পানিই নয়, পানীয়ের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত সফট ড্রিংকস, কোল্ড ড্রিংক বা অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশুদ্ধ পানি, ডাবের পানি বা হালকা তরলই সবচেয়ে নিরাপদ।

সবশেষে বলা যায়, কিডনির সমস্যা এড়াতে নিয়ম মেনে, শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করাই সবচেয়ে উত্তম উপায়। না কম, না বেশি- মূলত পরিমিত পানি গ্রহণই কিডনি সুস্থ রাখার চাবিকাঠি।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali