দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ জ্বালানি তেলের খরচ বাঁচানোর পাশাপাশি পরিবেশসচেতনতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে ইলেকট্রিক বাইক (ই-বাইক) এবং ই-স্কুটারের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। আজ রয়েছে এইসব বাইকের ৩য় পর্ব।

সিনট্যাক্স রায়ো
সিনট্যাক্স রায়ো মডেলের স্কুটারটিতে ১.২ কিলোওয়াট মোটরের সঙ্গে ৭২ ভোল্টের গ্রাফিন ব্যাটারি থাকার কারণে একবার পূর্ণ চার্জে সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। সামনে টেলিস্কোপিক ও পেছনে ডুয়াল অ্যাডজাস্টেবল সাসপেনশন–সুবিধার স্কুটারটিতে ২৫৩ কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করা যাবে। দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা।
ইয়াদিয়া এম৬
ইয়াদিয়া এম৬ ই-স্কুটারটিতে ১ হাজার ২০০ ওয়াটের টিটিএফএআর মোটর এবং ৭২ ভোল্ট ২৬ অ্যাম্পিয়ারের গ্রাফিন ব্যাটারি রয়েছে। এই ই-স্কুটারটির সর্বোচ্চ গতি ৪৫ কিলোমিটার ও রেঞ্জ ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার। কি-লেস স্টার্ট ফিচারের কারণে এটি আধুনিক গ্রাহকদের কাছে অনেক জনপ্রিয়। এর দাম ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
তাকিওন লিও ২৫টি১
ওয়ালটনের তাকিওন লিও ২৫টি১ মডেলের ই-বাইকটিতে রয়েছে গ্রাফিন লেড অ্যাসিড ব্যাটারি, যা সাধারণ ব্যাটারির চেয়ে অনেক বেশি টেকসই। ৬০ ভোল্টের সিস্টেম ও ৮০০ ওয়াটের ব্রাশলেস ডিসি মোটরযুক্ত ই-বাইকটির সামনে ডিস্ক ও পেছনে ড্রাম ব্রেক সিস্টেম রয়েছে। একবার পূর্ণ চার্জে ৩৫ কিলোমিটার গতিতে সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার পথ চলতে সক্ষম এই ই-বাইকটির দাম ১ লাখ ২৯ হাজার ৫০০ টাকা।
তাকিওন ১.০০
ওয়ালটনের তাকিওন ১.০০ (২৬ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার) ই-বাইকটি অনেক শক্তিশালী। এটিতে ১.২ কিলোওয়াট রেটেড পাওয়ারের ডিসি ব্রাশলেস মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার গতিতে পথ চলতে সক্ষম এই ই-বাইকটিতে ১ হাজার ৮৭২ ওয়াট-আওয়ারের গ্রাফিন ব্যাটারি রয়েছে। একবার পূর্ণ চার্জ দিলে সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার পথ চলতে সক্ষম এই ই-বাইকটিতে ১৮০ কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করা যাবে। এলসিডি স্পিডোমিটার এবং ডুয়াল ডিস্ক ব্রেকযুক্ত ই-বাইকটির দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৫০০ টাকা।
টেলজি ফনিক্স এফ৭৩
টেলজি ফনিক্স মডেলের এই স্কুটারটিতে ২ হাজার ওয়াটের মোটর ও ৭২ ভোল্ট–৩৮ অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি রয়েছে। যে কারণে একবার পূর্ণ চার্জে সর্বোচ্চ ৭৫ কিলোমিটার গতিতে ১০০ হতে ১১০ কিলোমিটার পথ চলতে পারে। ডিস্ক সিবিএস ব্রেকযুক্ত এই স্কুটারটির দাম ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৯০ টাকা।
টেলজি লিওপার্ড এফ৭২
দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য টেলজি লেপার্ড এফ৭২ একটি উপযুক্ত স্কুটার বলায় যায়। ৯৬ ভোল্ট ৫২ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির এই স্কুটারটি একবার পূর্ণ চার্জে ১৮০ কিলোমিটার পথ চলতে সক্ষম। ৩ হাজার ওয়াটের শক্তিশালী মোটর থাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭০ কিলোমিটার গতিতে পথ চলা যাবে। সিবিএস ব্রেকিং সিস্টেম এবং টিউবলেস টায়ারযুক্ত স্কুটারটির দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৯৯০ টাকা।
রিভো ই৫২
পাওয়ারফুল পারফরম্যান্সের জন্য রিভো ই৫২ একটি আদর্শ ই-স্কুটার তা বলা যায়। ৩ হাজার ওয়াটের মোটর ও ৯৬ ভোল্টের ব্যাটারিযুক্ত এই স্কুটারটি ঘণ্টায় ৭৭ কিলোমিটার গতিতে ১৩০ হতে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম। সিবিএস–যুক্ত ডুয়াল ডিস্ক ব্রেক এবং উন্নত কন্ট্রোলারযুক্ত স্কুটারটির দাম ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৯০০ টাকা। (শেষ পর্ব)
কোথায় পাবেন এইসব বাইক
বাংলাদেশে ইলেকট্রিক স্কুটার ও ই-বাইক কেনার জন্য এখন আর বেগ পেতে হয় না। ওয়ালটন, আকিজ মটরস, রানার (ইয়াদিয়া), টেইলজির মতো শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর নিজস্ব শোরুম এখন ঢাকাসহ সারাদেশের বিভাগীয় শহরগুলোয় ছড়িয়ে রয়েছে। ঢাকার তেজগাঁও, মিরপুর, রামপুরা এবং বংশাল এলাকা ই-বাইকের প্রধান হাব হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়াও রিভো এবং ইভেকোর মতো ব্র্যান্ড তাদের ডিলার নেটওয়ার্ক ও অনলাইন শপের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org