The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

এআই এজেন্টের নতুন যুগ: কেবল চ্যাটবট নয়- এখন নিজেরাই কাজ সম্পন্ন করছে

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ গত কয়েক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ছিল মানুষের প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম চ্যাটবটের আবির্ভাব।

এআই এজেন্টের নতুন যুগ: কেবল চ্যাটবট নয়- এখন নিজেরাই কাজ সম্পন্ন করছে 1

তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘এআই এজেন্ট’। সাধারণ চ্যাটবট যেখানে ব্যবহারকারীর নির্দেশের ভিত্তিতে উত্তর দেয়, সেখানে এআই এজেন্ট একাধিক ধাপে পরিকল্পনা করে নিজেই বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে পারে। ফলে এটি ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এআই এজেন্টের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একজন ব্যবহারকারী যদি একটি বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে চান, তাহলে এআই এজেন্ট বিমানের টিকিট খোঁজা, হোটেলের তথ্য সংগ্রহ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখা, সম্ভাব্য বাজেট তৈরি এবং ভ্রমণসূচি সাজানোর মতো একাধিক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারে।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে এ ধরনের এআই এজেন্ট তৈরিতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। সফটওয়্যার উন্নয়ন, গ্রাহকসেবা, বিপণন, গবেষণা এবং তথ্য বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই এজেন্ট ব্যবহার শুরু হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে এটি কর্মীদের সময় বাঁচানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীলতাও বাড়াচ্ছে।

তবে এই প্রযুক্তি নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই এজেন্ট যদি ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আর্থিক বা প্রশাসনিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এ ছাড়াও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং মানব তত্ত্বাবধানকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন নতুন ব্যবস্থা যুক্ত করছে।

বাংলাদেশেও বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও স্টার্টআপ এআইভিত্তিক সেবা উন্নয়নে আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং, ই-কমার্স, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে এআই এজেন্টের ব্যবহার ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। তবে এ জন্য দক্ষ জনবল তৈরি এবং উপযুক্ত নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এআই এজেন্ট ব্যক্তিগত সহকারী হতে শুরু করে ব্যবসা পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে। এটি যেমন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে, তেমনি কিছু প্রচলিত কাজের ধরনও বদলে দেবে। ফলে প্রযুক্তির এই নতুন ধারা সম্পর্কে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali