দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সম্প্রতি জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী জেনিফার উইংগেটকে ঘিরে নতুন গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ৪১ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন।

শুধু তাই নয় সিঙ্গাপুরভিত্তিক ব্যবসায়ী ইশমায়েল উইলিয়ামের সঙ্গে তাঁর বাগ্দানও সম্পন্ন হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে জেনিফারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে বলা হয়, অভিনেত্রী জেনিফার এবং ইশমায়েল বেশ কিছুদিন ধরেই সম্পর্কে রয়েছেন। দীর্ঘদিনের এই সম্পর্ককে তারা এবার নতুন নাম দিতে চান। ওই সূত্রের দাবি, বর্তমানে দু’জনই খুব সুখী সম্পর্কে রয়েছেন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে একসঙ্গে পরিকল্পনাও করছেন। জানা যায়, এক ছুটির সফরে ইশমায়েল জেনিফারকে বিয়ের প্রস্তাবও দেন।
অভিনেত্রীও সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছেন। তারপর থেকেই তারা বিয়ের পরিকল্পনা শুরু করেছেন। এমনকি জেনিফার নাকি বিয়ের প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছেন ইতিমধ্যেই। সম্ভাব্য ভেন্ডর নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইতিমধ্যেই খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছেন তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যায়, এই জুটি খ্রিষ্টান ধর্মীয় রীতি মেনেই বিয়ে করতে চান। যদিও বিয়ের তারিখ এবং স্থান এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসকে প্রাথমিকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা যায়। তবে ওই সময় আয়োজন সম্ভব না হলে ডিসেম্বর বা পরের বছরের জানুয়ারিতে বিয়ের অনুষ্ঠান হতে পারে।
বর্তমানে উপযুক্ত বিয়ের স্থানের খোঁজ করছেন জেনিফার ও ইশমায়েল। তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হারলিন শেঠি এবং জেনেলিয়া দেশমুখও বিয়ের পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত রয়েছেন বলে জানা যায়।
জানা যায়, ইশমায়েল উইলিয়াম সিঙ্গাপুরভিত্তিক একজন ব্যবসায়ী। তিনি বিনোদনজগতের সঙ্গে মোটেও যুক্ত নন। অর্থনৈতিক খাতে কাজ করেন ও ডিজিটাল অ্যাসেটস, প্রশিক্ষণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা (ফরেন এক্সচেঞ্জ) বাজারেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিনি প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতেই বেশি পছন্দ করেন।
উল্লেখ্য, জেনিফার দীর্ঘদিন ধরে নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে আলোচনার বাইরে রাখার চেষ্টা করেছেন। ইতিপূর্বে ২০১২ সালের এপ্রিলে অভিনেতা করণ সিং গ্রোভারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তবে সেই সম্পর্ক খুব বেশিদিন টেকেনি। দুই বছর পর তাদের বিচ্ছেদ ঘটে ও ২০১৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org