The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

অভিনয়ের জড়তা কাটাতে গিয়ে ‘গালাগালি’ করতেন দীপিকা

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বলিউড নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বনশালির ‘রাম লীলা’ সিনেমায় দীপিকা পাড়ুকোনের অভিনয় এখনও দর্শকদের কাছে প্রশংসিত।

অভিনয়ের জড়তা কাটাতে গিয়ে ‘গালাগালি’ করতেন দীপিকা 1

তবে এই চরিত্রে নিজেকে নিখুঁতভাবে তুলে ধরতে যে কঠিন প্রস্তুতির মধ্যদিয়ে যেতে হয়েছিল অভিনেত্রীকে, সেই গল্প এতদিন অনেকেরই অজানাই ছিল।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যায়, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন প্রবীণ অভিনেত্রী জয়তী ভাটিয়া।

জয়তী জানিয়েছেন, ‘রাম লীলা’ সিনেমার প্রস্তুতি পর্বে বনশালির টিমের পক্ষ হতে দীপিকাকে চরিত্রের জন্য প্রস্তুত করার দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। সেই সময় দীপিকার জড়তা কাটিয়ে চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম করতে একটি ভিন্নধর্মী অনুশীলনের ব্যবস্থা করেন তিনি।

জয়তীর ভাষ্য, বনশালির অফিসের একটি বারান্দার নিচেই একজন খাবার বিক্রেতা বসতেন। তিনি দীপিকাকে ওই বারান্দায় দাঁড়িয়ে জোরে জোরে গালিগালাজ করতে বলেছিলেন, যেনো নিচে থাকা কাওকে উদ্দেশ্য করেই কথাগুলো বলা হচ্ছে।

এই বিষয়ে জয়তী বলেন, ‘আমি ওকে বলেছিলাম, আজ তোমার কাজই হলো বারান্দায় দাঁড়িয়ে প্রাণ খুলে গালিগালাজ করা। নিচে কে রয়েছে, সেটি তুমি ভাববে না। এমনভাবে চিৎকার করবে, যেনো সত্যিই কাওকে উদ্দেশ্য করে বলছো।’

তবে দীপিকার প্রতিক্রিয়া তাকে বিস্মিত করে। জয়তীর দাবি, চিত্রনাট্যে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় থামার কথা থাকলেও দীপিকা চরিত্রের মধ্যে এততোটাই ডুবে গিয়েছিলেন যে, নিজের মতো করে আরও নানা সংলাপ এবং গালিগালাজ বলতে শুরু করে দেন।

তিনি আরও বলেন, ‘ও বারান্দার দরজা খুলেই শুরু করে দিলো। আমি যেখানে থামতে বলেছিলাম, সেখানেও সে থামেনি। এমন কিছু গালিগালাজ বললো, যা আমি আগে কখনও শুনিনি। আমি সত্যিই অবাক হয়ে গেলাম।’

জয়তীর মতে, তখন দীপিকা ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত একজন তারকা। এরপরও প্রকাশ্য জায়গায় দাঁড়িয়ে এমন একটি অনুশীলন করতে তার মধ্যে কোনো দ্বিধা কিংবা সংকোচই ছিল না। কে দেখছে কিংবা কে কী ভাবছে, তা না ভেবেই চরিত্রকে বাস্তব করে তুলতেই মনোযোগী ছিলেন দীপিকা।

জয়তীর ভাষায়, একজন অভিনেত্রীর কাজের প্রতি এমন নিবেদন খুব কমই দেখতে পাওয়া যায়। সেই নিষ্ঠার প্রতিফলনই দর্শক পেয়েছেন ‘রাম লীলা’ সিনেমায় দীপিকা পাড়ুকোনের অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali